শুক্রবার | জুন ০৫, ২০২০ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

সাক্ষাৎকার

আইডিআরএর লক্ষ্য শতভাগ বীমা দাবি নিষ্পত্তি

মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী

চেয়ারম্যান, বীমা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যাংকিং খাত সংস্কার কার্যক্রম, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের আইন সংস্কার পুনর্গঠন এবং আইডিআরএর প্রতিষ্ঠা বীমা আইন, ২০১০ এবং বীমা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০ প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০১৭ সালের আগস্টে তিনি আইডিআরএর চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিয়েছেন। জাতীয় বীমা দিবসকে ঘিরে বীমা খাতের সমস্যা, সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এম এম মুসা

দেশের বীমা খাতকে এগিয়ে নিতে আইডিআরএ কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে?

বীমা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) প্রতিষ্ঠা হয় ২০১০ সালে। বীমা খাত অনেক পুরনো। ব্রিটিশ আমলেও বীমা ছিল। কিন্তু খাতটির সেভাবে কোনো উন্নয়ন হয়নি। আইডিআরএ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মূলত -বিষয়ক কার্যক্রম শুরু। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেখলাম খাতটি ভীষণ অবহেলিত এবং গ্রাহকের মধ্যে আস্থার সংকট বিদ্যমান। কারণ একটাই, মানুষ বীমার অর্থ পায় না। বিষয়গুলোয় গুরুত্বারোপ করে কী ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থার সংকট দূর করা যায়, সে বিষয়ে দায়িত্ব নিয়ে আমরা কার্যক্রম শুরু করি।

প্রথমত, বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে বীমা মেলার আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়। পর্যন্ত ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম খুলনায় বীমা মেলা আয়োজিত হয়েছে। বিভাগীয় শহরগুলো শেষ করে আমরা উপজেলা পর্যায়ে আয়োজন শুরু করব।

দ্বিতীয়ত, আইডিআরএ সদস্যদের নেতৃত্বে অভিযোগ সেল গঠন করা হয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগগুলো বাছাই করে গ্রাহক, কোম্পানি আইডিআরএতিন পক্ষের উপস্থিতিতে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। জনসাধারণের মধ্যে বীমা সম্পর্কিত সচেতনতা তৈরির জন্য আইডিআরএর পক্ষ থেকে আমি আমাদের কর্মকর্তারা চেক বিতরণ অনুষ্ঠানগুলোতেও অংশ্রগ্রহণ করি। যে জায়গাগুলোয় বীমা দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বেশি সমস্যা বিদ্যমান, সেখানে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশনা দিয়ে থাকি। ইউনিফায়েড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম চালু করেছি আমরা। এর মাধ্যমে প্রিমিয়াম ট্যাক্স ফাঁকির বিষয়গুলো ধরা সম্ভব হবে এবং গ্রাহকের যাবতীয় তথ্য আমাদের কাছে থাকবে।

আমি আশাবাদী, এভাবে শতভাগ না হলেও অনেকাংশেই বীমা দাবি পূরণ সম্ভব হবে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ বীমা দাবি নিষ্পত্তি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমরা ৯০ শতাংশ বীমা দাবি পূরণ করতে পারছি। হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানির জন্য পিছিয়ে আছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। একটি কোম্পানিকে পর্যন্ত আমরা সাড়ে কোটি টাকা জরিমানা করেছি।

আমি মনে করি, ডিজিটালাইজেশন চালু হলে গ্রাহকদের হয়রানির মাত্রা কমে যাবে। গ্রাহকের আস্থা বাড়বে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মজীবনে বীমা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। পেশায় তার যোগদানের দিনটি জাতীয় বীমা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমি মনে করি, এর মাধ্যমে আমাদের কাজের স্পৃহা অনেক বেড়ে যাবে। কাজের মাধ্যমে বীমাকে মহৎ পেশায় পরিণত করতে হবে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর বীমা খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন?

আমাদের বীমাগ্রহীতার সংখ্যা বাড়াতে হবে। ১৭ কোটি জনসংখ্যার দেশে মাত্র কোটি ২০-৩০ লাখ মানুষকে বীমার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। সবাইকে বীমার আওতায় আনা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া জিডিপিতে বীমা খাতের অংশগ্রহণ শতাংশের নিচে। জাতীয় বীমা নীতি ২০১৪-তে আছে, ২০২২ সালের মধ্যে তা শতাংশ বাড়াতে হবে। সে লক্ষ্যে আমাদের বিভিন্ন নতুন নতুন পণ্য আনা জরুরি। এরই মধ্যে আমরা প্রবাসী কর্মীদের জন্য বীমা চালু করেছি। সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাস্থ্য বীমা চালু করছি। পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য বীমা চালুর বিষয়টিতে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছি। হাওড় এলাকার জন্য শস্য বীমা চালুর কথা ভাবছি। প্রতিবন্ধী বীমা, শিক্ষা বীমা, রেলওয়ে বীমা চালুর বিষয়টি আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে আছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আরো মানুষকে বীমার আওতায় আনার বিষয়গুলোয় আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।

পণ্যের ক্ষেত্রে আমাদের অ্যাকচুয়ারি সংকট রয়েছে। এর সমাধানে কী করণীয় বলে মনে করেন?

আমাদের প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে অ্যাকচুয়ারি বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। আইডিআরএ এটা নিয়ে কাজ করছে। বীমা কোম্পানিগুলোকে আমরা তাদের উদ্যোগে অ্যাকচুয়ারি বৃদ্ধির জন্য বিদেশে কর্মী প্রেরণের কথা বলেছি। শর্ত থাকবে, কর্মীরা দেশে ফিরে বীমা কোম্পানিতে কাজ করবেন। বীমা পেশায় দক্ষ লোক বৃদ্ধির জন্য তহবিল সৃষ্টি করে আইডিআরএর পক্ষ থেকেও বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য লোক পাঠানোর বিষয়টিকে আমরা আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রেখেছি। তাদেরও প্রশিক্ষণ শেষে ফিরে এসে এখানে কাজ করার শর্ত থাকবে। এভাবে আমরা সংকটগুলো কাটিয়ে উঠতে পারব।