মঙ্গলবার| এপ্রিল ০৭, ২০২০| ২২চৈত্র১৪২৬

করোনা

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ

বণিক বার্তা অনলাইন

বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশে নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে জরুরি ভিত্তিতে এবং কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এরই মধ্যে এই অঞ্চলে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সীমান্ত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে মহামারির প্রকোপ কমিয়ে আনতে যে কারো সংক্রমণের সন্দেহ হলেই কভিড-১৯ পরীক্ষা করানোর কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক ড. টেড্রোস অ্যাডহ্যানম গেব্রিয়েসুস। একই সঙ্গে সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের উৎপাদন বাড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তিনি। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রায় সবগুলো দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে নভেল করোনাভাইরাস। এসব দেশে মূলত প্রবাসী বা বিদেশী নাগরিকদের থেকেই ছড়িয়েছে এ ভাইরাস। অনেক প্রবাসীই দেশে এসে মানছেন না কোয়ারান্টাইন ব্যবস্থা। ভয়ে অথবা দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে পালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে। কভিড-১৯ পরীক্ষার কিটের অভাব রয়েছে, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণও পর্যাপ্ত নয়। এসব ব্যাপারে যদি এখনই ব্যবস্থা নেয়া না হয় তাহলে চীন বা ইউরোপের মতো মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে এই অঞ্চলের প্রতিটি দেশ।

টেড্রোস বলেন, উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা যেসব দেশের রয়েছে, তারাও করোনা মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে। কাজেই নিম্ন আয়ের দেশগুলো নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। কারণ, এসব দেশের মানুষকে এরই মধ্যে অপুষ্টি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। কাজেই করোনাভাইরাস মোকাবেলার সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হতে পারে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত করে দ্রুত তাদের আইসোলেশনে নেয়া। 

গতকাল মঙ্গলবার ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ডা. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং বলেছেন, পরিস্থিতি দ্রুতই বদলে যাচ্ছে। ভাইরাসটির বিস্তার রোধে আমাদের এখনই জরুরি ভিত্তিতে যথাযোগ্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

ডব্লিউএইচওর ভাষ্যমতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়লেও তারা এ ব্যাপারে বেশ উদাসীন। তার ওপর অনেক দেশেই পরীক্ষার উপকরণের ঘাটতি রয়েছে। কোনো কোনো দেশে মৃদু উপসর্গ নিয়ে আসা সন্দেহভাজন রোগীদের পরীক্ষা করা হচ্ছে না।

বর্তমানে এই অঞ্চলে সর্বাধিক আক্রান্তের দেশ মালয়েশিয়া। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়ার আগে পর্যন্ত হয়ত কোনো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে না। এমন কি সামাজিক দূরত্বের ব্যবস্থাও করা হয়নি। নিয়মিত ধর্মীয় সমাবেশে যাচ্ছে প্রায় ১৬ হাজার মানুষ। দেশটি বর্তমনে ভ্রমণকারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে সীমানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ৬৭৩ এবং মারা গেছেন ২ জন। 

ইন্দোনেশিয়ায় এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের আক্রান্ত হয়েছেন ১৭২ জন। দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, যাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য তিনি ভাইরাসটির বিস্তার সম্পর্কে ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করেছিলেন।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে ফেব্রুয়ারির শুরুতে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে হালকাভাবে নিলেও এখন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। রাজধানী ম্যানিলায় লক্ষাধিক সন্দেহভাজনকে কোয়ারান্টাইনে রাখার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে ১৭৭ জন, ভারতে ১৪২, শ্রীলঙ্কায় ১৯, মালদ্বীপে ১৩, বাংলাদেশে ১০, নেপাল ও ভুটানে ১ জন করে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। মিয়ানমারে এখনো কেউ আক্রান্ত হয়নি। তবে করোনা যে আঘাত হানবে না এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।  

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া প্রতিহত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি সন্দেহভাজন শনাক্ত করা, পরীক্ষা করা, আলাদা করা, চিকিৎসা করা এবং রোগীর সংস্পর্শে যারা এসেছিল, তাদের শনাক্ত করা।

সূত্র: বিবিসি

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন