শুক্রবার | জুন ০৫, ২০২০ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ভ্রমণ

স্পেনের স্টোনহেঞ্জ

ফিচার ডেস্ক

২০১৯- ইউরোপ প্রত্যক্ষ করেছে অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়া। স্পেনের সাতটি আবহাওয়া কেন্দ্র গত বছরের জুনে তাদের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। এটা ছিল গড় তাপমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। জুলাই-আগস্টে দেশজুড়ে খরা পরিস্থিতি বিরাজ করেছে। খরা স্পেনের ক্যাসেরাস প্রদেশে এক অদ্ভুত দৃশ্য সামনে আনে। টেগাস নদীতে পানি হ্রাস পাওয়ায় ভালদেকানাস জলাধারে ভেসে ওঠে চার থেকে সাত হাজার বছরের পুরনো এক বৃত্তাকার স্থাপনা। স্থাপনা ডোলমেন অব গুয়াডালপেরাল বা স্প্যানিশ স্টোনহেঞ্জ নামে পরিচিত।

স্প্যানিশ স্টোনহেঞ্জ একটি মেগালিথিক স্থাপনা, এতে আছে ১০০টির বেশি দাঁড় করানো গ্রানাইট খণ্ড। এসব খণ্ডের কোনো কোনোটি দশমিক মিটার লম্বা, খণ্ডগুলো ২৬ মিটার ব্যাসে বৃত্তাকারে সজ্জিত।

এটি খুব সম্ভবত মন্দির হিসেবে ব্যবহার হতো। একই সঙ্গে এটি ছিল সমাধিক্ষেত্র এবং বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবেও হয়তো ব্যবহার হতো। নদীতীরে যেখানে এর অবস্থান, তাতে শেষোক্ত ধারণাটি জোরদার হয়। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, রোমানরা স্থাপনায় কিছু ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল।

১৯২০-এর দশকে জার্মান গবেষক হুগো ওবারমেয়ার স্থানে খননকাজ চালিয়েছিলেন এবং উদ্ধারকৃত কিছু নমুনা বার্লিনে নিয়ে গিয়েছিলেন প্রদর্শনীর জন্য। হুগোর গবেষণা ১৯৬০ সালের আগে প্রকাশিত হয়নি। তিন বছর পরে অঞ্চল ভালদেকানাস জলাধার নির্মাণের কারণে পানির নিচে চলে যায়। স্থানীয়দের জন্য পানি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে জলাধার নির্মাণ করা হয়েছিল। মেগালিথিক স্টোনহেঞ্জ এভাবে পানির নিচে চলে যায়। গ্রীষ্মে পানি নেমে গেলে হয়তো মাঝে মাঝে সবচেয়ে লম্বা প্রস্তর খণ্ডটির চূড়াটি দেখা যেত। কিন্তু ২০১৯ সালের খরায় ৬০ বছর পর ডোলমেন অব গুয়াডালপেরাল বা স্প্যানিশ স্টোনহেঞ্জ পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

ডোলমেন অব গুয়াডালপেরাল দৃশ্যমান হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকরা বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন এটি দেখতে। একই সঙ্গে পর্যটকদের এই আনগোনা কিছু দুশ্চিন্তাও বয়ে আনে। স্থাপনাটি ঘিরে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই, তাই যে কেউ প্রস্তরখণ্ডগুলো স্পর্শ করতে পারছিলেন। এতে হুমকিতে পড়ে কয়েক হাজার বছর পুরনো স্থাপনা। 

কয়েক দশক পানির নিচে থাকায় গ্রানাইট পাথরগুলো ক্ষয় হতে শুরু করেছে। অনেক পাথরে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটা পাথর উল্টে পড়েও গেছে। পরিস্থিতিতে স্থানীয় শহর পেরালেদা দে লা মাতার বাসিন্দাদের একটি প্রতিনিধি দল স্পেনের সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে যেন পাথরের খণ্ডগুলো কোনো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। তারা এক অনলাইন পিটিশন দিয়েছে, যেখানে ৪৪ হাজার মানুষ স্বাক্ষর করেছে। তবে স্পেনের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ইউনিভার্সিটি অব এক্সট্রিমাদুরার একটি গবেষক দল পাথরগুলো স্থানান্তরকে সেগুলোর জন্য ক্ষতিকর হিসেবে দেখছে। চেষ্টা হচ্ছে প্রস্তরখণ্ডগুলোকে সাংস্কৃতিক সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করার। এতে নিদর্শনটি সরকারিভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

সর্বশেষ খবর হলো, কয়েক মাস আগে বৃষ্টির পর ডোলমেন অব গুয়াডালপেরাল আবার জলাধারের পানির নিচে চলে গেছে।

 

সূত্র: বিবিসি ট্রাভেল

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন