মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

করোনা

কভিড-১৯: ম্যালেরিয়ার ওষুধ প্রচলিত চিকিৎসার চেয়ে অধিক কার্যকর নয়

বণিক বার্তা অনলাইন

হাইড্রোক্সি ক্লোরোকুইন, ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনাভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসায় এ ওষুধ কার্যকর ঘোষণার পর বিশ্বব্যাপীই হইচই পড়ে গেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন কভিড-১৯ রোগীর জন্য এ ওষুধের অনুমোদন দেয়ার কথা অস্বীকার করেছে।

এবার গবেষণায় পাওয়া গেল, করোনাভাইরাস চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত প্রচলিত চিকিৎসার চেয়ে বেশি কার্যকর নয় এই ম্যালেরিয়ার ওষুধ।

চীনের ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটির জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা দেখেছেন, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ক্লোরোকুইন নেয়া রোগী আর না নেয়া রোগীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য দেখা যায়নি।

৩০ জন রোগীর মধ্যে এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়। ১৫ জন রোগীকে ম্যালেরিয়ার ওষুধ দেয়া হয়। এক সপ্তাহ পর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাদের মধ্যে ১৩ জন করোনা নেগেটিভ ধরা পড়ে। আর বাকি যে ১৫ জনকে হাইড্রোক্সি ক্লোরোকুইন দেয়া হয়নি একই সময়ে তাদের মধ্যে ১৪ জনের করোনা নেগেটিভ আসে।
ফলাফলের এ পার্থক্যকে পরিসংখ্যানগত দিক থেকে ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না বলে মনে করা হচ্ছে।

ফ্রান্সে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ৪০ জন রোগীর মধ্যে একটি গবেষণা পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে অ্যাজিথ্রোমাইসিন অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে হাইড্রোক্সি ক্লোরোকুইন দেয়া ২৬ জন রোগীর শরীর থেকে ভাইরাস দূর হয়েছে বলে গবেষণায় দাবি করা হয়। এসব রোগীর নাকের শ্লেষ্মা পরীক্ষা করে তাদের করোনা নেগেটিভ পাওয়া যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এ গবেষণার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পর্যবেক্ষণটি বেশ মজার বললেও সুনির্দিষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন তারা।

কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন এ ওষুধ করোনা প্রতিরোধে কার্যকর। গত শনিবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও সেই কথাই বলেন। তিনি বলেন, ডাক্তাররা ক্লোরোকুইন সেবনের ব্যবস্থাপত্র দিতে পারেন। প্রেসিডেন্ট এটি নিয়ে খুব আশাবাদী!

তবে শীর্ষ বিজ্ঞানীরাসহ হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের সদস্য অ্যান্টনি ফাউসি হাইড্রোক্সি ক্লোরোকুইনের কার্যকরিতার বিষয়ে রিপোর্ট চেয়েছেন। করোনার চিকিৎসায় এ ওষুধের ব্যবস্থাপত্র দেয়ার আগে আরো যাচাইয়ের দরকার আছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

নিউইয়র্কে এখন হাসপাতালে ভর্তি করোনা আক্রান্ত অনেক রোগীকে এ ওষুধ দেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে বড় পরিসরে একটি পরীক্ষণও শুরু হচ্ছে। এরপরই ব্যাপকভাবে ব্যবহারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চীনা গবেষণাটিতে আক্রান্ত ৩০ জনের মধ্যে ১৫ জনকে প্রচলিত চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। সাংহাই পাবলিক হেলথ ক্লিনিক্যাল সেন্টারের ইনফেকশন অ্যান্ড ইমিউনিটি বিভাগ থেকে এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়। গবেষকরা প্রচলিত চিকিৎসার মধ্যে বিছানায় শুয়ে বিশ্রাম, কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন দেয়া এবং চীনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী লপিনাভির ও রিপোনাভিরের মতো ভাইরাসরোধী ওষুধ এবং প্রয়োজন মতো অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়।

গবেষণাকালে হাইড্রোক্সি ক্লোরোকুইন দেয়া একজন রোগীর অবস্থা আরো গুরুতর অবস্থায় চলে গিয়েছিল। চার জনের ডায়রিয়া এবং লিভার নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর্যায়ের চলে যায়। যেখানে প্রচলিত চিকিৎসা নেয়া রোগীদের অবস্থা এতোটা গুরুতর হয়নি।

তবে নমুনা যেহেতু বেশ ছোট এ কারণে গবেষকরা আরো বড় পরিসরে গবেষণার আগে এ ওষুধের ঝুঁকি ও কার্যকরিতা নিশ্চিত করে বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন।

সূত্র: ব্লুমবার্গ

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন