মঙ্গলবার| এপ্রিল ০৭, ২০২০| ২২চৈত্র১৪২৬

শিল্প বাণিজ্য

কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত

রডের দাম বেড়েছে টনে ৩ হাজার টাকা

ওমর ফারুক চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে আমদানি-রফতানি ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে ওঠানামা করছে বিভিন্ন পণ্যের বাজারও। থেকে বাদ যায়নি নির্মাণপণ্য রডও। গত এক সপ্তাহে টনে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে রডের দাম। করোনার প্রভাবে পণ্যটির কাঁচামাল স্ক্র্যাপ আমদানি কম হওয়ায় রডের বাজার ঊর্ধ্বমুখী বলে জানিয়েছেন খাতের ব্যবসায়ীরা।

দেশের ইস্পাতের চাহিদার বেশির ভাগ জোগান আসে চট্টগ্রাম থেকে। শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণকাজ শুরু হলেও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্মাণকাজ ভালো ছিল। বিশ্বব্যাপী করোনার প্রভাবে ফেব্রুয়ারির শেষ সময় থেকে নির্মাণকাজের গতি কমে যায়। সময় রডের উৎপাদন বিক্রি দুটোই কমে যায়। তবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়ায় কয়েকদিন ধরে পণ্যটির বাজার বাড়ছে।

চট্টগ্রামের বাজারে সাধারণ গ্রেড সেমি অটো এমএস রডের মধ্যে পেনিনসুলা, বলাকা, খলিল, মজিদ, ভাটিয়ারি, এসএল, এমএসআরএম (মানতি), আম্বিয়া ব্র্যান্ডের রডের চাহিদা বিক্রি বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে রডের বাজারে সাধারণ গ্রেডের রডের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। প্রতিদিন দফায় দফায় বেড়ে গত এক সপ্তাহে সাধারণ রডের দাম বেড়েছে মণে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। এক সপ্তাহ আগে মিলগেটে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রতি টন সাধারণ গ্রেডের (৪০০ ওয়াট) এমএস রড বিক্রি হয়েছে ৫১ থেকে ৫২ হাজার টাকায়। এর আগের সপ্তাহে একই মানের রড বিক্রি হতো ৪৮ থেকে সাড়ে ৪৯ হাজার টাকার মধ্যে। সেই হিসাবে এক সপ্তাহেই প্রতি টন সাধারণ গ্রেডের রডের দাম তিন হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

একই সময়ে সেমি অটো (৬০ গ্রেড বা ৫০০ ওয়াটের সিল থাকলেও যেসব রড সেমি অটো মিলে উৎপাদন হয়) রডের দাম টনে প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত সপ্তাহে বাজারে প্রতি টন সেমি অটো রড বিক্রি হয়েছে ৫৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫৫ হাজার টাকার মধ্যে, যা এক সপ্তাহ আগে ৫২ থেকে ৫৩ হাজার টাকায় বিক্রি হতো।

মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টরা জানান, রডের বাজার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সাধারণ মানের রডের দাম বেড়েছে বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘদিন ধরে রডের কাঁচামাল স্ক্র্যাপ বিলেটের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে করোনার প্রভাবে গত দুই মাসে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্যটির স্ক্র্যাপ আমদানি আগের চেয়ে কমে গেছে। কিন্তু একই সময়ে পণ্যটির চাহিদা স্বাভাবিক থাকায় পণ্যটির বাজার চাঙ্গা হয়েছে।

সাধারণ গ্রেডের রডের পাশাপাশি ৬০ গ্রেড (৫০০ ওয়াট) এমএস রডের বাজারও কিছুটা বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগ পর্যন্ত বাজারে ৬০ গ্রেডের রডের দাম ছিল টনপ্রতি ৫৭ থেকে ৫৯ হাজার টাকা। গত সপ্তাহে টনে প্রায় এক হাজার টাকা বেড়ে সপ্তাহে একই মানের রড বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ হাজার টাকার উপরে।

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ৬০ গ্রেডের বিএসআরএম রড ৫৯ থেকে ৬০ হাজার টাকা, কেএসআরএম ৫৮ হাজার টাকা, একেএস ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা, আরএসআরএম, জিপিএইচ অন্যান্য ব্র্যান্ডের প্রতি টন রড ৫৭ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চট্টগ্রামের পাইকারি রডের বাজার আছদগঞ্জের মেসার্স জামান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এসএম কামরুজ্জামান বলেন, মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে সাধারণ গ্রেডের রডের সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি মিলগুলোতে সংকটের কারণে গত কয়েকদিনে রডের দাম আরো বাড়ছে। সরবরাহ সংকটের সুযোগে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সিন্ডিকেট করে পণ্যটির দাম বৃদ্ধি করেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী।

সালেহ স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক ইকবাল বণিক বার্তাকে বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্ববাজারে নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে ইস্পাতের কাঁচামাল স্ক্র্যাপের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি কমেছে। এতে উৎপাদনও কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। ফলে কয়েকদিন ধরে সাধারণ গ্রেডের রডের দাম আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতে সব ধরনের নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়ায় রডের দাম বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন প্রবীণ ব্যবসায়ী।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন