মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

টকিজ

করোনার কবলে যে তারকারা

রাইসা জান্নাত

নভেল করোনাভাইরাস এক আতঙ্কের নাম। সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাস। ঘাতক ভাইরাসটি যেন মানছে না কিছুই। কোনো দিকেই তার নেই ভ্রূক্ষেপ। অন্য সবার মতোই ভয়াবহ ভাইরাসের কারণে বিনোদন জগতের তারকারাও ভুগছেন। যদিও এখন পর্যন্ত ঢালিউডের কোনো শিল্পী, কলাকুশলীর করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু বিশ্বজুড়ে মহামারী থেকে রক্ষা পাননি হলিউড, বলিউডের অনেক তারকা। অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে মিউজিশিয়ান কেউই বাদ যাননি। একের পর এক তারকা আক্রান্ত হচ্ছেন নভেল করোনাভাইরাসে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তারকাদের নিয়ে টকিজের আজকের আয়োজন

কনিকা কাপুর: বেবি ডল, আম্বার সারিয়াসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় গানের শিল্পী কনিকা কাপুর। সম্প্রতি ফিরেছেন লন্ডন থেকে। নিয়ম অনুযায়ী দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা। কিন্তু তিনি শুধু ভ্রমণের ব্যাপারটিই গোপন করেছেন তা নয়, রীতিমতো উত্তর প্রদেশের লক্ষেৗতে কয়েকটি পার্টিতেও অংশ নিয়েছিলেন। কয়েকদিন পরে যা হওয়ার তাই হলো। তারকা হিসেবে কোনো ছাড়ই পাননি মহামারী করোনাভাইরাসের হাত থেকে। তিনিই প্রথম ভারতীয় তারকা, যিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

কনিকা কাপুর যেসব পার্টিতে ছিলেন, সেখানে তার আত্মীয়স্বজন ছাড়াও বিনোদন জগতের তারকা রাজনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর অসুস্থ হলে পরীক্ষা করে দেখা যায় তিনি এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন করোনাভাইরাসে। কনিকা কাপুরের পুরো পরিবারকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু যে কয়েকটি পার্টিতে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন, সেখান থেকে করোনা আরো ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সবাই। বিষয়টির জেরে উত্তর প্রদেশ পুলিশ কনিকা কাপুরের নামে মামলাও করেছে।

টম হ্যাঙ্কস রিটা উইলসন: শুধু বলিউড নয়, হলিউডে অনেক আগেই বেশ কয়েকজন তারকা আক্রান্ত হয়েছেন মহামারীতে। যার মধ্যে রয়েছেন অস্কারবিজয়ী হলিউড অভিনেতা টম হ্যাঙ্কস তার স্ত্রী রিটা উইলসন। দম্পতি ১১ মার্চ ঘোষণা দেন তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ইনফার্নো চলচ্চিত্রে এক মহামারী ভাইরাস যেন পৃথিবীতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য যুদ্ধ করেছেন টম। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের পর অস্ট্রেলিয়ার একটি হাসপাতালে সস্ত্রীক কোয়ারেন্টিনে ছিলেন তারা। বর্তমানে দুজনেই হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। ১৭ মার্চ ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে তাদের ছেলে তথ্য জানান।

লগা কুরিলেঙ্কো: কভিড-১৯-এর হাত থেকে রক্ষা পাননি জেমস বন্ডখ্যাত অভিনেত্রী এক সপ্তাহ আগে ইনস্টাগ্রামে করোনায় আক্রান্তের খবর নিজেই জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। একটি ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘আমি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ। জ্বর ক্লান্তি ভাব ছিল আমার প্রধান লক্ষণ।ভক্তদের সতর্ক করে আরো লিখেছিলেন, ‘আপনারা নিজের যত্ন নিন এবং বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখুন।করোনাভাইরাস পজিটিভ ধরা পড়ার পর নিজেকে গৃহবন্দি করে ফেলেন ওলগা। তিনি ২০০৮ সালে জেমস বন্ড সিরিজের কোয়ান্টাম অব সোলেস ছবিতে ডেনিয়েল ক্রেগের বিপরীতে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।

ইদ্রিস এলবা: একজন ব্রিটিশ অভিনেতা জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। জনপ্রিয় ব্রিটিশ টিভি সিরিজলুথারতারকা ১৬ মার্চ একটি ভিডিও বার্তায় জানান, তিনিও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। তার মধ্যে করোনার কোনো লক্ষণ না থাকার পরও শুধু আক্রান্ত একজনের সংস্পর্শে আসার কারণে পরীক্ষা করান এবং ইতিবাচক ফল আসে। মিনিটের ভিডিও বার্তায় তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি পরিষ্কার থাকা এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কথা বলেন। পুরো পরিবারসহ তিনি বর্তমানে নিজ বাড়িতেই কোয়ারেন্টিনে আছেন। 

ক্রিস্টোফার হিভজু: গেম অব থ্রোনসখ্যাত অভিনেতা হিভজুও করোনার কবল থেকে রেহাই পাননি। ১৭ মার্চ ইনস্টাগ্রামে তিনি নিজেই খবরটি সবাইকে জানান। এক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘নরওয়ের পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমার করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। আমি আমার পরিবার স্বেচ্ছায় আলাদা রয়েছি। আমরা সবাই সুস্থ আছি। আমার শুধু ঠাণ্ডার উপসর্গ রয়েছে।এরপর তিনি ভালোভাবে হাত ধোয়া, দূরত্ব বজায় রাখাসহ বেশকিছু বিষয় মেনে চলার কথাও উল্লেখ করেন। এমনকি নিজেদের পাশাপাশি পুরো কমিউনিটি বিশেষ করে প্রবীণ যারা আছে এবং আগে থেকেই যাদের শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিষয়গুলো মেনে চলতে ভক্তদের আহ্বানও জানিয়েছিলেন। 

ইন্দিরা ভার্মা: সহশিল্পী ক্রিস্টোফার হিভজু আক্রান্ত হওয়ার পরই করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন ইন্দিরা ভার্মা। গেম অব থ্রোনসখ্যাত অভিনেত্রী ১৮ মার্চ টুইটারে তথ্যটি নিশ্চিত করেছিলেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে খুব ভালো নেই বলে জানান। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইন্দিরা মিয়া নায়ারের কামসূত্র ছবিতে অভিনয় করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন।

ড্যানিয়েল ডে কিম: জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘হাওয়াই ফাইভ জিরোতারকা এবং দক্ষিণ কোরীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান অভিনেতা প্রযোজক ড্যানিয়েল ডে কিমও সম্প্রতি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন।

গত কয়েক সপ্তাহ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি টিভি সিরিজের জন্য শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। যেখানে তিনি একটি মহামারী ভাইরাসের বিরুদ্ধে হাসপাতালের একজন ডাক্তারের ভূমিকায় অভিনয় করছিলেন। কিন্তু এখন সত্যিই তিনি একটি মহামারী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হুয়াইয়ে নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে আছেন। যারা এখনো করোনাভাইরাসকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ভাইরাসটি আসলেই বিপজ্জনক। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতি শুধু বাড়বেই।

মানু ডিবাঙ্গ: ক্যামেরুনের স্বনামধন্য মিউজিশিয়ান। তিনিও কভিড-১৯- সংক্রমিত হন। ১৮ মার্চ তার ফেসবুকের অফিশিয়াল পেজে তথ্যটি প্রকাশ করা হয়। তিনি মূলত অন্য রোগের চিকিৎসায় ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানেই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হন। এরপর ধীরে ধীরে তার সুস্থ হওয়ার খবরও জানানো হয়। ৮৬ বছরের মানু ডিবাঙ্গ বিখ্যাত স্যাক্সোফনিস্ট, গীতিকার সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত।

এছাড়া ফ্রোজেন অভিনেত্রী র্যাচেল ম্যাথিউসও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। করোনায় আক্রান্তের পাশাপাশি হলিউড, বলিউড, টলিউডের একাধিক তারকা কোয়ারেন্টিনে আছেন। কেউ কেউ দেশের বাইরে থেকে আসার পর স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে (বিচ্ছিন্ন) রয়েছেন। ঢালিউডেও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না। এখন পর্যন্ত কোনো তারকা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হলেও অনেকেই স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন