বৃহস্পতিবার| এপ্রিল ০২, ২০২০| ১৮চৈত্র১৪২৬

শেষ পাতা

স্পিনাররা সুতার দাম বাড়িয়েছেন ১০-১৫%

বদরুল আলম

দেশের পোশাক শিল্পে ব্যবহূত সুতার দাম বেড়েছে। পোশাক খাতের বায়িং হাউজগুলোর অভিযোগ, তুলার আন্তর্জাতিক বাজারে নভেল করোনাভাইরাসের কোনো প্রভাব না পড়লেও অজুহাতেই সুতার দাম ১০-১৫ শতাংশ বাড়িয়েছে স্পিনিং মিলগুলো। নিয়ে বায়িং হাউজগুলোর পক্ষ থেকে বস্ত্র পাট মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) দেয়া ওই চিঠির বিষয়বস্তু ছিল সুতার মূল্য স্থিতিশীল রাখা।

চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি নভেল করোনাভাইরাসের ব্যাপ্তির সুযোগ নিয়ে দেশের স্পিনিং মিলগুলো পোশাক শিল্পে ব্যবহূত সুতার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে দাম দুই মাস আগের তুলনায় ১০-১৫ শতাংশ বেশি। অথচ তুলা রফতানিকারক দেশ যেমন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত মধ্য এশিয়ার দেশগুলো নভেল করোনাভাইরাস বা অন্য কোনো কারণে তুলার মূল্য বাড়ায়নি।

ভারত-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফোরামের সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় সভায় আট মিলিয়ন বেল তুলা আমদানির জন্য ভারত বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে জানিয়ে চিঠিতে বিজিবিএ বলেছে, তুলার ঘাটতি বা রফতানি মূল্য বাড়ানোর কোনো ঘটনা বিশ্বব্যাপী যেখানে ঘটেনি, সেখানে তুলা থেকে সুতা প্রস্তুতকারীরা দাম বাড়িয়ে দিলে বাংলাদেশে পোশাকের রফতানি মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষম থাকবে না।

অবস্থায় বস্ত্র আইন ২০১৮-এর আওতায় সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে সুতার মূল্য স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে বস্ত্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বিজিবিএ।

বিজিবিএ সভাপতি কাজী ইফতেকার হোসাইন বণিক বার্তাকে বলেন, কিছুদিন আগেও স্পিনাররা বলেছে, অবৈধভাবে দেশে বিদেশী সুতা প্রবেশ করায় বিপুল পরিমাণ সুতা মজুদ পড়ে আছে। অথচ এক মাসের ব্যবধানে এখন তারা নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের সুযোগ নিয়ে সুতার দাম বেশি চাইছে।

সুতার বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। বিকেএমইএর সাবেক সহসভাপতি ফজলে এহসান শামীম বণিক বার্তাকে বলেন, সুতার দাম বেড়েছে। দশমিক ৮০ সেন্টের সুতা এখন বিক্রি হচ্ছে ডলার বা ডলার সেন্ট করে। কয়েকদিন আগেও তা দশমিক ৭৫ সেন্ট ছিল। আজো তারা সুতার দাম ১০ সেন্ট বাড়িয়েছে। এখন এমনিতেই রফতানি ক্রয়াদেশ ধরতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অবস্থায় সুতার মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। রফতানির স্বার্থে এটা কোনোভাবেই ইতিবাচক না।

বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি প্লামি ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, সুতার দাম বেড়ে যাওয়ার একটা প্রবণতা এখন দেখা যাচ্ছে। শুধু সুতা না, অনেক ধরনের কাঁচামালের দাম বাড়ার প্রবণতা রয়েছে। হঠাৎ করে সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হয়েছে। প্রেক্ষাপটে অনেকে দাম বাড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নিচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে যৌক্তিক কারণ থাকলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই দাম বাড়ানো হচ্ছে। 

অন্যদিকে স্পিনাররা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম বেড়েছে পাউন্ডে ১০-১২ সেন্ট। মার্কিন তুলা বিক্রেতারা নভেল করোনাভাইরাসের সুযোগ নিয়েছেন। তুলা একটা অন কল প্রাইসে বেচা-কেনা হয়। অন কল প্রাইস যখন কমে আসছিল, তখন তারা ফিক্সড কস্ট বাড়িয়ে দিয়েছেন। তুলার দাম তারা পাউন্ডপ্রতি ৮০ সেন্টের ওপরে নিয়ে গেছেন। এছাড়া সুতার মজুদও এখন শেষ। ব্যাংকের টাকা ফেরত দিতে অনেক স্পিনিং মিলই অস্বাভাবিক কম দামে সুতার মজুদ শেষ করেছে। এখন যেহেতু মজুদ শেষ, তাই চাহিদা সরবরাহের অসামঞ্জস্যে সুতার দাম বেড়েছে।

বিষয়ে তারা আরো বলছেন, প্রাথমিক সংগ্রাহকরাই এখন ট্রেডারদের কাছে বেশি দামে তুলা বিক্রি করছেন। অন্যদিকে ট্রেডাররাও বেশি দামে কেনা তুলা কম দামে বিক্রি করছেন না। 

এজন্য বাজার নামছে না। আফ্রিকার তুলাও যেটা পাউন্ডপ্রতি ৭০ সেন্ট ছিল, সেটা এখন ৮৩ সেন্ট হয়ে গেছে। কেজিতে মূল্যবৃদ্ধি দাঁড়ায় ১৫ সেন্ট। হিসেবে সুতার দাম বাড়েনি। এছাড়া এখন কোনো দেশেই তুলার মৌসুম নেই। একমাত্র অস্ট্রেলিয়ারটা আছে, যেটার হার্ভেস্ট হবে এপ্রিল থেকে। ওই তুলা আমাদের দেশে খুব বেশি আসে না।

অন্যদিকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বণিক বার্তাকে বলেন, সুতার দাম বৃদ্ধিতে নভেল করোনাভাইরাসের কোনো প্রভাব নেই। কারণ বাংলাদেশে চীন থেকে কোনো সুতা আসে না। বরং এখন চাহিদা বেড়েছে বাংলাদেশের সুতার। এখন চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যারা করোনাকে কারণ বলছেন, তারা না বুঝে বলছেন। প্রকৃত কারণ হলো হঠাৎ করে নিট খাতে প্রচুর ক্রয়াদেশ আসছে। আগে যিনি ২০ টন অর্ডার দিতেন, তিনি এখন ১০০ টন অর্ডার দিচ্ছেন। চাহিদা সরবরাহের গ্যাপে সুতার দাম বেড়েছে। অন্যদিকে এখন তুলার ফসল সংগ্রহের সময় না। তাই দামটাও পড়ছে না।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন