রবিবার | জুলাই ১২, ২০২০ | ২৮ আষাঢ় ১৪২৭

খেলা

বর্ণবাদ আসে অশিক্ষা থেকে: আরনল্ড

একজন ডিফেন্ডারকে প্লে মেকারের ভূমিকায় দেখাটা খুবই দুর্লভ। আর সেই দুর্লভ ভূমিকাতেই ইদানীং অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে লিভারপুলের ইংলিশ ডিফেন্ডার আলেকসান্দার আরনল্ডকে। রাইটব্যাক হিসেবে ডিফেন্স সামলানোর পাশাপাশি উপরে উঠে অ্যাসিস্টও করছেন তিনি। পাশাপাশি লিভারপুলেরগেগেনপ্রেসিং ফরম্যাটের কার্যকর প্রয়োগেও অন্যতম ক্রীড়নক আরনল্ড। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে অপ্রস্তুত অবস্থায় কর্নার নিয়ে জয়সূচক গোলে অ্যাসিস্ট করে আলোচনায় এসেছিলেন আরনল্ড। মাত্র ২১ বছর বয়সেই বিশ্বের অন্যতম সেরা রাইটব্যাক হিসেবে উচ্চারিত হচ্ছে তার নাম। সম্প্রতি সেই আরনল্ডের সাক্ষাত্কার নিয়েছেজিকিউ। তার চুম্বকাংশ এখানে তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন: যখন প্রথম আপনার নাম ধরে সমর্থকদের স্লোগান দিতে শুনেছিলেন, কেমন অনুভূতি হয়েছিল।

আরনল্ড: অবশ্যই সেটি ছিল আমার জীবনের অন্যতম সেরা গর্বের মুহূর্ত।

প্রশ্ন: কখন আপনার মনে হয়েছিল আপনি আসলেই একজন খেলোয়াড়?

আরনল্ড: আমার মনে হয় না, আমি কখনো সেটা জানতে পেরেছি যে আমি আসলেই একজন ভালো খেলোয়াড়। আমি এখনো ভাবি না যে আমি একজন আসলেই ভালো খেলোয়াড়।

প্রশ্ন: আপনি কি বলতে চাইছেন, আসলেই জানেন না আপনি একজন ভালো ফুটবলার?

আরনল্ড: আমি এখনো পূর্ণ সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি। আমি এখনো সেখানে যেতে পারিনি, যেখানে আমার যাওয়া উচিত বা যেতে পারি। তাই এ রকম কিছু আমার মনে গেঁথে নেয়ার কোনো মানে হয় না।

প্রশ্ন: ফুটবলারদের মাঝে রাইটব্যাকরা খুব কমই তেমনভাবে আলোচিত হন, যেভাবে আপনি হয়ে থাকেন।

আরনল্ড: অবশ্যই সেটা যারা বলে তাদের মতামত। আমি খেলার চেষ্টা করি, পাশাপাশি দলকে জয়ের জন্য সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। ব্যক্তিগত কোনো প্রশংসায় দলের শিরোপা জয়ের কাছাকাছি আসতে পারে না। কারণ বেড়ে ওঠার সময় এই জয়ের স্বপ্নই দেখা হয়। এটার মূল্য অনেক।

প্রশ্ন: দলে আপনি একমাত্র ব্যক্তি, যিনি লিভারপুলের স্থানীয়। কেমন লাগে?

আরনল্ড: এটি এমন কিছু, যা নিয়ে আমি গর্ববোধ করি। এটি আমার মাঝে দায়িত্ব বোধও জাগ্রত করে।

প্রশ্ন: আপনার বেড়ে ওঠার সময় কয়েকজন কোচের সান্নিধ্যে এসেছিলেন আপনি। তাদের মতে, আপনার মেজাজজনিত সমস্যা আছে?

আরনল্ড: আমি সবসময় রাগ করি না। হয়তো যখন খুব লড়াইয়ের মাঝে থাকি তখন হয়ে যাই। কারণ আমি জিততে চাই। যদি না পারি তখন অবশ্য হতাশ হয়ে পড়ি। আমি রাগ করি নিজের ওপর, কিছু জিততে পারিনি সেজন্য।

প্রশ্ন: আপনি কি জিততে পছন্দ কিংবা হারতে ঘৃণা করেন?

আরনল্ড: আমি হারতে ঘৃণা করি।

প্রশ্ন: এক শব্দে ইয়ুর্গেন ক্লোপ সম্পর্কে বলুন।

আরনল্ড: অবিশ্বাস্য। সবদিক থেকেই তিনি তাই। দলকে সামলানো, ব্যক্তি হিসেবে, ম্যানেজার হিসেবে স্রেফ অবিশ্বাস্য।

প্রশ্ন: টিভিতে দেখা ক্লোপ এবং ব্যক্তি ক্লোপ কি একই রকম?

আরনল্ড: দুজনই একই ব্যক্তি। ক্যামেরার সামনে সাক্ষাত্কার দেয়ার সময় যেমন, বাস্তবেও তাই। সে এমন একজন, যে তার আশপাশের মানুষের প্রতি যত্নশীল। সে তার পরিবারের প্রতি যত্নশীল, সে খেলোয়াড়দের প্রতি যত্নশীল এবং সে তার স্টাফদের প্রতি যত্মশীল। সে সবাইকে সমান চোখে দেখে। অধিনায়কের প্রতি যে আচরণ করে, একজন তরুণ খেলোয়াড়ের প্রতিও তাই। সে আবেগী এবং সে আড়াল করে না বলেই তাকে নিয়ে অনেকের সম্ভব ভিন্ন ভাবনা আছে। কিন্তু সে জানে কীভাবে তার আশপাশের মানুষের সুবিধার্থে ব্যবহার করতে হবে। সে জানে সঠিক সময়ে কী বলতে হবে এবং কীভাবে বলতে হবে।

প্রশ্ন: কে সেরা মেসি না রোনালদো?

আরনল্ড: আমার জন্য মেসি।

প্রশ্ন: আপনি এখনো মায়ের সঙ্গে থাকেন, কতদিন থাকবেন এভাবে?

আরনল্ড: যতদিন থাকার প্রয়োজন হবে। আমি যাদের পছন্দ করি, সবসময় তাদের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করি। তাই পরিবার সবসময় পাশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আমি সবসময় এটা উপভোগ করি।

প্রশ্ন: বর্ণবাদ নিয়ে বলুন। আপনাকে কখনো তা শিকার হতে হয়েছে?

আরনল্ড: না। কিন্তু আমি মনে করি, এটা আসে শিক্ষার অভাব থেকে। শিক্ষিত লোকেরা বুঝতে পারে, সব মানুষ সমান। এটা কোনো বিষয় না যে রঙ কী, চামড়া কেমন কিংবা তার লিঙ্গ কী। কোনো দিক থেকেই বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ সবাই সমান। সবার সমান সুযোগ প্রয়োজন, যেটা সে করতে চায় তা করার জন্য।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন