বৃহস্পতিবার| এপ্রিল ০২, ২০২০| ১৮চৈত্র১৪২৬

শেষ পাতা

অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক আঘাত হানতে পারে করোনা —অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেছেন, পুরো বিশ্ব সম্প্রদায় এখন একটি ক্রান্তিকাল পার করছে বাংলাদেশও এর প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছে সংকটটি আমাদের অর্থনীতিকে বহুমাত্রিক দিক থেকে আঘাত করতে পারে গতকাল বিশ্বব্যাংক আইএমএফের সদর দপ্তরের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি এবং সহযোগিতা নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে এসব কথা বলেন তিনি

শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ভিডিও কনফারেন্স চলাকালে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর . ফজলে কবির নিজ দপ্তর থেকে কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন

অর্থমন্ত্রী বলেন, ইউরোপ আমেরিকায় শাটডাউনের কারণে আমাদের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাকের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে এতে শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের অবকাঠামো খাতের প্রকল্পগুলোতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতিকে অনেকটা চাঙ্গা করে রেখেছে কিন্তু আমরা উদ্বিগ্ন যে করোনাভাইরাস মহামারীজনিত কারণে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী বিদেশ থেকে ফিরে এসেছেন বলে রেমিট্যান্সের ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা সবাই অবগত আছেন, মারাত্মক ভাইরাসের সংক্রমণ অতি দ্রুত ছড়ায় করোনা সংক্রমণ রোধে এক মরিয়া পদক্ষেপ হচ্ছে অভূতপূর্ব লকডাউন, শাটডাউন এবং যোগাযোগ ব্যাহতকরণ, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিবার্যভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে বিশ্ব শেয়ারবাজার এরই মধ্যে ২৮-৩৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে মন্দা দীর্ঘকাল স্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দশমিক শতাংশে নেমে যেতে পারে

জিডিপির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারেএমন বিষয়ে সতর্কবার্তা দেন অর্থমন্ত্রী তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে বিগত তিন বছর ধরে ধারাবাহিক শতাংশের অধিক হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারাবাহিকতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে দশমিক ১৫ শতাংশ, যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ আমরা বছর দশমিক শতাংশ আশা করছিলাম আমাদের ঈর্ষণীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সহায়ক রাজস্ব মুদ্রানীতি করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশের ক্ষতি জিডিপির দশমিক শতাংশ হতে পারে বলে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাদের বিশ্লেষণে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে যখন আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির লক্ষ্যগুলো অর্জনসহ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার অপেক্ষায় আছি এমন একটি সময় বাংলাদেশসহ বিশ্ব অর্থনীতি করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন

অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশের একার পক্ষে রকম একটি দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া সম্ভব নয় তাই সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য আমরা আইএমএফ বিশ্বব্যাংক গ্রুপকে আমাদের পাশে থাকার অনুরোধ করব বিশ্বব্যাংক গ্রুপ আইএমএফকে বিনীতভাবে অনুরোধ করব, বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তাদের বৃহত্তর সহযোগিতা নিশ্চিত করবে করোনাভাইরাসের বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভিডিও কনফারেন্স আয়োজনের জন্য বিশ্বব্যাংক গ্রুপ আইএমএফের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অর্থমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আমরা সবাই জড়ো হয়েছি কিছু উপায় এবং পথ খুঁজে বের করে পৃথিবীর মানব সম্প্রদায়ের কাছে আশার একটি আলোক প্রদর্শন করার জন্য

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংক ১৪ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক তহবিল গঠন করেছে পাশাপাশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশগুলোর সহায়তার জন্য ৫০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণা করেছে আইএমএফ অর্থের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলার পাবে স্বল্প আয়ের দেশগুলো বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংক আইএমএফ থেকে একটি বড় অংশ সহযোগিতা আশা করছে সামনের দিনগুলোতে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায়

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন