শুক্রবার| এপ্রিল ০৩, ২০২০| ১৮চৈত্র১৪২৬

প্রথম পাতা

নভেল করোনাভাইরাস

দীর্ঘ হচ্ছে ফ্লাইট বাতিলের তালিকা

মনজুরুল ইসলাম

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট কভিড-১৯ রোগের বিস্তার ঠেকাতে এক সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে কুয়েত। একই কারণে ঢাকা থেকে কুয়েতগামী দুটি ফ্লাইটও স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এদিকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ায় কমে গেছে যাত্রী। ফলে ঢাকা থেকে ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, দিল্লি এমনকি কাঠমান্ডু রুটেও ফ্লাইট সংখ্যা কমাতে শুরু করেছে এয়ারলাইনসগুলো।

গতকাল কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর বাংলাদেশসহ সাতটি দেশের সঙ্গে বিমান চলাচল এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে। এ কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৭ ও ১০ মার্চের কুয়েতগামী ফ্লাইট দুটি বাতিল করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা-কুয়েত রুটে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোকাব্বির হোসেন এ প্রসঙ্গে জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কুয়েত সরকারের সাময়িক নিষেধাজ্ঞার জন্য বাংলাদেশ থেকে বিমানের কুয়েতগামী ৭ ও ১০ মার্চের দুটো ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।

কুয়েত এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়া রয়েছে মিসর, লেবানন, সিরিয়া, ফিলিপাইন, ভারত ও শ্রীলংকার ফ্লাইট। একই সঙ্গে কুয়েতে থাকার অনুমতি পাওয়া বিদেশীরা গত ১৪ দিনে এ সাত দেশের কোনোটিতে গেলে কুয়েতে ঢোকার অনুমতি পাবে না। তবে কুয়েতের নাগরিকরা এ সাত দেশ থেকে ফিরে দেশে প্রবেশ করতে পারবে। যদিও সেক্ষেত্রে ফেরার পর তাদের ১৪ দিন কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার কুয়েত সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ঢাকায় কুয়েত দূতাবাস থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নয় এমন সনদ পেলেই শুধু কুয়েতে ফিরতে পারবে। ৮ মার্চের পর ওই সনদ ছাড়া বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের নাগরিকদের ঢুকতে দেয়া হবে না বলে জানানো হয়েছিল। এতে বাংলাদেশ থেকে কুয়েতগামীরা আটকে পড়লে তাদের পরীক্ষা করে সনদ দেয়ার সিদ্ধান্ত জানায় আইইডিসিআর।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে, কাঠমান্ডু, দিল্লি, কুয়ালালামপুর ও ব্যাংকক রুটে এয়ারলাইনসটির যাত্রী ৪০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ফলে ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে সপ্তাহে তিনটি করে ফ্লাইট বন্ধ করেছে বিমান। আর ঢাকা-কাঠমান্ডু ও ঢাকা-দিল্লি রুটে সপ্তাহে দুটি করে ফ্লাইট কমিয়েছে বিমান।

যাত্রী কমে যাওয়ায় ঢাকা-ব্যাংকক রুটে দৈনিক দুটির পরিবর্তে একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে থাই এয়ারওয়েজ। অন্যদিকে ঢাকা-সিঙ্গাপুর রুটে সাপ্তাহিক একটি ফ্লাইট কমিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস এখন আটটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

ঢাকা থেকে সপ্তাহে সাতটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছিল চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস ও চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস। বর্তমানে ঢাকা-গুয়াংজু রুটে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস সপ্তাহে তিনটি ও ঢাকা-কুনমিং রুটে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস। আর যাত্রী সংখ্যা কমে আসায় ঢাকা-গুয়াংজু রুটে সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।

এ প্রসঙ্গে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের জিএম (পিআর) কামরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, যাত্রী দিন দিন কমে যাচ্ছে, প্রাথমিকভাবে আমরা সাতটি ফ্লাইট থেকে তিনটিতে নিয়ে এসেছি। সময়ের প্রেক্ষাপটে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিদেশীদের ওমরাহ পালনে স্থগিতাদেশ দেয় সৌদি আরব। ফলে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশী ওমরাহর জন্য ভিসা করেও যেতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে ১ মার্চ সৌদির ধর্ম মন্ত্রণালয় ভিসা ফি ফেরত দেয়ার ঘোষণা দেয়। তবে ওমরা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপদে পড়েছে এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা এয়ারলাইনসগুলো। বিশেষ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদিয়া এয়ারলাইনস ও এয়ার অ্যারাবিয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) জানিয়েছে, ওমরাহ ভিসার শর্ত অনুসারে আগেই বিমান টিকিট কিনতে হয়েছে যাত্রীদের। প্রায় ১০ হাজার ওমরাহ যাত্রীর ভিসা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার যাত্রীর বিমানের টিকিটও কাটা হয়েছে। বাজেট এয়ারলাইনসগুলো যেমন এয়ার অ্যারাবিয়া যাত্রা বাতিল করলেও টিকিটের টাকা ফেরত দেয় না।

এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকতা জানান, এরই মধ্যে বিমান বাংলাদেশ ওমরা যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এতে যাত্রীদের ক্ষতি কমলেও লোকসানে পড়েছে বিমান। এজন্য ঢাকা থেকে সৌদিগামী ফ্লাইট কমিয়ে ফেলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সৌদিয়া এয়ারলাইনসও এ রুটে ফ্লাইট কমাতে পারে বলে জানান তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন