সোমবার | জুন ০১, ২০২০ | ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

খেলা

করোনাভাইরাস: লড়াইয়ে ক্রীড়াঙ্গনের শীর্ষ তারকারা

বণিক বার্তা অনলাইন

লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোরা বছরজুড়ে লড়াই করেন ফুটবল মাঠে; রজার ফেদেরারদের যুদ্ধটা টেনিস কোর্টে র‌্যাকেট হাতে। আবার ক্রিকেটাররা ২২ গজে লড়েন ব্যাট-বল নিয়ে। বিভিন্ন ক্রীড়ার তারকারা আজ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছেন, প্রতিপক্ষ একটাই— করোনাভাইরাস। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সঙ্গে যখন গোটা দুনিয়া প্রাণপণ লড়াই করছে, তখন ঘরে বসে নেই অ্যাথলিটরা। তারাও এ লড়াইয়ে নিজেদের শামিল করেছেন। তাদের লড়াইটা অবশ্য একটু ভিন্ন। আর্থিক সাহায্য দিয়ে এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইকে বেগবান করছেন।

মেসি, রোনালদো, ফেদেরার খেলাধুলায় যেমন চ্যাম্পিয়ন তেমনি দানেও। বিশ্বের এই চরম সঙ্কটের মুহূর্তে তারা উদারহস্ত। বার্সেলোনার ‘হসপিটাল ক্লিনিক’ নামের ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ও নিজ দেশ আর্জেন্টিনার এক মেডিকেল সেন্টারে মোট ১০ লাখ ইউরো দান করেছেন ছয়বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি, বাংলাদেশী মুদ্রায় যা প্রায় ৯ কোটি ১৯ লাখ টাকার মতো।

ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে মেসির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদো তার পর্তুগিজ এজেন্ট হোর্হে মেন্দেসকে সঙ্গে নিয়ে নিজ দেশের তিনটি হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটকে (আইসিইউ) ১০ লাখ ইউরো সাহায্য দিয়েছেন। অনুদান পাওয়া অন্যতম পোর্তোয় এক হাসপাতাল জানিয়েছে, সেখানের আইসিইউ হবে রোনালদো ও মেন্দেসের নামে।

পুরুষদের টেনিস ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২০টি গ্র্যান্ডস্লামজয়ী রজার ফেদেরার দাতব্য কাজে সঙ্গে নিয়েছেন স্ত্রী মিরকাকে, মিরকাও বিয়ের আগে ছিলেন টেনিস খেলোয়াড়। এ দুজন মিলে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা) দিয়েছেন করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাহায্যার্থে।

ইতালির সীমান্তবর্তী দেশ সুইজারল্যান্ডে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ৮ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ৬৬ জন। দেশের সঙ্কটময় মুহূর্তে অর্থ সহায়তা দিলেন ফেদেরার। ইনস্টাগ্রামে এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘এটা প্রত্যেকের জন্যই কঠিন সময় এবং আশা করি কেউই কষ্টে থাকবে না। সুইজারল্যান্ডে সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আমি ও মিরকা ১০ লাখ ইউরো সুইস ফ্রাঁ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের এ দান সূচনামাত্র। আশা করি যেসব পরিবারের সাহায্যের প্রয়োজন তাদের পাশে আরো অনেকেই দাঁড়াবেন। ঐক্যবদ্ধভাবেই আমরা এ সঙ্কট মোকাবেলা করতে পারব। সুস্থ থাকুন।’

খেলোয়াড়দের মধ্যে অবশ্য সবার চেয়ে আগে বড় অংকের দান করেন বায়ার্ন মিউনিখ সুপারস্টার রবার্ট লেভানডভস্কি। স্ত্রী আন্নাকে নিয়ে তিনি ১০ লাখ ইউরো দানের ঘোষণা দেন গত ২১ মার্চ। ওই সময় তার দুই বায়ার্ন সতীর্থ লিওন গোরেৎজকা ও জসুয়া কিমিখ মিলে একটি দাতব্য তহবিল খোলেন, যাতে তারা দুজন ১০ লাখ ইউরো দেন।

ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলার দেশ স্পেন করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত। কঠিন এ সময়ে তিনি দেশের বিপদগ্রস্ত মানুষদের জন্য ১০ লাখ ইউরো দান করলেন। বর্তমানে বার্সেলোনায় নিজ বাড়িতে অবস্থান করা গার্দিওলা কীভাবে এই অর্থ সর্বোত্তম উপায়ে কাজে লাগানো যায় তা বের করতে গত কয়েকদিন ধরে তার আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। বার্সেলোনার মেডিকেল কলেজ ও অ্যাঞ্জেল সোলের ড্যানিয়েল ফাউন্ডেশনে এ অর্থ দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এ দুটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম কিনতে ব্যয় করা হবে গার্দিওলার দানকৃত অর্থ।

সূত্র: মার্কা, সিএনএন ও বিবিসি

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন