মঙ্গলবার| এপ্রিল ০৭, ২০২০| ২২চৈত্র১৪২৬

করোনা

কভিড-১৯: দরকার বয়স্কদের প্রতি বাড়তি নজর

বণিক বার্তা অনলাইন

নভেল করোনাভাইরাসে যে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন, তবে এখন পর্যন্ত তথ্যউপাত্ত বলছে ষাটোর্ধ্বদের ঝুঁকি বেশি। এ বয়সে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিতেই কমে যায়, ফলে ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে এই বয়সের কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে দ্রুত পরিস্থিতি জটিল হয়ে যেতে পারে। তাই বাড়ির বয়স্কদের প্রতি আলাদা  নজর রাখতে হবে। বয়স্কদের নিরাপদ রাখতে কিছু স্বাস্থ্যবিধি ও নির্দেশনা মেনে চলাটা জরুরি। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স্কদের মধ্যে যারা নানা ক্রনিক অসুখে ভুগছেন তারা কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলে অবস্থা গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। আর যাদের বয়স ৮০ পেরিয়ে গেছে তাদের জন্য চাই সর্বোচ্চ সতর্কতা। 

‘জামা’ চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, চীনে আক্রান্ত ৭২ হাজারের বেশি সংখ্যক রোগীর মধ্যে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, করোনাভাইরাসে মৃত্যুহার ২ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে বয়স্ক যাদের বয়স ৮০ বছরের বেশি তাদের মধ্যে মৃত্যুহার ১৫ শতাংশ। 

আপনি যদি এমন একটি কমিউনিটিতে বসবাস করেন যেখানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে সেখানে বয়স্কদের প্রতি নিচে উল্লেখিত পরামর্শগুলো মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা:

যারা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন ও ডাক্তার দেখান তারা খুব জরুরি না হলে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করুন

সামনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপে ভিডিও কলের মাধ্যমে সারুন। এই সুযোগে টেলিহেলথ প্রযুক্তিটির সুবিধা নিতে পারেন

শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে খুব উৎকণ্ঠা হলে বন্ধু, প্রিয়জন বা সহকর্মী অথবা প্রতিবেশীকে জানান। চিকিৎসকের কাছে যেতে হলে বা কোনো পরামর্শের দরকার হলে ৪০ বা তার কম বয়সী কাউকে পাঠান।

আর বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার মতো ফ্লুর মৌসুমের সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলুন

জনসমাগম স্থল, যেখানে সাধারণ লোকজন জড়ো হয় এবং যথেষ্ট বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা নেই সেখানে রোগ জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। এমন স্থান এড়িয়ে চলুন

আক্রান্ত এলাকায় বসবাস করলে ঘরে অবস্থান করাই ভালো

মানুষের কাছ থেকে কয়েক ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন

দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা নিতে হতে পারে এমনটি ভেবে স্থান নির্ধারণ করে রাখুন

অসুস্থ বোধ করলে হাসপাতাল, নার্সিং হোম বা ক্লিনিকে যাবেন না

গণপরিবহন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন, যতোটা সম্ভব ঘরে থাকুন

আরো তথ্য জানতে সরকারের করোনাভাইরাস হটলাইনে যোগাযোগ করুন

সামাজিক জীবন বিসর্জন দেয়ার প্রয়োজন নেই। কোথায় যাচ্ছেন সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন

বয়স্কদের হালকা ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া উচিত। আর সারা বছর যে নিয়মে খাওয়া এবং বিশ্রাম ও ঘুমের রুটিন সেটিই থাকবে 

জনসমাগম স্থলে যাওয়ার আগে ও বাড়িতে ফিরে অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন

বয়স্কদের কক্ষে প্রবেশের আগে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও হাত ধুয়ে নেয়া ভালো

যারা সেলফ আইসোলেশনে যাবেন তাদের জন্য পরামর্শ হলো:

পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে কোনোক্রমেই যোগাযোগ বন্ধ করা যাবে না। সঙ্গে সেলফোনটা ( ইন্টারনেট সংযোগসহ স্মার্টফোন) যেন অবশ্যই থাকে

শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়মিত জানাতে হবে এবং একঘেঁয়েমি কাটাতে অবশ্যই যোগাযোগ ও কথাবার্তা চালিয়ে যেতে হবে

পরিবারের সদস্যদের দায়িত্ব হলো:

কখন কী প্রয়োজন তার খোঁজ নেয়া এবং সরবরাহ করা

অসুস্থ হয়ে পড়লে কোথায় কীভাবে রেখে চিকিৎসা ও যত্নআত্তি নেয়া হবে তার পরিকল্পনা করা। কে তার খোঁজখবর ও যত্ন নেবে সেটি ঠিক করে নেয়া।

যদি টেলিমেডিসিন অ্যাপয়েন্টমেন্টের দরকার হয় তাহলে তিনি সেটি ব্যবহার করতে পারেন কিনা জেনে নিন। ভিডিও কলে কীভাবে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে হয় সেটি শিখিয়ে দিন।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) নির্দেশনা অবলম্বনে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন