মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

দুর্দম

সত্তরের ঘূর্ণিঝড় ও মানুষের লড়াই

মাহবুব সিদ্দিকী

বিশ্বের সর্ববৃহৎ বদ্বীপের বৃহত্তর অংশ নিয়ে বাংলাদেশের ভূভাগ গঠিত মানচিত্রে এটি গাঙ্গেয় বদ্বীপ বা গ্যাঞ্জেজ ডেল্টা নামে পরিচিত উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের এমন এক ভৌগোলিক অবস্থানে জনপদ গড়ে উঠেছে, যেখানে সুদূর অতীতকাল থেকেই ঘটে চলেছে ঘন ঘন বান-বন্যা-প্লাবন, সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস বাংলাদেশের মানুষ সুদূর অতীতকাল থেকেই এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে পরিচিত শুধু পরিচিত নয়, বাংলাদেশের মানুষ প্রায় প্রতি বছর কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রত্যক্ষ করেছে, এখনো করছে মাঝে মধ্যে লম্বা বিরতির পর হঠাৎ করেই একেকটি মহাদুর্যোগের আগমন ঘটেছে এর মধ্যে নদ-নদীর মহাপ্লাবন, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ঘূর্ণিঝড়গুলো গোরকি, সিডর বা আইলা নামে দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে বিভিন্ন সময়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে

আমাদের পূর্বপুরুষরা দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন আবহমান কাল থেকে আমাদের পূর্বসূরিদের মাধ্যমে পাওয়া বাস্তবসম্মত জ্ঞান পরবর্তী প্রজন্মকে আরো দক্ষ করেছে এসব দুর্যোগ মোকাবেলায় পূর্ববর্তী প্রজন্মের মানুষ কথা জানতেন এবং উত্তরসূরিদের শিখিয়ে গেছেন, দেশে বসবাস করতে হলে ঘন ঘন নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে সহঅবস্থান করেই চলতে হবে এগুলোর বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করে বেঁচে থাকতে হবে প্রকৃতির খেলা চলতে থাকবে এগুলো বন্ধ হওয়ার নয় তাই বেঁচে থাকার উপায় হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে আগাম সংবাদ জানা এবং পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের জানমাল রক্ষার চেষ্টা করা, যেন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হয় বর্তমান সময়ে উন্নত প্রযুক্তির যুগে এগুলো সম্ভব

বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভকালের অনেক তথ্যই আমাদের জানা এসব তথ্য বিশ্লেষণ করলে বুঝতে পারি, বিংশ শতাব্দীর শুরুতেও দেশের মানুষদের কাছে বন্যা-প্লাবন- সামুদ্রিক ঝড়, জলোচ্ছ্বাসের আগাম বার্তা জেনে নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ ছিল অনেকটাই সীমিত প্রাচীনকালের অবস্থা ছিল আরো ভয়াবহ করুণ

উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে অবস্থিত বাংলাদেশ নামক ভূভাগের, বিশেষত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ঘন ঘন প্লাবন, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, গোরকি, সুনামি নামক নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহাদুর্যোগের সম্মুখীন হয়তার পরও কোন আশায়, কোন মোহে তারা এখানে ঘর বেঁধেছেন, পড়ে আছেন মাটি আঁকড়ে শত সহস্র বছর ধরে? ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি ফেরালে পরিষ্কার দেখতে পাই নানা জাতি বর্ণের মানুষ সেই সুদূর অতীতকাল থেকেই দলে দলে দেশে এসে নদ-নদীর পলিময় শ্যামল সমতল প্রান্তরে সুখের নীড় বেঁধেছেন, গড়ে তুলেছেন সমৃদ্ধ জনপদ প্রাচীনকাল থেকে দলে দলে মানুষ উত্তরের মালভূমি-পাহাড় ডিঙ্গিয়েও নেমে এসেছে সমতলে তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, করতোয়া অববাহিকায় বসতি স্থাপন করেছে মানুষের মধ্যে অনেকেই ছিলেন ব্যবসায়ী, কেউবা পেশাদার সৈনিক, শিল্পী, কৃষিজীবী অনেকেই এসেছেন নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এদের অধিকাংশই আর ফিরে যাননি নিজেদের পিতৃভূমিতে কী আকর্ষণ তারা পেয়েছিলেন এই মাটিতে স্বাভাবিক প্রশ্নগুলোর জবাব দিয়েছেন দেশের ইতিহাসবিষয়ক পণ্ডিত সমাজবিজ্ঞানীরা আমরা সাধারণ জ্ঞান-বুদ্ধির দ্বারা যেটুকু অনুধাবন করি, এতে বুঝতে সক্ষম হই, শত শত নদ-নদীর পলিকাদা বালি দিয়ে যে দিগন্ত বিস্তৃত সমতল ভূমি বাংলাদেশ, সেটি পৃথিবীর উর্বর-ভূমিগুলোর মধ্যে অন্যতম এখানে অল্প আয়াসেই আশাতীত ফল লাভ সম্ভব এত বৈচিত্র্যময় অসংখ্য জাতের শস্য, ফলমূলের দেশ দুনিয়ায় মাত্র কয়েকটি রয়েছে এসব কারণে প্রাকৃতিক নানা ধরনের দুর্যোগের প্রলয়ঙ্করী ক্ষয়ক্ষতি উপেক্ষা করে সুদূর অতীতকাল থেকে মানুষ বাংলাদেশ নামক ভূমিতে স্থায়ী নিবাস গড়ে তুলেছে দেশের মানুষ বিভিন্ন ঋতুতে বৈচিত্র্যময় ফসল ঘরে তোলার আনন্দে ভুলে যেতেন নিকট অতীতে ঘটে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প কিংবা বান-বন্যা প্লাবনের কথা

আমাদের পূর্বপুরুষরা প্লাবনের ভয়ঙ্কর আঘাত থেকে নিজেদের জীবন সম্পদ রক্ষার কৌশল রপ্ত করেছিলেন যে উর্বর ভূমিগুলোয় তারা বাস করতেন, সেখানে কোনো কোনো বছরে বন্যা প্লাবনে অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন প্লাবিত হয়ে থাকত তাই দেশের সমতল পলিময় ক্ষেত্রের জনবসতিগুলোয় মাটি ফেলে ভিটা উঁচু করে বাড়িঘর নির্মিত হয়েছে নিম্ন সমতল ভূমিতে পুকুর কেটে মাটি দ্বারা পুকুরের পাড় উঁচু করে তবেই বসতি গড়ে উঠেছে জলোচ্ছ্বাস প্লাবনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে

গঙ্গা, পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনাএসব বৃহৎ নদ-নদী এবং এর শত শত শাখা নদী উপনদীর পলল দ্বারা গঠিত বাংলাদেশের উর্বর ভূমি প্রতি বছর কিংবা কয়েক বছর পর পর এই নদ-নদীর তীরবর্তী লাখ লাখ হেক্টর প্লাবন ভূমি প্লাবিত হয়ে যে উর্বর ফসলের জমি উপহার দিয়ে যাচ্ছে, আমাদের সম্পদের আসল উৎস তো সেখানেই নদ-নদীর প্লাবন ভূমিতেই দেশের অধিকাংশ মানুষের বসবাস যুগ যুগ ধরে এসব মানুষ তাত্ক্ষণিকভাবে প্লাবনের ভয়ংকর প্রভাব কাটিয়ে ওঠার সংগ্রামে অধিকাংশ সময়ই জয়ী হয়েছে আবার কখনো বিফলও হয়েছে তবে সফলতা বিফলতার যোগ-বিয়োগে সাফল্য সমৃদ্ধির পরিমাণ সবসময়ই ছিল বেশি বন্যার পানি সরে যাওয়ার পর দিগন্তবিস্তৃত ভূমি পুুরুপলির স্তরে জমাট বেঁধেছে বাংলার কৃষক এখানেই পেয়ে এসেছেন সম্পদের আসল খনি দ্বিগুণ-তিনগুণ শস্য দানায় ভরে গেছে কৃষকের গোলা তাই যুগ যুগ ধরে সেই অতীতকাল থেকে দেশে এসে যারা বসতি গেড়েছেন, তারা আর কোনো দিন ফিরে যাননি এখানকার সম্পদের প্রাচুর্য সহজলভ্যতার আকর্ষণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাই তাদের জীবনে মুখ্য প্রতিবন্ধক হয়ে দেখা দেয়নি

সবকিছু সবসময়ে নিয়ম মেনে চলে না প্রকৃতিও নিয়ম মেনে চলতে চলতে হঠাৎ করেই যেন বিদ্রোহী আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে যায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকৃতির অপ্রত্যাশিত প্রলয়ঙ্করী আচরণ আমরা দেখেছি দেশের ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ে বাংলার প্রাকৃতিক দুর্যোগের সব থেকে প্রাচীন দালিলিক তথ্যটি পাওয়া গেছে মোগল সম্রাট আকবরের নবরত্ন সভার অন্যতম রত্ন প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আবুল ফজল আল্লামী রচিত আইন--আকবরি (১৫৯৮) গ্রন্থে গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে ১৫৮৫ খ্রিস্টাব্দে পটুয়াখালীর দক্ষিণ-পূর্বাংশে সংঘটিত সামুদ্রিক ঝড়সহ জলোচ্ছ্বাসের ভয়াবহতম ঘটনাটি

১৫৮৫ খ্রিস্টাব্দের পর ১৬৯৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু করে ১২ নভেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া যত ধরনের সাইক্লোন দেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে আঘাত হেনেছে, এগুলোর তথ্য কমবেশি আমাদের কাছে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি ঘটায়, তখন থেকে ঘটে যাওয়া সাইক্লোনসংক্রান্ত তথ্য আরো বিস্তৃত আকারে বর্ণিত হয়েছে ১৬৯৯ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত দেশের সমুদ্র উপকূলে মোট ৬৭ বার ঘটে যাওয়া রেকর্ডভুক্ত ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসে অগণিত মানুষ গবাদিপশু প্রাণ হারিয়েছে, ক্ষতি হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ

১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাব্যাপী শতাব্দীর ভয়াবহতম এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসের (গোরকি) ঘটনা ঘটে এটি ভোলা সাইক্লোন নামে পরিচিত ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২২ কিলোমিটার সমুদ্রের পানি স্ফীত হয়ে ১০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতায় পৌঁছে যায়

মহাপ্রলয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে জলোচ্ছ্বাসের ফলে পানির উচ্চতা কতটুকু ছিল, তা নিম্নে তুলে ধরা হলো

সূত্র: আনওয়ার আলী, ঘূর্ণিঝড় (ঢাকা: বাংলা একাডেমি, ১৯৯৯)

সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ছিল চট্টগ্রাম, বরগুনা, খেপুপাড়া, পটুয়াখালী, চর বোরহানউদ্দীন, দক্ষিণ মাইজদি হরিণঘাটা সরকারি তথ্যমতে, পাঁচ লাখ মানুষ মারা যায় কিন্তু বেসরকারি হিসাব মতে, মৃতের সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ২০ হাজার জেলে নৌকা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ১০ লাখ গবাদি পশুর মৃত্যু হয় ৪৭ লাখ মানুষ সরাসরি মহাদুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল চার লাখ ঘরবাড়ি সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়, হাজার ৫০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় পূর্ব পাকিস্তানে তখন ইয়াহিয়া খানের নেতৃত্বে সামরিক আইনের বলে দেশ শাসন চলছিল সে সময় মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ছুটে যান বাংলার দক্ষিণাঞ্চলে দুর্গতদের সেবায় নিজ চোখে ক্ষয়ক্ষতি এবং মানুষের দুর্দশার চিত্র দেখে ঢাকায় ফিরে পল্টন ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণে দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেন মহাদুর্যোগে মৃত্যু আর ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত চিত্র, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের বার্তা কবি শামসুর রাহমান রচনা করেন কালজয়ী কবিতা সফেদ পাঞ্জাবি’—

শিল্পী, কবি, দেশী কি বিদেশী সাংবাদিক,

খদ্দের, শ্রমিক, ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, সমাজসেবিকা,

নিপুণ ক্যামেরাম্যান, অধ্যাপক, গোয়েন্দা, কেরানি,

সবাই এলেন ছুটে পল্টনের মাঠে, শুনবেন

দুর্গত এলাকা প্রত্যাগত বৃদ্ধ মৌলানা ভাসানী

কী বলেন রৌদ্রালোকে দাঁড়ালেন তিনি, দৃঢ়, ঋজু,

যেন মহাপ্লাবনের পর নূহের গভীর মুখ

সহযাত্রীদের মাঝে ভেসে ওঠে, কাশফুল-দাড়ি

উত্তুরে হাওয়ায় ওড়ে বুক তাঁর বিচূর্ণিত দক্ষিণ বাংলার

শবাকীর্ণ হু-হু উপকূল, চক্ষুদ্বয় সংহারের

দৃশ্যাবলিময়, শোনালেন কিছু কথা, যেন নেতা

নন, অলৌকিক স্টাফ রিপোর্টার জনসমাবেশে

সখেদে দিলেন ছুড়ে সারা খাঁ-খাঁ দক্ষিণ বাংলাকে

সবাই দেখলো চেনা পল্টন নিমেষে অতিশয়

কর্দমাক্ত হয়ে যায়, ঝুলছে সবার কাঁধে লাশ

আমরা সবাই লাশ, বুঝি-বা অত্যন্ত রাগী কোনো

ভৌতিক কৃষক নিজে সাধের আপনকার ক্ষেত

চকিতে করেছে ধ্বংস, পড়ে আছে নষ্ট শস্যকণা

ঝাঁকা-মুটে, ভিখিরি, শ্রমিক, ছাত্র, সমাজসেবিকা,

শিল্পী, কবি, বুদ্ধিজীবী, দেশী কি বিদেশী সাংবাদিক

নিপুণ ক্যামেরাম্যান, ফিরিঅলা, গোয়েন্দা, কেরানি;

সমস্ত দোকানপাট, প্রেক্ষাগৃহ, ট্রাফিক পুলিশ,

ধাবমান রিকশা, ট্যাক্সি, অতিকায় ডবল ডেকার,

কোমল ভ্যানিটি ব্যাগ আর ঐতিহাসিক কামান,

প্যান্ডেল, টেলিভিশন, ল্যাম্পপোস্ট, রেস্তোরাঁ, দপ্তর

যাচ্ছে ভেসে, যাচ্ছে ভেসে ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ বঙ্গোপসাগরে

হায়, আজ একি মন্ত্র জপলেন মৌলানা ভাসানী!

বল্লমের মতো ঝলসে ওঠে তার হাত বারবার,

অতিদ্রুত স্ফীত হয়, স্ফীত হয়, মৌলানার সফেদ পাঞ্জাবি,

যেন তিনি ধবধবে একটি পাঞ্জাবি দিয়ে সব

বিক্ষিপ্ত বে-আব্রু লাশ কী ব্যাকুল ঢেকে দিতে চান

একটি দেশের সাহিত্য হলো সে দেশের ইতিহাসের একরকম দর্পণ মানব সমাজের সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় আচার-আচরণসহ রাজনীতি, সামরিক ঘটনাবলি এবং নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনজীবনের সার্বিক প্রতিচ্ছবি চিত্রিত হয় সাহিত্যের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে এগুলো বিচ্ছিন্নভাবে উঠে এসেছে যুগ যুগ ধরে বাঙালি জাতি সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প এবং বান-বন্যার সঙ্গে যে নিরন্তর লড়াই করেছে এবং এখনো করে চলেছে, তা আমাদের জনজীবনের ইতিহাস লড়াইয়ের ইতিহাস বাংলা সাহিত্যে প্রায় অনুপস্থিত কাজেই আমাদের প্রায় সম্পূর্ণরূপেই নির্ভরশীল হতে হয় সরকারি তথ্যের ওপরে তার পরও বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারে যা কিছু জমা আছে, সেখান থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশের মানুষের টিকে থাকার লড়াইয়ের গল্পগুলো নিয়ে কার্যকর গবেষণা হলে হয়তো অনেক অজানা তথ্য উঠে আসবে

 

মাহবুব সিদ্দিকী: বাংলাদেশের ঐতিহ্য

ভূপ্রকৃতি স্থানীয় ইতিহাসবিষয়ক গবেষক

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন