শুক্রবার | জুন ০৫, ২০২০ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

সাক্ষাৎকার

নতুন প্রজন্ম যত বীমা শিল্পে আসবে খাতটি তত উন্নত হবে

ফারজানা চৌধুরী

গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অস্ট্রেলিয়ার মনাশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি ব্র্যাক ব্যাংকে সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে এসএমই ব্যাংকিংয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। বীমা দিবস উপলক্ষে খাতটি ঘিরে প্রতিযোগিতা, প্রতিবন্ধকতা, সুশাসনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসান রাজিব

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বীমাদিবস পালিতহচ্ছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

আমিমনে করি,প্রথমবারের মতোবীমা দিবসেরসঙ্গে সঙ্গেআমরা বীমাস্বীকৃতিটাও পেলাম।বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমানইন্স্যুরেন্স ইন্ডাস্ট্রিতেকর্মজীবন শুরুকরেন মার্চ। আমাদেরপ্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা দিনটিকেইজাতীয়বীমা দিবসহিসেবে স্বীকৃতিদিয়েছেন। মন্ত্রণালয়,আইডিআরএ বীমা অ্যাসোসিয়েশনকর্তৃক আয়োজিতবীমা দিবসেরঅনুষ্ঠানে তিনিউপস্থিত থাকবেনএবং আনুষ্ঠানিকভাবেদিবসটির উদ্বোধনকরবেন। পরবর্তীসময়ে প্রতিবছরের মার্চকে আমরাবীমা দিবসহিসেবে পালনকরব। বীমাশিল্প কিন্তুঅনেক পুরনো।আমাদের কোম্পানিনন-লাইফইন্স্যুরেন্স সেক্টরেসবচেয়ে বড়প্রতিষ্ঠান। ৩৪বছরের উত্তরাধিকারনিয়ে আমাদেরপথচলা। আমরাপ্রতি বছরইনতুন নতুনউদ্ভাবন নতুন ধরনেরপণ্য নিয়েআসছি। চেষ্টাকরছি নতুনপ্রযুক্তির সঙ্গেতাল মিলিয়েকীভাবে গ্রাহকেরচাহিদামতো পণ্যনিয়ে আসাযায়। অন্তর্ভুক্তিমূলকবীমার দিকেঅগ্রসর হচ্ছি।ইন্স্যুরেন্সের পেনিট্রেশনবাড়ানোর জন্যকাজ করছি,যাতে আমরাতৃণমূল মানুষেরপাশাপাশি নারীদেরবীমার আওতায়আনতে পারি।পাশাপাশি স্কুলপড়ুয়াথেকে বিশ্ববিদ্যালয়েরশিক্ষার্থীদের ইন্স্যুরেন্সেরআওতায় আনাযায় কিনাতা নিয়েওকাজ করছিআমরা।ইন্স্যুরেন্সফর এভরিওয়ানউক্তিটি আমরাব্যবহার করছি২০১২ থেকে।১৭ কোটিমানুষের দুয়ারেআমরা বীমাপৌঁছে দিতেচাই। মার্চকে বীমাদিবস হিসেবেস্বীকৃতি দেয়ারমধ্য দিয়েআমাদের এতদিনেরসংগ্রাম পরিশ্রম সার্থকতাপেল, যাআমাদের জন্যঅনেক বড়পুরস্কার।

বাংলাদেশে বীমাখাত কতটাসম্ভাবনাপূর্ণ বলেমনে করেন?

বাংলাদেশএকটি সম্ভাবনাময়দেশ। দরিদ্রতারখাতায় বাংলাদেশেরনাম আরনেই। প্রতিটিশিল্পেই বাংলাদেশএখন এগিয়েযাচ্ছে। ২০২১সালে প্রধানমন্ত্রীএসডিজি বাস্তবায়নেরযে প্রকল্পহাতে নিয়েছেনতরুণ সমাজকেএগিয়ে নিয়েযাওয়ার জন্য,সেখানে বীমাশিল্প কেনপিছিয়ে থাকবে।আমাদের ১৭কোটি জনসংখ্যার৬৫ শতাংশ২৩ বছরেরনিচে। তরুণ সমাজেরমাঝে বীমাশিল্প কেনউন্নত হবেনা। আগেআমাদের মধ্যেসচেতনতা ছিলনা। এখানেকেউ কাজকরত না।কিন্তু এখনআমাদের তরুণরাবীমা শিল্পেকাজ করাশুরু করেছে।বীমার চাহিদাআমাদেরই তৈরিকরতে হবে।বাংলাদেশ প্রযুক্তিতেঅনেক এগিয়েছে।আমাদের প্রতিটিসেক্টরে এখনবীমা শিল্পনিত্যপ্রয়োজনীয়। এখনসব লাইফ,নন-লাইফইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতাদের নতুননতুন ধারণা,উদ্ভাবন নিয়েবীমা শিল্পেরবিভিন্ন সেক্টরথেকে কাজকরতে আসছে।আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়শিক্ষা সেক্টরেএমবিএ ইনইন্স্যুরেন্সচালুহয়েছে। তাদেরযদি উৎসাহিতকরা যায়,অনুপ্রাণিত করাযায়, তাহলেবীমা শিল্পঅনেকাংশে এগিয়েযাবে।

উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও বীমা বাধ্যতামূলক হওয়ার কথাছিল, কিন্তু হয়নি। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের কি আরোসচেতন হওয়াউচিত?

অবশ্যই,অসচেতনতার কারণেআমাদের এটাহয়ে ওঠেনি।এছাড়া আস্থা বিশ্বাসেরঅভাব মানুষেরমধ্যে শুরুথেকেই রয়েছেএবং এখনোআছে। আমাদেরপুরো ইন্ডাস্ট্রিতেএকটা আন্দোলনহয়েছে যেএখানে কোনোঅরাজকতা, অস্বাস্থ্যকরপ্রতিযোগিতা হবেনা। আমরাসবাই যদিএকত্র হয়েকাজ করি,তাহলে সুফলপাব। বীমারবিষয়ে সচেতনতাতৈরির কাজটিআমরা শুরুকরেছি। প্রতিটিক্ষেত্রে এটাআমাদের বাধ্যতামূলককরতে হবে।আমাদের প্রতিটিক্ষেত্রে ইন্স্যুরেন্সকরার বিষয়টিমনস্থির করতেহবে। এক্ষেত্রেআমাদের প্রাইভেট-পাবলিকপার্টনারশিপ, মন্ত্রণালয় নিয়ামকসবাইকে একসঙ্গেকাজ করতেহবে। বীমাকেবাধ্যতামূলক করতেহবে। বাধ্যতামূলককরা হলেসবাই এটারমান বুঝতেপারবে। আরপ্রতিযোগিতা যতবাড়বে ততইমান বাড়তেথাকবে। কয়েকবছরের মধ্যেবাংলাদেশ উন্নয়নশীলদেশে পরিণতহতে যাচ্ছে।শিল্পের সবক্ষেত্রে বড়ধরনের যেক্রমবিকাশ হচ্ছে,সেখানে বীমাশিল্পের উন্নয়নঅপরিহার্য। আমাদেরএকতাবদ্ধ হয়েকাজ করতেহবে। গ্রামীণ,শহুরে সবগ্রাহকের চাহিদাপূরণ করতেহবে। নতুনপ্রজন্ম যতবীমা ইন্ডাস্ট্রিতেআসবে ততখাতটি উন্নতহবে। আমাদেরপেশাদারিত্বের ঘাটতিগুলোদূর করতেহবে। একইসঙ্গে আমাদেরআরো আপডেটেডহতে হবে।আধুনিক প্রযুক্তিকী করছে,ইন্স্যুরেন্স টেকনোলজিকীভাবে বড়ধরনের পরিবর্তনআনছে সেটাদেখতে হবে।বাইরের দেশেরসঙ্গে আমাদেরযোগাযোগ তৈরিহয়েছে। তাদেরসঙ্গে আমরাকাজ করছি।বাংলাদেশেও অনেকইনোভেটিভ প্রডাক্টআছে এবংএগুলো বাইরেরদেশে স্বীকৃতিপাচ্ছে। আমরাসবাই মিলেএকত্র হয়েকাজ করলেইসফলতা আসবে।

বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি বাংলাদেশে আসছে। বিষয়টি নিয়ে আপনিকী মনেকরেন?

বাইরেরকোম্পানিগুলো আমাদেরদেশে আসারমাধ্যমে প্রতিযোগিতাবাড়বে। নতুননতুন প্রযুক্তিআসবে, এতেআমাদের বীমাশিল্প উন্নতহবে। আমাদেরবীমা শিল্পেযে ঘাটতিরয়েছে, সেটাতরুণ সমাজকেপূরণ করতেহবে। তাদেরজানতে হবে,বাইরের দেশেকী হচ্ছেএবং আমরাকীভাবে গ্রাহকদেরসাশ্রয়ী মূল্যেপ্রডাক্ট দিয়েউন্নয়ন করতেপারি। কারণগ্রাহকরা সবসময়সাশ্রয়ী মূল্যেরপণ্য খোঁজে।সেক্ষেত্রে যতবাইরের প্রযুক্তিআসবে, ইন্ডাষ্ট্রিতত উন্নতিহবে।

২০৩১ সালেরমধ্যে উন্নতদেশ গঠনেবীমা শিল্পের উদ্যোগ চ্যালেঞ্জগুলো কীহবে?

চ্যালেঞ্জহচ্ছে যখননতুন কোনোপণ্য আসে,তখন অনেকবাধা-বিঘ্নআসে। আমরাসেগুলো নতুনপথ, নতুনপ্রযুক্তির মাধ্যমেঅতিক্রম করেআসছি।

হাতেগোনা -১০টা কোম্পানিতে সুশাসন রয়েছে। বাকিগুলোতে নেই। ব্যাপারে আপনারা কীকরছেন?

অর্থমন্ত্রীএরই মধ্যেবলেছেন, যেসবকোম্পানি আইপিওতেযায়নি, সেগুলোকেযেতে হবে।এরই মধ্যে২৭টি কোম্পানিকে নোটিসদেয়া হয়েছে।

এক্ষেত্রে আপনারা সরকারের কাছেকী ধরনেরসহযোগিতা চান?

বীমাশিল্পের উন্নয়নেরক্ষেত্রে সরকারকেআমাদের সঙ্গেথাকতে হবে।আজ বীমাদিবস পালিতহচ্ছে, এটাআমাদের সবচেয়েবড় পাওয়া।আমরা যেধরনের সমস্যাগুলোরমুখোমুখি হচ্ছিআইনিকাঠামো ঠিককরা, যেইনোভেটিভ প্রডাক্টগুলোআসছে, সেগুলোরকাঠামোগত সংশোধনকরা। সরকারএরই মধ্যেতা করছে।তবে সবকোম্পানিকে একসঙ্গেজোটবদ্ধ হয়েকাজ করতেহবে। তাহলেইআমাদের সফলতাআসবে।

শ্রুতলিখন:নাহিয়া ইসলাম

সাক্ষাৎকারটি দেখুন...

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন