বৃহস্পতিবার | অক্টোবর ০১, ২০২০ | ১৬ আশ্বিন ১৪২৭

খবর

রাজীবের মুত্যুর মামলা পুলিশ প্রতিবেদনে অসন্তোষ পরিবারের

আদালত প্রতিবেদক

দুই বাসের রেষারেষির চালনায় তিতুমীর কলেজের স্নাতক বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেনের ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর মৃত্যুর মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন অসন্তোষ প্রকাশ করে নারাজি দাখিল করেছেন বাদী।

আজ বুধবার মামলার বাদী নিহত রাজীবের মামা জাহিদুল ইসলাম এ নারাজি দাখিল করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত অথবা পুলিশের অপর কোন সংস্থাকে দিয়ে অধিকতর তদন্তের আবেদন করেছেন।

ঢাকা মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী ওই নারাজির বিষয়ে আগামী ১ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

বাদী পক্ষে বেসরকারি এনজিও ব্লাস্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস ও মশিউর রহমান নারাজি দাখিল করেন। 

নারাজিতে বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই ইদ্রিস আলী মামলার ঘটনা সঠিকভাবে তদন্ত না করে রাজীবের আত্মীয়, পরিবার ও স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ না করে হাইকোর্টের আদেশে গঠন করা তদন্ত টিমের প্রতিবেদন, পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ না করে ঘরে বসে আসামিদের কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে চার্জশিট দাখিল করেছেন। রাজীবের এজাহার তার চাচা জাহির হোসেন থানায় নিয়ে যান। এজাহারে তার নাম রয়েছে। তাকে সাক্ষী করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ ছিল অথচ তদন্ত কর্মকর্তা তাকে চার্জশিটে সাক্ষী করেননি। ঘটনার পর রাজীবের সাথে দুর্ঘটনা সম্পর্কে কথা বলেছিলেন তার খালা খাদিজা বেগম লিপি। তাকেও সাক্ষী করা হয়নি।

রাজীবকে শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া আলা উদ্দিন হাছান, রাজীবের ভাই মেহেদী হাসান (বাপ্পী), মামা জাহিদুল ইসলাম, খালা জাহানারা বেগমকে সাক্ষীর তালিকায় রাখা হলেও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ না করে তদন্ত কর্মকর্তা মনগড়াভাবে তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। দুই বাস চালকের দুষ্টু অভিপ্রায় না থাকলেও অপরাধমূলক জ্ঞান বিদ্যমান ছিল। দুই বাস চালকই জানতেন তাদের রেষারেষি ও পাল্লাপাল্লিতে কেউ আহত বা নিহত হতে পারে। অথচ তদন্তকর্তা আসামিদের গুরুপাপে লঘুদণ্ড দেয়ার অসৎ অভিপ্রায়ে এ ধরনের স্বল্পমাত্রার শাস্তির ধারা চার্জশিটে সংযোজন করেছেন। তাই নারাজি আবেদন গ্রহণ করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে অথবা অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপর কোন সংস্থাকে দিয়ে মামলা অধিকতর তদন্তের আদেশ দেয়া প্রয়োজন।

এর আগে গত বছল ১৫ ডিসেম্বর শাহবাগ থানার এসআই ইদ্রিস আলী বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহেদ সরদার ওরফে অহেদ আলী ও স্বজন পরিবহনের বাসের চালক খোরশেদ আলম ওরফে খোরশেদকে অভিযুক্ত করে দণ্ডবিধির ২৭৯ ও ৩০৪(খ) ধারায় চার্জশিট দাখিল করেন।

২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন রাজধানীর মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন (২১)। হাতটি বেরিয়েছিল সামান্য বাইরে। হঠাৎই পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে গা ঘেঁষে ওভারটেক করার সময় রাজীবের ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দু-তিনজন পথচারী দ্রুত তাঁকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও বিচ্ছিন্ন হাতটি রাজীবের শরীরে আর জুড়ে দিতে পারেননি। পরে গত ১৬ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাজীব। মামলাটি প্রথম দণ্ডবিধির ২৭৯ ও ৩৩৮(ক) ধারায় দায়ের করা হয়। পরে রাজিব মারা যাওয়ায় ৩৩৮(ক) ধারা বাদ দিয়ে ৩০৪(ক) সংযোজন করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন