শুক্রবার| এপ্রিল ০৩, ২০২০| ১৮চৈত্র১৪২৬

প্রথম পাতা

মুক্তিযুদ্ধের সব প্রস্তুতি বঙ্গবন্ধু আগেই নিয়ে রেখেছিলেন : শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহান মুক্তিযুদ্ধের সব প্রস্তুতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আগেই নিয়ে রেখেছিলেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু জানতেন, একটা যুদ্ধ করতে হলে অস্ত্র দরকার, আর এ ধরনের যুদ্ধ করতে হলে শরণার্থীদের আশ্রয় দরকার, যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দরকার। আর প্রশিক্ষণ কোথায় হবে, অস্ত্র কীভাবে আসবে, কারা আমাদের মিত্রশক্তি হবে, কোথায় আশ্রয় পাবসব পরিকল্পনা তিনি করে দিয়েছিলেন।

গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পরবর্তী সময়ে লন্ডন গিয়েছিলেন। আর তার (বঙ্গবন্ধু) একটা ভবিষ্যদ্বাণী করার মতো অদ্ভুত শক্তি ছিল। তিনি বলতেন, আমরা নির্বাচনে জয়লাভ করব, ওরা আমাদের ক্ষমতা দেবে না। আমাদের যুদ্ধ করতে হবে। আমরা বিজয় অর্জন করব, দেশ স্বাধীন হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ৭ মার্চ সভার জন্য জোগাড়যন্ত্র করতে হয়নি। যে মুহূর্তে ইয়াহিয়া খান পার্লামেন্ট বন্ধ ঘোষণা করে দেয়, সেই মুহূর্তে এ দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে গিয়েছিল। এমনকি সে সময় স্টেডিয়ামে ক্রিকেট খেলা হচ্ছিল, তা-ও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, খেলা ফেলে দিয়ে সব মানুষ রাস্তায় এসেছিল। পাকিস্তানি শাসকরা ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করেছিল। কাজেই এর বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নেমেছিল।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সেদিন সবাইকে বলেছিলেন, ৭ মার্চ আমি আমার কথা বলব। সমস্ত বাংলাদেশ থেকে মানুষ ছুটে এসেছিল নেতা কী নির্দেশনা দেবেন সেটা জানার জন্য। আর সেই ভাষণের মধ্য দিয়ে তিনি সেই দিকনির্দেশনাই দিয়েছিলেন। এ দিকনির্দেশনার মধ্যে সবচেয়ে বড় কথা যেটা ছিল, সবাইকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়া। বাংলাদেশে যে গেরিলা যুদ্ধ হবে, সেই গেরিলা যুদ্ধ নিয়ে কী কী করতে হবে, খুব স্পষ্টভাবে তিনি সেই নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন। কার কী কাজ সেটাও তিনি বলেছিলেন।

১৯৭৫ সালের পর ইতিহাস বিকৃত করে বঙ্গবন্ধুর নাম ও অবদান মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এ বাংলাদেশে এমন একটা সময় ছিল, যখন ভাষা আন্দোলনে তার (বঙ্গবন্ধু) অবদান মুছে ফেলা হয়েছিল। একেবারে অস্বীকার করা হয়েছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তির সংগ্রামে তার যে অবদান, সেটাও মুছে ফেলা হয়েছিল। এমনভাবে বিকৃত ইতিহাস তৈরি করা হলো যে কোনো এক মেজর এক বাঁশির ফুঁ দিল আর অমনি যুদ্ধ হয়ে গেল, দেশ স্বাধীন হয়ে গেল। এ রকম বিকৃত ইতিহাস।

শেখ হাসিনা বলেন, আসলে সত্যকে কখনো কেউ মুছে ফেলতে পারে না। আর জাতির পিতা তো তার ৭ মার্চের ভাষণে বলেই গেছেন, সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। সত্য উদ্ভাসিত হবেই। আজকে সে সত্যটা মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের স্বীকৃতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সাত মার্চের ভাষণ, যে ভাষণ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ছিল। এখন তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিলে স্থান করে নিয়েছে। সাত মার্চের ভাষণ আড়াই হাজার বছরের যত ভাষণ তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ, যে ভাষণ জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছে স্বাধীনতার চেতনায়। যে ভাষণ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, আজকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সে ভাষণ স্বীকৃতি পেয়ে গেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা এ ভাষণ মুছে ফেলতে চেয়েছিল, নিষিদ্ধ করে রেখেছিল আমি জানি না তারা লজ্জা পায় কিনা। অবশ্য তাদের লাজলজ্জা আছে বলেও মনে হয় না।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আমি চাই মুজিব বর্ষে বাংলাদেশে একটা মানুষও গৃহহীন থাকবে না। সেখানে আমি অনুরোধ করব আপনারা যার যার নিজের গ্রামে নিজের এলাকায় একটু খোঁজ নেন, কয়টা মানুষ গৃহহীন আছে। কয়টা মানুষ ভূমিহীন। আপনারা একটু খুঁজে বের করেন। তাদের আমরা ঘর করে দেব। আপনারা পয়সা খরচ করতে না পারলে আমি দেব। কিন্তু তাদের আমরা ঘর দিয়ে যেতে চাই।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমার এ কথা পৌঁছে দেবেন সারা বাংলাদেশে। আপনাদের কাছে এটা আমার দাবি। যে খরচ করতে পারবে না, সেখানে আমি টাকা দেব। যেভাবে পারি দেব। যারা অর্থশালী, সম্পদশালী, বিত্তশালী আছে তারা তো পারবেন। এ বাংলার মাটিতে কোনো মানুষ ভূমিহীন, গৃহহীন থাকবে না। বাংলাদেশে একটা মানুষও গৃহহীন থাকবে মুজিব বর্ষে, এটা হতে পারে না।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ ও উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় সূচনা বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান প্রমুখ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন