শুক্রবার | জুন ০৫, ২০২০ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ভ্রমণ

পাল রাজবংশের ঐতিহাসিক সোমপুর বিহার

হুট করেই সিদ্ধান্ত, ঘুরে বেড়াব জেলা থেকে জেলায় যেই চিন্তা সেই কাজ ফোন দিই জয়পুরহাট আমন্ত্রণ মেলে আরেক বন্ধুর যাকে বলে গায়ে পড়ে দাওয়াত নেয়া অবশ্য অনেকে আবার দিলেও নেয় না যথারীতি ভোর ৪টায় যাত্রা শুরু, চালকসহ পাঁচজন গাড়ির নাম যেমন এলিয়ন, কামও সেই রকম যে বনে বাঘ নেই, সে বনে শেয়ালই রাজা ফাঁকা সড়ক পেয়ে গাড়ি ছোটে তীব্র গতিতে

হেসে খেলে যাওয়ার পথে জেলায় জেলায় চা পানের অজুহাতে ব্রেক দিয়ে, বিভিন্ন দোকানির মজাদার খাবার চেখে বেলা ১টার মধ্যেই পৌঁছে যাই জয়পুরহাট জেলা সদরের সবুজ নগরে বন্ধু সদর দরজায় এসে এগিয়ে নিয়ে যায়

বাসায় ঢুকে কাপড় ছেড়ে চলে ফেলে আসা দিনের গল্প-গুজব ঘণ্টাখানেক পর ভেতর থেকে ডাক আসে ডাইনিংয়ে বসার অতঃপর মিসেস সুরভি মেমের হাসিমাখা আপ্যায়ন ভাবির নাম যেমন সুরভি, ঠিক তেমনি তার হাতের রান্নায়ও সৌরভ ছড়ায় নানা পদের মজাদার সব খাবার খেয়ে ভাতিজা সৌহার্দর ভরাট কণ্ঠে পুরনো দিনের গান শুনে, ছুটি নওগাঁর পাহাড়পুর বিহার


বিহারের অবস্থান নওগাঁ জেলা হলেও জয়পুরহাট সদরের পাশে বদলগাছি উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার প্রাইভেট কারে অল্প সময়ের মধ্যেই পৌঁছে যাই বিহার প্রান্তরে ইতিহাসের সাক্ষী পাল রাজবংশের শৌর্য-বীর্য বহনকারী পাহাড়পুর বিহার বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত বিহারের আরেক নাম সোমপুর মহাবিহার এর ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব অপরিসীম; যা পাল বংশের কয়েক শতাব্দীর আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক ইতিহাসের পরিচয় বহন করে

বিশাল আয়তনের স্থাপনার চারদিক ভিক্ষু কক্ষ বিস্তৃত প্রবেশপথ, নিবেদন স্তূপ, ছোট ছোট মন্দির অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শন ছড়িয়ে আছে সুউচ্চ একটি কেন্দ্রীয় মন্দির রয়েছে মন্দিরটির দৈর্ঘ্য উত্তর-দক্ষিণে ১১২ দশমিক ৪০ মিটার, প্রস্থ পূর্ব-পশ্চিমে ৯৫ দশমিক ৭৮ মিটার মন্দিরে দেয়ালের বহির্ভাগ অলঙ্কৃত ইট, উদ্গত কার্নিশ পোড়ামাটির ফলক দিয়ে অলঙ্কৃত

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ধ্বংসাবশেষ হিমালয়ের দক্ষিণে সর্ববৃহৎ বৌদ্ধবিহারের পরিচয় বহন করে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের প্রকৃত নাম ছিল সোমপুর বিহার বিহার পাল বংশীয় দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল কর্তৃক ৭৭০-৮১০ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত বিহার কম্পাউন্ডে বর্তমানে একটা জাদুঘর রয়েছে বিশাল আয়তনের বিহারজুড়ে আছে সবুজের সমারোহ নানা ফুলের বাগান, পাতাবাহার গাছগুলোকে দক্ষ হাতে শৈল্পিক রূপ দেয়া হয়েছে সব মিলিয়ে একটি সুন্দর বিকাল কাটিয়ে দেয়া যাবে বেশ আয়েশী ঢংয়ে

এরপর সন্ধ্যায় চলে যাই দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর পরের দিন সকালে সদর রোডে শহীদ আবুল কাশেম মাঠে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের স্মরণ জেলার শেষ সীমানায় নান্দাইলের দীঘি ঘুরে চলে যাই বগুড়ার পথে

পাহাড়পুর বিহারে প্রবেশ ফি দেশী পর্যটকদের জন্য জনপ্রতি ২০ টাকা এবং বিদেশীদের জন্য ২০০ টাকা বিহারের অবস্থান নওগাঁ জেলায় হলেও ঢাকা থেকে যারা যাবেন, তাদের জন্য যাতায়াতের সুবিধা বেশি হবে জয়পুরহাট জেলা সদর  থেকে ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস দিনে রাতে জয়পুরহাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এসি, নন-এসি দুই ধরনের বাস সার্ভিস রয়েছে ভাড়া ৪৫০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত শহর থেকে অটোয় বৌদ্ধবিহার, জনপ্রতি ভাড়া ৩০ টাকা

শহরের পূর্ববাজার স্টেশন রোডে বেশকিছু ভালো মানের আবাসিক হোটেল রেস্টুরেন্ট আছে ভাড়া নাগালের মধ্যেই আমি ধারণা দিলাম মাত্র, বাকিটা আপনার সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী সেরে নেবেন

 

ছবি: দে-ছুট ভ্রমণ সংঘ

মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন