বৃহস্পতিবার| এপ্রিল ০২, ২০২০| ১৮চৈত্র১৪২৬

ফিচার

কভিড-১৯: ধূমপায়ীরা বেশি ঝুঁকিতে

বণিক বার্তা অনলাইন

বিঁড়ি-সিগারেট বা ই-সিগারেট পানে অভ্যস্তদের জন্য নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো গবেষণা না থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত ধূমপান ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয় এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে। ভ্যাপিং বা ই-সিগারেটের বিষয়ে এ ধরনের উল্লেখযোগ্য গবেষণা না থাকলেও এর প্রভাবও সিগারেটের মতোই বলে ধারণা করা হয়।

তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে যারা ধূমপান বা ই-সিগারেট সেবন করেন তাদের ফুসফুসে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা (ক্রনিক) তৈরি হয়। এ কারণেই নভেল করোনাভাইরাস সৃষ্ট কভিড-১৯ রোগটি এ ধরনের ধূমপায়ীদের জন্য মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। কারণ এ ভাইরাস মানুষের শ্বাসতন্ত্রেই সংক্রমণ ঘটায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ধূমপান যেহেতু ফুসফুসসহ পুরো শ্বাসতন্ত্রকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে কভিড-১৯ ধূমপায়ীদের শ্বাসতন্ত্রে গুরুতর সংক্রমণ ঘটাতে পারে। 

লং আইল্যান্ডে নিউইয়র্ক উইনথ্রপ হসপিটালের পেডিয়াট্রিক পালমোনলজি বিভাগের প্রধান মেলোদি পিরজাদা বলেন, সবকিছু মিলিয়েই আমরা মনে করছি, যারা ধূমপান করেন অথবা ভ্যাপার নেন তাদের জন্য করোনাভাইরাস জটিলতা বাড়াতে পারে। তিনি নিজে কভিড-১৯ এর কোনো রোগীর চিকিৎসা করেননি। তবে বলেন, এটা একটা সাধারণ জ্ঞানের বিষয়। যাদের ধূমপান বা ভ্যাপিংয়ের অভ্যাস আছে তাদের পুরো শ্বাসতন্ত্র এবং ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাসহ সব কিছুই বদলে যায়।

কভিড-১৯ এর জটিলতার সঙ্গে ধূমপানের সম্পর্ক নিয়ে এখনো সরাসরি কেউ গবেষণা করেনি। তবে চীনে কভিড-১৯ রোগীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আক্রান্ত নারীদের চেয়ে পুরুষদের অবস্থা বেশি খারাপ হয়। আর জানা কথা যে, নারীর তুলনায় পুরুষদের মধ্যে ধূমপায়ী বেশি। চায়নিজ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কভিড-১৯ আক্রান্ত ৭৮ জন রোগীকে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, যাদের ধূমপান করার ইতিহাস রয়েছে অন্যদের তুলনায় তাদের নিউমোনিয়া আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ১৪ গুন বেশি।

পিরজাদা বলেন, বহু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে ধূমপান ফুসফুসে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল করে দেয়। যারা নিয়মিত ধূমপান করেন তাদের গলা পরিষ্কার ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়।

চ্যাপেল হিলের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনার কোষ জীববিজ্ঞান ও শারীরবিদ্যার অধ্যাপক রবার্ট ট্যারান বলেন, ধূমপানকে ইনফ্লুয়েঞ্জার একটি রিস্ক ফ্যাক্টর বিবেচনা করা হয়। ধূমপায়ীদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়। এতে শ্বাসতন্ত্রে অতিরিক্ত মিউকাস তৈরি হয়, কিন্তু ফুসফুস পরিষ্কার হয় না। এছাড়া ফুসফুসে প্রদাহ সৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়, রোগ প্রতিরোধী কোষগুলোতে পরিবর্তন আসে। সব কিছু মিলিয়ে পুরো ব্যবস্থায় যে প্রভাব পড়ে তাতে ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং সংক্রমিত হলে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ভ্যাপার নিয়েও এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। 

স্যান ফ্রান্সিসকোর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্টার ফর টোব্যাকো কন্ট্রোল রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশনের পরিচালক সান্তোস গ্লানৎজ বলেন, আমার মনে হয়, এখনই ধূমপান ও ভ্যাপিং বন্ধ করার মতো সচেতনতা দরকার। আমাদের হাতে শক্ত দলিল নেই কিন্তু সাধারণভাবে আমরা সবাই ধূমপানের ক্ষতির ব্যাপারে জানি। আর সম্প্রতি চীনের একটি গবেষণায় কভিড-১৯ ও ধূমপানের মধ্যকার একটি সম্পর্ক জানা গেছে। সুতরাং ঝুঁকি কমাতে এই গবেষণাটি সবার বিবেচনা করা উচিত।

সূত্র: সায়েন্টিফিক আমেরিকান

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন