রবিবার| এপ্রিল ০৫, ২০২০| ২১চৈত্র১৪২৬

ফিচার

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে ১০টি প্রশ্ন

বণিক বার্তা অনলাইন

সারা বিশ্বে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের শিকার হয়েছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ৬৪৪ মানুষ। গতকাল পর্যন্ত মারা গেছেন ১৬  হাজার ৫৮৭ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৮৯৮ জন। আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থ হওয়ার এ পরিসংখ্যান দিন দিন বাড়ছেই। ভাইরাসের বিস্তার রোধে বিভিন্ন দেশ কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। চলছে নানাভাবে সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণা। কিন্তু এরপরও যথাযথ প্রস্তুতির অভাবে হিমশিম খাচ্ছে ইউরোপ ও আমেরিকা। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতে জনসাধারণকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও ঘরে অবস্থান করতে বলা হচ্ছে। নভেল করোনাভাইরাসের আচরণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকার কারণে সাধারণ মানুষ তো বটেই স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যেও রয়েছে বিভ্রান্তি। এই বিভ্রান্তি সম্পর্কিত ১০টি বাছাইকৃত প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশ্নোত্তরের সংকলন করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

কভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠার পর কি আপনি নিরাপদ
এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। কারণ এ ভাইরাস একেবারেই নতুন। তবে অন্যান্য ভাইরাস এবং করোনাভাইরাসগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে বলেই আপনি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এই অ্যান্টিবডি পরবর্তীতেও আপনাকে রক্ষা করবে।

সার্স এবং অন্যান্য করোনভাইরাসের বেলায় সাধারণত দ্বিতীয়বার সংক্রমণের দৃষ্টান্ত নেই। কিন্তু চীনে অনেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আবার সংক্রমণ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন। অবশ্য তারা আর সংক্রামক ছিলেন না বলে জানা গেছে।

করোনাভাইরাসের সুপ্তাবস্থা কতদিন
বিজ্ঞানীদের মতে, গড়ে পাঁচ দিন পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্তের শরীরে সুপ্তাবস্থায় থাকতে পারে। তবে কিছু গবেষকদের দাবি এর সুপ্তাবস্থা ২৪ দিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী নভেল করোনাভাইরাসের সুপ্তাবস্থা ১৪ দিন। সাধারণত সংক্রমণের ২ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে কভিড-১৬ এর লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

করোনাভাইরাসের সুপ্তবস্থার সময়কাল জানা এবং বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

অসুস্থতার ধরন কেমন
আক্রান্ত পাঁচজনের মধ্যে চারজনের ক্ষেত্রেই কভিড-১৯ একটি মৃদু অসুস্থতা, অনেকটা সাধারণ ফ্লুর মতো। প্রাথমিকভাবে করোনার লক্ষণগুলো মধ্যে রয়েছে জ্বর এবং শুকনো কাশি। কিছুদিনের মধ্যেই অসুস্থ বোধ করা শুরু হবে তবে সপ্তাহখানেকের মধ্যে অবস্থার উন্নতি হতে পারে, অথবা লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। যদি ভাইরাসটি ফুসফুসে ভালোমতো সংক্রমণ ঘটিয়ে ফেলে তাহলে শ্বাসকষ্ট এবং নিউমোনিয়া হতে পারে। আক্রান্ত সাত জনের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।

হাঁপানি রোগীর জন্য করোনাভাইরাস কতটা মারাত্মক
গুরুতর হাঁপানি আছে যাদের তারা করোনাভাইরাস আক্রান্ত হলে ঝুঁকিটা অনেক বেশি। কারণ এ ধরনের রোগীর ভাইরাস সংক্রমণজনিত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হলে হাঁপানির লক্ষণের মাধ্যমে তা শুরু হতে পারে। হাঁপানি রোগীর জন্য যুক্তরাজ্যের পরামর্শ হল প্রতিরোধক ইনহেলার সবসময় সঙ্গে রাখা। এটি করোনাভাইরাসসহ যে কোনো শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসের সংক্রমণে সৃষ্ট হাঁপানি প্রতিরোধে সহায়তা করবে। ব্লু রিলিভার ইনহেলার সঙ্গে রাখতে হবে। হাঁপানির লক্ষণ দেখলেই সেবন করতে হবে। তবে অবস্থা গুরুতর হলে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

প্রতিবন্ধীদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কি বেশি
বয়স্ক এবং আগে থেকেই হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য রোগে ভুগছেন তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে ঝুঁকি বেশি থাকে। শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের মৃত্যুর ঝুঁকিও বেশি থাকে। তবে সুস্থ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আছে- এমন কোনো প্রমাণ নেই।

ভাইরাস থেকে নিজের ও অন্যের সুরক্ষায় মাস্ক পরা উচিত
চিকিৎসক ও সার্জনদের সচরাচর ফেস মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়। কিন্তু করোনা প্রতিরোধে এই মাস্ক কতটা কার্যকর? কোনো দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষার উপায় হিসেবে ফেস মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে না। চিকিৎসা কাজের বাইরে এর ব্যবহার তেমন একটা ফলপ্রসূ নয়। তবে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের বিশেষভাবে ফেস মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে। কারণ তাদের হাঁচি কাশির মাধ্যমে এ ভাইরাস বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

করোনভাইরাস আক্রান্তের হাতের রান্না কি সংক্রমণ ঘটায়
করোনাভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার রান্না না করলে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যায়। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশির ড্রপলেট (ক্ষুদ্র ফোঁটা) হাতে লাগতেই পারে। যদি তিনি রান্নার আগে ঠিকমতো হাত না ধুয়ে নেন তাহলে তার হাতের রান্না সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এজন্য বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া প্রয়োজন। কোনো কিছু স্পর্শ করা ও খাবার গ্রহণের আগে হাত ধুলে নেয়াই জীবাণু বিস্তার রোধের সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।

দরজার হাতল বা টাকা থেকে কি করোনাভাইরাস ছড়ায়
কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি যদি কাশি বা হাঁচি দেয়ার সময় হাত দিয়ে মুখ ঢাকেন তবে তার হাতে ভাইরাস লেপ্টে যাবে। এই অবস্থায় তিনি দরজার হাতল ধরলে সেখানে ভাইরাস লেগে থাকবে। এতে করে ভাইরাস ছড়াতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাস ধাতু, কাচ এবং প্লাস্টিকের পৃষ্ঠে নয় দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এমনকি নিম্ন তাপমাত্রায় কিছু ভাইরাস ২৮ দিন পর্যন্ত অক্ষত থাকে। এজন্য সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে বিভিন্ন বস্তুর পৃষ্ঠতল স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে বারবার হাত ধোয়ার বিকল্প নেই।

চীন সরকার করোনার বিস্তার কমাতে সমস্ত ব্যাংককে কাগজের টাকা গ্রাহকের হাতে দেয়ার আগে জীবাণুমুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। নগদ অর্থের চেয়ে ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করে। তবে এই কার্ডগুলোও ভাইরাসকে আশ্রয় দিতে পারে। কার্ড, কয়েন বা নোট ব্যবহারের পরে এজন্য হাত ভাল করে ধুয়ে ফেলাটাই শ্রেয়।

বিদেশ থেকে আসা পণ্যের মাধ্যমে করোনভাইরাস ছড়ায় কি
বিদেশ থেকে আসা পণ্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। করোনভাইরাসসহ কিছু কিছু জীবাণু কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ধারণা করা হয় কোনো পণ্যের প্যাকেটের উপর ভাইরাস বেশি দিন বাঁচে না। অর্থাৎ গন্তব্যে পৌঁছানোর পরে পণ্যের প্যাকেট ভাইরাস ছড়ানোর আর সম্ভাবনা থাকে না।

দেশে লকডাউন পরিস্থিতিতে ইউটিলিটি বিল
পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ সরকারও এ বিষয়ে সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।  বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে ফেব্রুয়ারি থেকে মে- এই চার মাসের গ্যাসের বিল আগামী জুনে জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত তিন মাসের বিদ্যুতের বিল মে মাসে জমা দিতে বলা হয়েছে। এ জন্য গ্রাহককে কোনো বিলম্ব মাশুল বা সার চার্জ দিতে হবে না।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন