বুধবার| এপ্রিল ০৮, ২০২০| ২৪চৈত্র১৪২৬

খবর

পোর্ট কানেক্টিং রোড

তিন বছরেও শেষ হয়নি সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার

ওমর ফারুক চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস থেকে সারা দেশে পণ্য আনা-নেয়া হয় পোর্ট কানেক্টিং রোড দিয়ে। উন্নয়নের নামে প্রায় তিন বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে দেশের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি। সড়কটির উন্নয়ন-সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত বছর। কিন্তু এখনো প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ বাকি। ফলে আসন্ন বর্ষায়ও এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম কাস্টমস-বন্দর থেকে সারা দেশে পণ্য আনা-নেয়া হয় পোর্ট কানেক্টিং সড়ক দিয়ে। নগরীর নিমতলা বিশ্বরোড থেকে হালিশহর বড়পুল পর্যন্ত এলাকায় এমনিতেই দিনের বেশির ভাগ সময় যানজট লেগে থাকে এ সড়কে। এর মধ্যে সড়কটির উভয় পাশের ড্রেনের উন্নয়নকাজ চলছে কয়েক মাস ধরে। কিন্তু ড্রেনের উত্তোলন করা মাটি সড়কের ওপর স্তূপ করে রাখায় যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সিটি গভর্ন্যান্স প্রজেক্টের আওতায় জাপানি সাহায্য সংস্থা জাইকার অর্থায়নে পোর্ট কানেক্টিং সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণে কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ২০১৭ সালে ২০ নভেম্বর এ কাজের উদ্বোধন হয়। প্রায় ১০০ কোটি টাকায় নিমতলা থেকে অলংকার মোড় পর্যন্ত ৫ দশমিক ৭ কিলোমিটার সড়কের কাজ চলছে। কিন্তু কাজের অগ্রগতিতে হতাশ এলাকাবাসী। সড়কের দুরবস্থার কারণে কর্মস্থলে যেতে চরম দুর্ভোগ, বেশ ক্ষুব্ধ যানবাহন চালকরা। ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে সড়কটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। অথচ কাজের যে হাল, তাতে করে আরো দুই বছরেও শেষ হবে কিনা, সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, পোর্ট কানেক্টিং সড়কের নয়াবাজার থেকে নিমতলা বিশ্বরোড পর্যন্ত দুই প্রকল্পের আওতায় রাস্তা ও পাশের ড্রেনের উন্নয়নকাজ চলছে। বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার উন্নয়নকাজের ড্রেনের মাটি তুলে রাস্তার পাশেই স্তূপ করছে। এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, উন্নয়নের নামে গত তিন বছর ধরে সড়কটি চলাচল অনুপযোগী করে রাখা হয়েছে। সড়ক থেকে মাটি সরিয়ে না নিয়ে পাহাড়সম স্তূপ দেয়ায় যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।

চসিকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্যমতে, এর মধ্যেই সড়কের কিছু অংশ যানচলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। কার্পেটিং হয়েছে একপাশে। দীর্ঘসূত্রতার জন্য দাতা সংস্থা জাইকা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করছে করপোরেশন।

দফায় দফায় সময় বাড়ানোর পরও কাজ শেষ না। বর্ষার কারণে কাজ বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হয়নি। একই অজুহাত বারবার। কিন্তু বর্ষা যায়, শীত আসে, সেই শীতও চলে যায়। অথচ পোর্ট কানেক্টিং রোডের কাজ শেষ হয় না। এর জন্য আর কতকাল অপেক্ষা করতে হবেএ প্রশ্ন নগরবাসীর।

চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কাজটিতে ৩৬৫ দিনের জন্য কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। এরপর গত বছর যথাসময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় আরেক বছর বাড়িয়ে দেয়া হয় প্রকল্পের মেয়াদ। কিন্তু এখনো দেখছি, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির কাজের গতি খুবই ধীর। ফলে আসন্ন বর্ষার আগে এক্সেস রোডের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের নামকরণ করা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সড়ক। সড়কটির প্রস্থ ১২০ ফুট। দুই পাশে প্রশস্ত আরসিসি ড্রেন ও ফুটপাথ। মাঝে থাকছে চওড়া মিডিয়ান ও এলইডি আলোকায়নের ব্যবস্থা। কিন্তু কাজের যে হাল, তাতে বর্তমান মেয়রের মেয়াদে শেষ হওয়ার আশা নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, অলংকার মোড় থেকে বন্দরের দিকে কিছুদূর যেতেই সড়কের দুরবস্থা শুরু। ছোট-বড় অনেক গর্ত। সড়কের অধিকাংশই ছাল-চামড়া যাওয়া। কার্পেটিং না থাকায় ধুলোবালি ঠেকাতে সাধারণ মানুষের প্রস্তুতিও লক্ষণীয়। পথচারী ও যাত্রীদের চলাচল করতে হয় নাকে রুমাল চেপে বা কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করে। এ দুর্ভোগের শেষ কোথায় সেই প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন