শুক্রবার| এপ্রিল ০৩, ২০২০| ১৮চৈত্র১৪২৬

সম্পাদকীয়

কভিড-১৯-এর বিস্তার প্রতিরোধে সরকারের একগুচ্ছ পদক্ষেপ

সংশ্লিষ্টদের সক্রিয়তার পাশাপাশি নিয়ম মানায় সবাই সচেষ্ট হোন

দেশে প্রথম কভিড-১৯- আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয় মার্চ এরই মধ্যে ১৭ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে তারও আগে প্রায় তিন মাস আমরা প্রস্তুতি নেয়ার সময় পেয়েছি কিন্তু শুরুতে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল, তা অনেকটাই বিচ্ছিন্ন কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাবও দেখা গেছে ফলে কাঙ্ক্ষিত সুফল তো মেলেইনি, বরং আক্রান্তের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে এমন এক অবস্থায় নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সরকার একগুচ্ছ নির্দেশনা প্রদান করেছে এর অংশ হিসেবে ২৬ মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বিভাগীয় জেলা শহরগুলোয় সামাজিক দূরত্ব সতর্কতা ব্যবস্থা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনকে সহায়তা দিতে গতকাল থেকে সেনাবাহিনী নিযুক্ত করা হয়েছে কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে নিম্ন আদালতের আগামীকাল থেকে পরবর্তী ১০ দিন পর্যন্ত দেশের সড়কে সব ধরনের গণপরিবহন লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে একই সঙ্গে পণ্যবাহী যান বাদে সারা দেশে নৌপথে লঞ্চ, ছোট নৌকাসহ সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এছাড়া মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে স্থানীয় কমিউটার মেইল ট্রেন এবং আন্তঃনগর যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সন্দেহ নেই, এসব সিদ্ধান্ত সঠিক নির্দেশনার এবং এর যথাযথ বাস্তবায়ন-পরিপালন নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার প্রতিরোধে অনেকাংশে সহায়ক হবে বৈকি প্রত্যেকের দায়িত্বপূর্ণ আচরণই পারে বিপর্যয় থেকে আমাদের রক্ষা করতে কাজেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিয়ম মানায় সবার সচেষ্টতা কাম্য

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত অধিক পরীক্ষার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় হলো মানুষকে মানুষ থেকে দূরে রাখা অনেক দেশই বেশ আগ্রাসীভাবে কাজটি করেছে শহর, এমনকি পুরো দেশ পর্যন্ত শাটডাউন করে দিয়েছে প্রতিবেশী ভারত জনতার কারফিউ জারি করে জনগণকে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে বার্তা দিয়েছে জনগণকে নিয়েই তারা লড়াই মোকাবেলা করতে চাইছে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যেও সচেতনতা সৃষ্টির কাজটি জরুরি নানা কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে জনগণ এখনো এই বিপদ সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন নয় সচেতনতা জোরদারের পাশাপাশি ক্ষেত্রবিশেষে কঠোর ব্যবস্থাও নিতে হবে

পুরো বিশ্বের ঘটনা পরিক্রমায় আমরা এরই মধ্যে কিছুটা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি এটি আমাদের শক্তির দিক এবং এটিকে কাজে লাগাতে হবে বলা হচ্ছে, ভাইরাসের পেছনে পেছনে ছুটলে হবে না, ছুটতে হবে আগে আগে চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরসহ যেসব দেশ ধরনের আক্রমণাত্মক কৌশল নিতে পেরেছে, তারা অনেকটাই সফল হয়েছে কিন্তু ইতালিসহ যেসব দেশ তা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা চরম বিপাকে পড়েছে তাই অন্যান্য দেশের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদেরও জোরদার আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে হবে

চিকিৎসাবিজ্ঞানের যাবতীয় অর্জন, সর্বোচ্চ প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও উন্নত অর্থনীতির দেশের পক্ষেও মহামারীতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ব্যাপকতা সামাল দেয়া অসম্ভব হয়ে উঠছে ফলে আতঙ্কের হাওয়া ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে, নানা দেশে সেটি এরই মধ্যে ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান বাংলাদেশেও বিশ্বপরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রেখে স্থির মস্তিষ্কে স্থানীয় পরিস্থিতি মোকাবেলা করাই এখন জরুরি করোনাভাইরাস পরীক্ষার যথেষ্ট কিট, চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার সরঞ্জাম এবং তাদের যথাযথভাবে প্রস্তুত করার ঘাটতির কথা উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে বিপর্যয় মোকাবেলায় ঘাটতিগুলো দ্রুততম সময়ে দূর করা দরকার সর্বাত্মক সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করা এবং প্রশাসনিক ক্ষিপ্রতা না বাড়ানোর পরিণাম বেশ কয়েকটি দেশে আমরা দেখতে পাচ্ছি অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা আমলে নিয়ে এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বকে দৃঢ়তার পরিচয় দিতে হবে আর সামষ্টিক স্বার্থ সুরক্ষায় ব্যক্তি নাগরিকের ভূমিকাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয় ভাইরাসের সঠিক গতিবিধি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে না উঠলেও দেখা যাচ্ছে মহামারী মোকাবেলার সবচেয়ে সহজ সুলভ উপায় আপাতত সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা আর ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কিছু নিয়ম মেনে চলা তাই আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত সরকারি নির্দেশ সুষ্ঠুভাবে পরিপালন এবং মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি হাঁচি-কাশি শিষ্টাচার মেনে চলা

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন