মঙ্গলবার | মে ২৬, ২০২০ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শেয়ারবাজার

প্রযুক্তি ও গ্রাহকসেবায় এমটিবিকে শীর্ষে নিয়ে যেতে চাই

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান

ব্যবস্থাপনা পরিচালক

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড (এমটিবি)

সম্প্রতি এমটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ব্যাংকটিতে যোগ দেয়ার আগে তিনি ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০১৮-১৯ মেয়াদে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স ব্যাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর শেষে ১৯৮৮ সালে সৌদি-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডে মনিটরিং অফিসার হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড, এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক সিটি ব্যাংক এনএতে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি তিনি বণিক বার্তার সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় দেশের ব্যাংকিং খাত পুঁজিবাজার নিয়ে তার অভিমত তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মেহেদী হাসান রাহাত

সার্বিকভাবে দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ জানতে চাই।

স্বাধীনতার পর আমরা ব্যাংকের রাষ্ট্রীয়করণ দেখেছি। পরবর্তী সময়ে আশির দশকে একদিকে আমরা ডিজ ইনভেস্টমেন্ট দেখেছি, অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়। নব্বইয়ের দশকে আরো কিছু ব্যাংক যোগ হয়েছে। বছর সাতেক আগে আরো কিছু ব্যাংক এসেছে। সর্বশেষ সম্প্রতি আরো একটি ব্যাংক লাইসেন্স পেয়েছে। এছাড়া সামনে আরো হয়তো আসবে। একটা সময় পর্যন্ত সরকারি ব্যাংকগুলোয় সমস্যা ছিল। এগুলোর সুশাসনের ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল, খেলাপি ঋণ বেশি ছিল। কিন্তু যেহেতু আমরা একই সমাজে বসবাস করছি, একসময় এসে দেখা গেল, সরকারি ব্যাংকগুলোর সমস্যা বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতেও সংক্রমিত হয়েছে। নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) বা খেলাপি ঋণ বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত খেলাপি ঋণের হার ছিল ১১ দশমিক শতাংশ। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ডিসেম্বর শেষে এটি কমে সাড়ে শতাংশের মতো দাঁড়িয়েছে। মূলত ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের কারণেই খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছে। আমার জানামতে, গত বছর ৫০ হাজার কোটি টাকার মতো ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। এর মধ্যে শতাংশ সুদে পুনঃতফসিল করা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকার মতো। কিন্তু পুনঃতফসিল করা ঋণগুলোর ফলাফল কী আসে, সেটি দেখার জন্য আরো বেশ কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। এর আগেও ২০১৫ সালে বড় আকারের ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেগুলো আবারো খেলাপি হয়েছে। আসলে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে খেলাপি ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। তাছাড়া ব্যাংকারদের সক্ষমতার ঘাটতি এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতার মতো বিষয়গুলোও এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। আমরা ব্যাংকারও অনেক সময় অনেক ক্ষেত্রে কম্প্রোমাইজ করেছি, সেটি অস্বীকার করার কিছু নেই। এখানে এককভাবে কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। ব্যাংকার, পরিচালক, ঋণগ্রহীতা নিয়ন্ত্রক সংস্থা সবারই এখানে ভূমিকা ছিল। খেলাপি ঋণকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সেটি আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রয়োজনে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি যারা, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য আমরা ব্যবস্থা নিতে গেলেই আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসে, তখন ঋণ আদায় প্রক্রিয়াটি থমকে যায়। এজন্য আমরা আইন কমিশনকে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদালতে জমা দিয়ে তারপর যাতে স্থগিতাদেশের সুযোগ রাখা হয়। এতে কিছুটা হলেও টাকা আদায় হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন যে ব্যাংকের সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে আর কারণে ব্যাংকগুলোর মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বাড়ছে। অন্যদিকে দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী কিন্তু ব্যাংকিং সিস্টেমের বাইরে রয়ে গেছে।

দেখুন, ব্যাংকিং সিস্টেমের পরিধি কিন্তু আপনি এজেন্ট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, শাখা উপশাখার মাধ্যমেও বাড়াতে পারেন। এজন্য নতুন করে ব্যাংক অনুমোদনের প্রয়োজন নেই বলে আমি মনে করি। হয়তো বলতে পারেন যে নতুন ব্যাংক হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সেটি তো এজেন্ট ব্যাংকিং, শাখা উপশাখার মাধ্যমেও সৃষ্টি করা সম্ভব। ব্যাংকিং সিস্টেমের আওতা বাড়ানোটাই হচ্ছে মূল বিষয়।

এসএমই খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। অথচ খাতের উদ্যোক্তারা অনেক সময় অভিযোগ করেন যে তারা প্রয়োজনের সময় তহবিল পাচ্ছেন না। খাতে ব্যাংকের অর্থায়ন আরো বাড়ানো যায় কীভাবে?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা রয়েছেএকটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আপনাকে এসএসই খাতে বিনিয়োগ করতেই হবে। যদি নির্ধারিত অর্থ আপনি বিনিয়োগ করতে না পারেন, তাহলে সে পরিমাণ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেটে রাখবে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো এসএমই খাতে অর্থয়ন করছি। শুধু এসএমই না, মাইক্রো কটেজ খাতের উদ্যোক্তাদেরও আমরা অর্থায়ন করছি। অনেক ব্যাংকই এসএমই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াচ্ছে। সামনের দিনগুলোয় এটি আরো বাড়বে।

সামনের মাস থেকেই ঋণ আমানতের সুদহার নয়-ছয় বাস্তবায়ন করতে হবে। ব্যাংকিং খাতে এর প্রভাব কী হবে বলে আপনি মনে করছেন?

দেখুন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সুদহার কমাতে হবে, সেটির সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু এটি কমাতে হবে বাজারের মাধ্যমেই। প্রথমে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে উত্পাদন খাতে বড় আকারের ঋণের ক্ষেত্রে এটি বাস্তবায়নের জন্য। কিন্তু বড় ঋণের ক্ষেত্রে সুবিধা দিলে ছোট আকারের ঋণগ্রহীতারা মনে করতে পারে যে তাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে। কারণে সেটি করা হয়নি। পরে আমরা স্মল রিটেইল ঋণকে এর আওতার বাইরে রাখার কথা বলেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব খাতের নয়-ছয় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খেলাপি ঋণের বিপরীতে আমাদের সঞ্চিতি রাখতে হয়। নয়-ছয় বাস্তবায়ন করতে হলে খেলাপি ঋণের পরিমাণও কিন্তু কমাতে হবে। ২০১৬ সালে কেনিয়ায় এভাবে ঋণের সুদহার বেঁধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। শেষ পর্যন্ত গত বছরের ডিসেম্বরে সুদের বিষয়টি আবারো বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। নয়-ছয় সুদহার বাস্তবায়ন হলে ব্যাংকগুলোর হয়তো লোকসান হবে না, কিন্তু মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। মুনাফা কমে গেলে ব্যাংকের কর প্রদানের পরিমাণও কমবে। তাছাড়া আমাদের দেশে রেমিট্যান্স হিসেবে যে অর্থ আসে এর উল্লেখযোগ্য একটি অংশ কিন্তু ব্যাংকে আমানত হিসেবে রাখছে। সুদহার কমে গেলে তখন অনেকেই ব্যাংকে আমানত রাখতে নিরুত্সাহিত হবেন। এরই মধ্যে গত বছরের তুলনায় বছর ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। অর্থবছর শেষ হতে এখনো চার মাস বাকি আছে। সামনের দিনগুলোয় সরকারের ঋণ আরো বাড়বে। কিন্তু নয়-ছয় বাস্তবায়নের ফলে যদি আমানতের পরিমাণ কমে যায়, তাহলে ব্যাংকগুলোর অর্থায়নের সক্ষমতাও কমে যাবে। যাহোক, আমরা নির্ধারিত সময়েই এটি বাস্তবায়ন শুরু করব। তখন ব্যাংকিং খাতে এর প্রভাব কী হয়, সেটি বোঝা যাবে। অবস্থা বেশি প্রতিকূলে চলে গেলে তখন সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চয় যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেবে।

ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএফআরএস)-১৬-তে কিছু পরিবর্তন এসেছে। নতুন নিয়ম অনুসারে অপারেটিং লিজের ক্ষেত্রে সেটি ব্যয় হিসেবে না দেখিয়ে সম্পদ হিসেবে দেখাতে হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকের ব্যালান্সশিটে পরিবর্তন আসবে...

পরিবর্তনের ফলে ব্যাংকের ওপর একটি প্রভাব তো পড়বেই। এটি মূলত জাহাজ কোম্পানিগুলোর জন্য বেশি প্রযোজ্য। ব্যাংকের খুব বেশি লিজ অ্যাসেট নেই। এরই মধ্যে বিষয়ে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ব্যাংকগুলোকে এক্ষেত্রে অব্যাহতি দেয়ার জন্য আমরা আবেদন করেছি। বিষয়ে আমরা যে সিদ্ধান্তই নিই, সেটি ডিসক্লোজারের মাধ্যমে জানানো হবে।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের জন্য তহবিল গঠনে নীতিমালা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলো বিষয়ে কেমন সাড়া দেবে বলে মনে করছেন?

দেখুন, পুঁজিবাজারের মূল সমস্যার দিকে নজর দিতে হবে। এখানে সুশাসনের অভাব রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি রয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডে মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারিত ছিল। কিন্তু হঠাত্ করেই এটিকে আরো ১০ বছরের জন্য বাড়ানো হলো। ধরনের নীতিগত বিষয়গুলোর ধারাবাহিকতা না থাকলে বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়। তখন যতই তহবিল দেয়া হোক না কেন, সেটি বাজারকে ভালো করতে পারবে না।

গত বছর নরওয়ের নরফান্ড এমটিবির শেয়ার কিনেছে। ব্যাংকের পর্ষদে তাদের প্রতিনিধিও রয়েছে। নরফান্ডের অন্তর্ভুক্তির ফলে এমটিবি ওপর কী প্রভাব ফেলবে?

এমটিবিতে নরফান্ডে অন্তর্ভুক্তির ফলে করপোরেট সুশাসন আরো সংহত হবে। তাদের কাছ থেকে ফিনটেকসহ বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিগত সুবিধা আমরা গ্রহণ করতে পারব। তাছাড়া ব্যাংকের পর্ষদের ধরনের বিদেশী প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্তির ব্র্যান্ড ইমেজকে আরো বাড়িয়ে দেয়। ফলে আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান আরো সংহত হবে।

ব্যাংকে প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। ভবিষ্যতের ব্যাংকিংয়ে প্রযুক্তির প্রভাব কেমন হবে?

বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে কাজ সহজতর হচ্ছে। আমরা রেভিনিউ বাড়াতে হলে, ব্যবসার পরিধি বাড়াতে হলে প্রযুক্তির বিকল্প নেই। গ্রাহককে সহজে দ্রুততার সঙ্গে সেবা দিতে গেলে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। আমরা সে লক্ষ্যেই এগোচ্ছি।

এমটিবি নিয়ে আপনার ভিশন কী?

আমাদের ব্যাংকের ব্র্যান্ড ইমেজ অনেক ভালো। ভবিষ্যতে সেটিকে আরো সংহত করতে চাই। তাছাড়া ফিনটেকসহ নতুন নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা গ্রাহককে আরো ভালো সেবা দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রযুক্তি সেবার দিক দিয়ে আমরা শীর্ষে যেতে চাই।

গত বছর ব্যাংকগুলোর পারফরম্যান্স কেমন হয়েছে?

এরই মধ্যে আমরা দেখেছি যে অনেক ব্যাংকেরই পরিচালন মুনাফা বেড়েছে। কিন্তু এটি প্রকৃত চিত্র নয়। কারণ সঞ্চিতি সংরক্ষণের পরই প্রকৃত চিত্র বোঝা যাবে। তবে আমার মনে হয় যে আগের বছরের তুলনায় গত বছর ব্যাংকগুলোর পারফরম্যান্স কিছুটা ভালো হবে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্টক লভ্যাংশের ক্ষেত্রে করারোপ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে স্টক লভ্যাংশ প্রদানের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। বছর ব্যাংকগুলো কোন ধরনের লভ্যাংশকে প্রধান্য দেবে স্টক নাকি নগদ?

দেখুন, ব্যাংক চাইলেই সবসময় নগদ লভ্যাংশ দিতে পারে না। অনেক ব্যাংকেরই সঞ্চিতি ঘাটতি রয়েছে। আর সঞ্চিতি ঘাটতি থাকলে নগদ লভ্যাংশ দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে আমার মনে হয়, বছর ব্যাংকগুলোর নগদ লভ্যাংশ দেয়ার পরিমাণ বাড়বে।

এমটিবির ইতিবাচক নেতিবাচক দিক কী?

মুহূর্তে আমাদের নেতিবাচক দিকের কথা যদি বলতে হয় তাহলে সেটি হচ্ছে আমাদের সঞ্চিতি ঘাটতি রয়েছে। আর আমাদের ইতিবাচক দিক হচ্ছে যে আমাদের করপোরেট সুশাসন অত্যন্ত উঁচুমানের। আমাদের ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রমে পর্ষদের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। তাছাড়া আমরা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংকে গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের মানবসম্পদকেও আমরা সেভাবে গড়ে তুলছি।

আপনাকে ধন্যবাদ

বণিক বার্তাকেও ধন্যবাদ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

প্রযুক্তি গ্রাহকসেবায় এমটিবিকে শীর্ষে নিয়ে যেতে চাই

 

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান

ব্যবস্থাপনা পরিচালক

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড (এমটিবি)

সম্প্রতি এমটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। ব্যাংকটিতে যোগ দেয়ার আগে তিনি ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০১৮-১৯ মেয়াদে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স ব্যাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর শেষে ১৯৮৮ সালে সৌদি-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডে মনিটরিং অফিসার হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড, এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক সিটি ব্যাংক এনএতে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি তিনি বণিক বার্তার সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় দেশের ব্যাংকিং খাত পুঁজিবাজার নিয়ে তার অভিমত তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মেহেদী হাসান রাহাত

সার্বিকভাবে দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ জানতে চাই।

স্বাধীনতার পর আমরা ব্যাংকের রাষ্ট্রীয়করণ দেখেছি। পরবর্তী সময়ে আশির দশকে একদিকে আমরা ডিজ ইনভেস্টমেন্ট দেখেছি, অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়। নব্বইয়ের দশকে আরো কিছু ব্যাংক যোগ হয়েছে। বছর সাতেক আগে আরো কিছু ব্যাংক এসেছে। সর্বশেষ সম্প্রতি আরো একটি ব্যাংক লাইসেন্স পেয়েছে। এছাড়া সামনে আরো হয়তো আসবে। একটা সময় পর্যন্ত সরকারি ব্যাংকগুলোয় সমস্যা ছিল। এগুলোর সুশাসনের ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল, খেলাপি ঋণ বেশি ছিল। কিন্তু যেহেতু আমরা একই সমাজে বসবাস করছি, একসময় এসে দেখা গেল, সরকারি ব্যাংকগুলোর সমস্যা বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতেও সংক্রমিত হয়েছে। নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) বা খেলাপি ঋণ বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত খেলাপি ঋণের হার ছিল ১১ দশমিক শতাংশ। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ডিসেম্বর শেষে এটি কমে সাড়ে শতাংশের মতো দাঁড়িয়েছে। মূলত ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের কারণেই খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছে। আমার জানামতে, গত বছর ৫০ হাজার কোটি টাকার মতো ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। এর মধ্যে শতাংশ সুদে পুনঃতফসিল করা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকার মতো। কিন্তু পুনঃতফসিল করা ঋণগুলোর ফলাফল কী আসে, সেটি দেখার জন্য আরো বেশ কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। এর আগেও ২০১৫ সালে বড় আকারের ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেগুলো আবারো খেলাপি হয়েছে। আসলে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে খেলাপি ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। তাছাড়া ব্যাংকারদের সক্ষমতার ঘাটতি এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতার মতো বিষয়গুলোও এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। আমরা ব্যাংকারও অনেক সময় অনেক ক্ষেত্রে কম্প্রোমাইজ করেছি, সেটি অস্বীকার করার কিছু নেই। এখানে এককভাবে কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। ব্যাংকার, পরিচালক, ঋণগ্রহীতা নিয়ন্ত্রক সংস্থা সবারই এখানে ভূমিকা ছিল। খেলাপি ঋণকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সেটি আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রয়োজনে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি যারা, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য আমরা ব্যবস্থা নিতে গেলেই আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসে, তখন ঋণ আদায় প্রক্রিয়াটি থমকে যায়। এজন্য আমরা আইন কমিশনকে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদালতে জমা দিয়ে তারপর যাতে স্থগিতাদেশের সুযোগ রাখা হয়। এতে কিছুটা হলেও টাকা আদায় হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন যে ব্যাংকের সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে আর কারণে ব্যাংকগুলোর মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বাড়ছে। অন্যদিকে দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী কিন্তু ব্যাংকিং সিস্টেমের বাইরে রয়ে গেছে।

দেখুন, ব্যাংকিং সিস্টেমের পরিধি কিন্তু আপনি এজেন্ট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, শাখা উপশাখার মাধ্যমেও বাড়াতে পারেন। এজন্য নতুন করে ব্যাংক অনুমোদনের প্রয়োজন নেই বলে আমি মনে করি। হয়তো বলতে পারেন যে নতুন ব্যাংক হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সেটি তো এজেন্ট ব্যাংকিং, শাখা উপশাখার মাধ্যমেও সৃষ্টি করা সম্ভব। ব্যাংকিং সিস্টেমের আওতা বাড়ানোটাই হচ্ছে মূল বিষয়।

এসএমই খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। অথচ খাতের উদ্যোক্তারা অনেক সময় অভিযোগ করেন যে তারা প্রয়োজনের সময় তহবিল পাচ্ছেন না। খাতে ব্যাংকের অর্থায়ন আরো বাড়ানো যায় কীভাবে?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা রয়েছেএকটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আপনাকে এসএসই খাতে বিনিয়োগ করতেই হবে। যদি নির্ধারিত অর্থ আপনি বিনিয়োগ করতে না পারেন, তাহলে সে পরিমাণ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেটে রাখবে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো এসএমই খাতে অর্থয়ন করছি। শুধু এসএমই না, মাইক্রো কটেজ খাতের উদ্যোক্তাদেরও আমরা অর্থায়ন করছি। অনেক ব্যাংকই এসএমই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াচ্ছে। সামনের দিনগুলোয় এটি আরো বাড়বে।

সামনের মাস থেকেই ঋণ আমানতের সুদহার নয়-ছয় বাস্তবায়ন করতে হবে। ব্যাংকিং খাতে এর প্রভাব কী হবে বলে আপনি মনে করছেন?

দেখুন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সুদহার কমাতে হবে, সেটির সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু এটি কমাতে হবে বাজারের মাধ্যমেই। প্রথমে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে উত্পাদন খাতে বড় আকারের ঋণের ক্ষেত্রে এটি বাস্তবায়নের জন্য। কিন্তু বড় ঋণের ক্ষেত্রে সুবিধা দিলে ছোট আকারের ঋণগ্রহীতারা মনে করতে পারে যে তাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে। কারণে সেটি করা হয়নি। পরে আমরা স্মল রিটেইল ঋণকে এর আওতার বাইরে রাখার কথা বলেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব খাতের নয়-ছয় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খেলাপি ঋণের বিপরীতে আমাদের সঞ্চিতি রাখতে হয়। নয়-ছয় বাস্তবায়ন করতে হলে খেলাপি ঋণের পরিমাণও কিন্তু কমাতে হবে। ২০১৬ সালে কেনিয়ায় এভাবে ঋণের সুদহার বেঁধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। শেষ পর্যন্ত গত বছরের ডিসেম্বরে সুদের বিষয়টি আবারো বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। নয়-ছয় সুদহার বাস্তবায়ন হলে ব্যাংকগুলোর হয়তো লোকসান হবে না, কিন্তু মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। মুনাফা কমে গেলে ব্যাংকের কর প্রদানের পরিমাণও কমবে। তাছাড়া আমাদের দেশে রেমিট্যান্স হিসেবে যে অর্থ আসে এর উল্লেখযোগ্য একটি অংশ কিন্তু ব্যাংকে আমানত হিসেবে রাখছে। সুদহার কমে গেলে তখন অনেকেই ব্যাংকে আমানত রাখতে নিরুত্সাহিত হবেন। এরই মধ্যে গত বছরের তুলনায় বছর ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। অর্থবছর শেষ হতে এখনো চার মাস বাকি আছে। সামনের দিনগুলোয় সরকারের ঋণ আরো বাড়বে। কিন্তু নয়-ছয় বাস্তবায়নের ফলে যদি আমানতের পরিমাণ কমে যায়, তাহলে ব্যাংকগুলোর অর্থায়নের সক্ষমতাও কমে যাবে। যাহোক, আমরা নির্ধারিত সময়েই এটি বাস্তবায়ন শুরু করব। তখন ব্যাংকিং খাতে এর প্রভাব কী হয়, সেটি বোঝা যাবে। অবস্থা বেশি প্রতিকূলে চলে গেলে তখন সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চয় যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেবে।

ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএফআরএস)-১৬-তে কিছু পরিবর্তন এসেছে। নতুন নিয়ম অনুসারে অপারেটিং লিজের ক্ষেত্রে সেটি ব্যয় হিসেবে না দেখিয়ে সম্পদ হিসেবে দেখাতে হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকের ব্যালান্সশিটে পরিবর্তন আসবে...

পরিবর্তনের ফলে ব্যাংকের ওপর একটি প্রভাব তো পড়বেই। এটি মূলত জাহাজ কোম্পানিগুলোর জন্য বেশি প্রযোজ্য। ব্যাংকের খুব বেশি লিজ অ্যাসেট নেই। এরই মধ্যে বিষয়ে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ব্যাংকগুলোকে এক্ষেত্রে অব্যাহতি দেয়ার জন্য আমরা আবেদন করেছি। বিষয়ে আমরা যে সিদ্ধান্তই নিই, সেটি ডিসক্লোজারের মাধ্যমে জানানো হবে।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের জন্য তহবিল গঠনে নীতিমালা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলো বিষয়ে কেমন সাড়া দেবে বলে মনে করছেন?

দেখুন, পুঁজিবাজারের মূল সমস্যার দিকে নজর দিতে হবে। এখানে সুশাসনের অভাব রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি রয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডে মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারিত ছিল। কিন্তু হঠাত্ করেই এটিকে আরো ১০ বছরের জন্য বাড়ানো হলো। ধরনের নীতিগত বিষয়গুলোর ধারাবাহিকতা না থাকলে বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়। তখন যতই তহবিল দেয়া হোক না কেন, সেটি বাজারকে ভালো করতে পারবে না।

গত বছর নরওয়ের নরফান্ড এমটিবির শেয়ার কিনেছে। ব্যাংকের পর্ষদে তাদের প্রতিনিধিও রয়েছে। নরফান্ডের অন্তর্ভুক্তির ফলে এমটিবি ওপর কী প্রভাব ফেলবে?

এমটিবিতে নরফান্ডে অন্তর্ভুক্তির ফলে করপোরেট সুশাসন আরো সংহত হবে। তাদের কাছ থেকে ফিনটেকসহ বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিগত সুবিধা আমরা গ্রহণ করতে পারব। তাছাড়া ব্যাংকের পর্ষদের ধরনের বিদেশী প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্তির ব্র্যান্ড ইমেজকে আরো বাড়িয়ে দেয়। ফলে আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান আরো সংহত হবে।

ব্যাংকে প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। ভবিষ্যতের ব্যাংকিংয়ে প্রযুক্তির প্রভাব কেমন হবে?

বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে কাজ সহজতর হচ্ছে। আমরা রেভিনিউ বাড়াতে হলে, ব্যবসার পরিধি বাড়াতে হলে প্রযুক্তির বিকল্প নেই। গ্রাহককে সহজে দ্রুততার সঙ্গে সেবা দিতে গেলে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। আমরা সে লক্ষ্যেই এগোচ্ছি।

এমটিবি নিয়ে আপনার ভিশন কী?

আমাদের ব্যাংকের ব্র্যান্ড ইমেজ অনেক ভালো। ভবিষ্যতে সেটিকে আরো সংহত করতে চাই। তাছাড়া ফিনটেকসহ নতুন নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা গ্রাহককে আরো ভালো সেবা দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রযুক্তি সেবার দিক দিয়ে আমরা শীর্ষে যেতে চাই।

গত বছর ব্যাংকগুলোর পারফরম্যান্স কেমন হয়েছে?

এরই মধ্যে আমরা দেখেছি যে অনেক ব্যাংকেরই পরিচালন মুনাফা বেড়েছে। কিন্তু এটি প্রকৃত চিত্র নয়। কারণ সঞ্চিতি সংরক্ষণের পরই প্রকৃত চিত্র বোঝা যাবে। তবে আমার মনে হয় যে আগের বছরের তুলনায় গত বছর ব্যাংকগুলোর পারফরম্যান্স কিছুটা ভালো হবে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্টক লভ্যাংশের ক্ষেত্রে করারোপ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে স্টক লভ্যাংশ প্রদানের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। বছর ব্যাংকগুলো কোন ধরনের লভ্যাংশকে প্রধান্য দেবে স্টক নাকি নগদ?

দেখুন, ব্যাংক চাইলেই সবসময় নগদ লভ্যাংশ দিতে পারে না। অনেক ব্যাংকেরই সঞ্চিতি ঘাটতি রয়েছে। আর সঞ্চিতি ঘাটতি থাকলে নগদ লভ্যাংশ দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে আমার মনে হয়, বছর ব্যাংকগুলোর নগদ লভ্যাংশ দেয়ার পরিমাণ বাড়বে।

এমটিবির ইতিবাচক নেতিবাচক দিক কী?

মুহূর্তে আমাদের নেতিবাচক দিকের কথা যদি বলতে হয় তাহলে সেটি হচ্ছে আমাদের সঞ্চিতি ঘাটতি রয়েছে। আর আমাদের ইতিবাচক দিক হচ্ছে যে আমাদের করপোরেট সুশাসন অত্যন্ত উঁচুমানের। আমাদের ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রমে পর্ষদের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। তাছাড়া আমরা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংকে গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের মানবসম্পদকেও আমরা সেভাবে গড়ে তুলছি।

আপনাকে ধন্যবাদ

বণিক বার্তাকেও ধন্যবাদ

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন