বুধবার | মে ২৭, ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শেষ পাতা

বিদেশফেরতদের ঘরে থাকার পরামর্শ আইইডিসিআরের

নিজস্ব প্রতিবেদক

নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে বিদেশফেরতদের ঘরে অবস্থান করার (হোম কোয়ারান্টাইন) পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) যেকোনো সময় এ দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে এ পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

কভিড-১৯ নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে গতকাল আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো করোনা রোগী না থাকলেও এ রোগের সংক্রমণ ছড়ানোর একটি মাধ্যমই আছে। এটি হচ্ছে বিদেশফেরত মানুষ। বিদেশফেরতদের দেশের সব প্রবেশদ্বারে পরীক্ষা করা হলেও ১৪ দিনের মধ্যে সংক্রমণের ভয় থেকে যাওয়ায় এ সময়টা হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা দরকার। বর্তমানে তিনজনকে আইসোলেশনে রাখা হলেও তাদের মধ্যে করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণ নেই। তবে অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবে তাদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এলেই যে তার মধ্যে সংক্রমণ রয়েছে, তা ঠিক নয়। কিন্তু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ আমাদের দেশে এ ভাইরাস না এলেও বিশ্বের ৮৯টি দেশে এটি ছড়িয়ে পড়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও ৩১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। যেহেতু ভারতের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অনেক বেশি, তাই আমরা নিজেদের নিরাপদ ভাবাটা ঠিক হবে না।

এ সময় তিনি বিদেশ থেকে ফিরে বা করোনা সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে গণপরিবহন ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান। বিদেশফেরত যাত্রীদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানানো থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেন এ কর্মকর্তা। সুরক্ষা নিয়ম মেনে ব্যক্তিগত গাড়িতে বাড়ি ফেরার পর পরিবারের অন্য সদস্যদের নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজেকে হোম কোয়ারান্টাইনে থাকার পরামর্শ দেন আইইডিসিআরের পরিচালক।

ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, গতকাল তিনজনসহ এ পর্যন্ত মোট ১১১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের কারো শরীরে এখন পর্যন্ত কভিড ১৯-এর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এর আগে ইতালি ও আরব আমিরাতে একজন করে এবং সিঙ্গাপুরে পাঁচ বাংলাদেশী আক্রান্ত হন। সিঙ্গাপুরের তিনজন বাড়ি ফিরেছেন, দুজন আছেন হাসপাতালে। এর বাইরে নতুন করে কোনো বাংলাদেশী আক্রান্ত হননি। ইতালিতে যে বাংলাদেশী আক্রান্ত হয়েছেন, তিনি হোম আইসোলেশনে আছেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন