শুক্রবার| এপ্রিল ০৩, ২০২০| ১৮চৈত্র১৪২৬

দেশের খবর

নভেল করোনাভাইরাস

৩৪টি রোহিঙ্গা শিবিরে কার্যক্রম সীমিত করার নির্দেশ

বণিক বার্তা প্রতিনিধি কক্সবাজার

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক সেবা কার্যক্রম সীমিত করার নির্দেশনা দিয়েছে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় গতকাল নির্দেশনা দেয়া হয়

বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. শামসুদ্দৌজা নয়ন তিনি জানান, রোহিঙ্গা শিবিরে কার্যক্রম সীমিত করার বিষয়ে অনেক আগেই মৌখিকভাবে নির্দেশনা হয়েছিল গতকাল শিবিরে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে লিখিতভাবে নির্দেশনা পাঠানো হয়

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, খাদ্য, চিকিত্সা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ অতি জরুরি সেবা কার্যক্রম চালু থাকবে বাকি সব কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ক্যাম্পে যাবে না

তিনি বলেন, অনেক আগেই শিবিরের অভ্যন্তরে থাকা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিশুবান্ধবকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বিদেশী কোনো ভিজিটর এলেই আগের মতো রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যেতে দেয়া হচ্ছে না সে বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তিনি বলেন, নভেল করোনাভাইরাস সম্পর্কে রোহিঙ্গাদের সচেতন করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনাগুলো মিয়ানমারের এবং ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করে বিলি করা হচ্ছে রোহিঙ্গা শিবিরে জনসমাগম এড়াতে মসজিদের ঘরে নামাজ আদায় করার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে

মাহবুব বলেন, করোনা আক্রান্ত সন্দেহে রোহিঙ্গাদের আলাদা করে রাখার জন্য ক্যাম্পের হাসপাতালগুলোয় ৪৭টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে এছাড়া ১৫০ শয্যা প্রস্তুত আছে, যা প্রয়োজনে ব্যবহার হবে

এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফে ৩৪টি অস্থায়ী রোহিঙ্গা শিবিরে অনেকটা গাদাগাদি করে বসবাস করছে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা ঘনবসতি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং বিদেশীদের আনাগোনার কারণে এসব ক্যাম্পে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি তাই ক্যাম্পগুলো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা জেনেছি, সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক সেবা দিতে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করছেন প্রায় হাজার ২০০ জন বিদেশী প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশী বর্তমানে সেবা কার্যক্রম সীমিত করার ঘোষণা এলেও এতদিন পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ রোহিঙ্গা শিবিরগুলোয় সেবা দিয়েছেন পাশাপাশি তারা নিজেদের বাড়িঘর, বাসা থেকে আসা-যাওয়া করেছেন সেক্ষেত্রে তাদের মাধ্যমেও করোনাভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে

উখিয়ার ইউএনও মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ছোট জায়গায় বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অবস্থান এছাড়াও নানা কারণে আমরাও শিবিরগুলোকে খুব ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছি কক্সবাজারের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. শামসুদ্দৌজা নয়ন বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে যেন স্থানীয়দের করোনা আক্রান্তের ঝুঁকি না বাড়ে, সেজন্যই ক্যাম্পগুলোয় কার্যক্রম সীমিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন