মঙ্গলবার| এপ্রিল ০৭, ২০২০| ২২চৈত্র১৪২৬

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

সমালোচনার মুখে ঋণ বিতরণকারী ব্রিটিশ ব্যাংকগুলো

সরকারি প্যাকেজে পারসোনাল গ্যারান্টি

বণিক বার্তা ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনা দিতে ব্রিটিশ সরকার করোনাভাইরাস বিজনেস ইন্টারাপশন লোনস (সিবিআইএল) প্যাকেজের মাধ্যমে জরুরি ঋণসহায়তার ব্যবস্থা করেছে। সরকারি সহায়তাপুষ্ট এসব ঋণ দেয়া হবে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে। আর ঋণ বিতরণে অন্যায্য কৌশলের আশ্রয় নেয়ায় সমালোচিত হচ্ছে ব্রিটিশ ব্যাংকগুলো। খবর বিবিসি।

অভিযোগ রয়েছে, ঋণ ইস্যুর সময় ব্যাংকগুলো ঋণগ্রহীতাদের পারসোনাল গ্যারান্টি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করছে। অর্থাত্ কোনো প্রতিষ্ঠান যদি ঋণ গ্রহণের পর ব্যবসায় লোকসান হয় এবং এর কারণে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তবে লোন ইস্যুয়ার ব্যাংক ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের ব্যক্তিগত সম্পদ দখলে নিতে পারবে। এতে ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকির বেশির ভাগই প্রতিষ্ঠানের মালিককে বহন করতে হবে, ব্যাংকগুলোকে নয়। অথচ সরকার ঋণসহায়তার ব্যবস্থা করেছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে চলমান সংকট থেকে সুরক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে। কিন্তু ব্যাংকগুলোর কৌশলের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো তো সুরক্ষিত থাকছেই না, বরং ঋণখেলাপি হওয়ার বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের ব্যাংকিং আর্থিক সেবা খাতের ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন ইউকে ফিন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, সিবিআইএল প্যাকেজের আওতায় একটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ পাউন্ড ঋণ দেয়া হবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণ গ্রহণের পর তা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে সরকার ৮০ শতাংশ দায় বহনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

কিন্তু এখানে একটি শর্ত রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি লাখ পাউন্ড ঋণ নিয়ে ব্যবসায় লোকসান করে এবং তারা যদি পারসোনাল গ্যারান্টি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, তবে ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক প্রথমে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের ব্যক্তিগত সম্পদ দখলে নেবে। এরপর যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ বাকি থাকে, সরকার তার ৮০ শতাংশের দায়িত্ব নেবে। আর বাকি ২০ শতাংশের দায় নেবে ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক।

এমনিতেই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে। এর ওপর সরকারের ঋণসহায়তা প্যাকেজে ব্যাংকগুলোর পারসোনাল গ্যারান্টির কৌশলে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। কারণেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্রিটিশ আইনসভার সদস্যরা ব্যাংকগুলোর কড়া সমালোচনা করেছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন