শুক্রবার| এপ্রিল ০৩, ২০২০| ১৮চৈত্র১৪২৬

শেষ পাতা

বিশ্বব্যাপী সংক্রমিতের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে

ইতালিতে প্রায় ২০০ জনের মৃত্যু

বণিক বার্তা ডেস্ক

নভেল করোনাভাইরাস ডিজিজ বা কভিড-১৯-এ বিশ্বব্যাপী সংক্রমিতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের। এর মধ্যে চীনের পর এখন সংক্রমিতের তালিকায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে ইতালি। গতকাল পর্যন্ত দেশটিতে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২০০-তে পৌঁছেছে। খবর এএফপি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ও বিবিসি।

চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে সর্বপ্রথম ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব হয়। গতকাল পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ৯২টি দেশে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। সংক্রমিত দেশের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে স্লোভাকিয়া, সার্বিয়া, পেরু, ক্যামেরুন ও টোগোর নাম। সব মিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে সংক্রমিতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৭৬৯। আর মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৪৮৫ জনের। সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে গতকাল পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৬ হাজার ৮৭৫ জন।

চীনের পর সংক্রমিতের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ইতালির নাম। তবে মরণঘাতী ভাইরাসটিতে মৃত্যুর দিক থেকে চীনের পর ইতালি শীর্ষে রয়েছে। দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত কভিড-১৯-এ সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৭। এর মধ্যে গতকাল ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৪৯ জন। আর সংক্রমিত হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৬ জন, যাদের অধিকাংশই বয়স্ক মানুষ।

বিশ্বে বয়স্ক মানুষের বসবাসকারী শীর্ষ দেশের তালিকায় অন্যতম ইতালি। দেশটির ন্যাশনাল হেলথ ইনস্টিটিউট বলছে, গতকাল পর্যন্ত মারা যাওয়া নাগরিকদের গড় বয়স ৮১ বছর। এছাড়া এসব ব্যক্তির অধিকাংশ অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল। মৃত ব্যক্তিদের ৭২ শতাংশই পুরুষ।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইউরোপের দেশটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া পেশাগত খেলাধুলা বন্ধ রাখা হয়েছে। এমনকি সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও কঠোরতা আরোপ করা হচ্ছে।

চীনের বাইরে নভেল করোনাভাইরাসে মৃত্যুর দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত সংক্রমিতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৪৭। আর মারা গেছে ১২৪ জন। এর মধ্যে গতকাল মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আইনপ্রণেতা রয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে দুজন আইনপ্রণেতার মৃত্যু হলো।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৫৫ বছর বয়সী ফাতেমা রাহবার সম্প্রতি রাজধানী তেহরান থেকে আইনপ্রণেতা হিসেবে নির্বাচিত হন। এর আগে গত মাসে দেশটির স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী ইরাজ হারিরসি ও একজন আইনপ্রণেতা কভিড-১৯-এ সংক্রমিত হন। পরে সংক্রমিত আইনপ্রণেতার মৃত্যু হয়। এছাড়া সংক্রমিত হয়ে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনির একজন উচ্চপদস্থ উপদেষ্টারও মৃত্যু হয়েছে।

ইরানের ৩১টি প্রদেশে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া জনসমাগম এড়াতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলার আয়োজন বন্ধ রাখা হয়েছে। এমনকি কর্মক্ষেত্রে কাজের কর্মঘণ্টাও কমিয়ে দিয়েছে ইরান সরকার। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় সংক্রমিতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৪১। আর মৃত্যু হয়েছে ৪৬ জনের।

চীনের বাইরে নভেল করোনাভাইরাসে মৃত্যুর দিক থেকে নতুন করে হটস্পট তালিকায় আসতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের নাম। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ১৯টি এরই মধ্যে সংক্রমিত হয়েছে। গতকাল কেবল ক্যালিফোর্নিয়ায় সংক্রমিত হয়েছে ৪৫ জন। সব মিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশটিতে সংক্রমিতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৩ জনে। আর মারা গেছে ১৬ জন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার গ্র্যান্ড প্রিন্সেস প্রমোদতরীকে কেন্দ্র করে অঙ্গরাজ্যটিসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে মরণঘাতী ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত প্রমোদতরীটির ১৯ ক্রুসহ ২১ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তাদের অন্য একটি জাহাজে কোয়ারান্টাইন করে রাখা হয়েছে।

জাপানের ডায়মন্ড প্রিন্সেস প্রমোদতরীটির থেকে শিক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন গ্র্যান্ড প্রিন্সেসকে সানফ্রান্সিসকোর একটি অবাণিজ্যিক বন্দরে নোঙর করার চিন্তা করছে। সেখানেই সাড়ে তিন হাজারের বেশি যাত্রী ও ক্রুকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮৩০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা প্রকল্পে স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া দেশটিতে ভাইরাসটির প্রথম প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়া ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে ৩০ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে নভেল করোনাভাইরাসের মূল প্রাদুর্ভাবস্থল চীনের হুবেই প্রদেশে পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণে আসছে। প্রদেশটির রাজধানী উহানে সর্বপ্রথম ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। কিন্তু প্রদেশটির কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের কারণে গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই সংক্রমিত ও মৃতের সংখ্যা কমে আসছে। চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত দেশটিতে সংক্রমিতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৫৬৫ জন। এর মধ্যে গতকাল সংক্রমিত হয়েছেন ৯৯ জন। গত ১৮ জানুয়ারির পর এ প্রথম সংক্রমিতের সংখ্যা ১০০-এর নিচে নেমেছে। এছাড়া গতকাল পর্যন্ত দেশটিতে মারা গেছে ৩ হাজার ৭০ জন। যাদের মধ্যে গতকাল মারা গেছে ২৮ জন, যাদের সবাই হুবেইয়ের বাসিন্দা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন