রবিবার| এপ্রিল ০৫, ২০২০| ২১চৈত্র১৪২৬

সাক্ষাৎকার

আইনি অসংগতি দূর করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন

মো. জালালুল আজিম

প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রধান নির্বাহী। কর্মজীবনের শুরু ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোয়। কাজ করেছেন আলিকোর মতো বিশ্বখ্যাত বিদেশী বীমা প্রতিষ্ঠানে। প্রধান নির্বাহী ছিলেন ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রগতি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের। সম্প্রতি বীমা দিবস উপলক্ষে খাতটির সংকট, চ্যালেঞ্জ সম্ভাবনা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা হয় তার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হুমায়ুন কবির

দেশে প্রথমবারের মতো বীমা দিবস পালনের বিষয়কে কীভাবে দেখছেন?

আমি বলব, বাংলাদেশের বীমা খাতের জন্য এটি খুবই ভালো একটি পদক্ষেপ। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে আমরা প্রস্তাব অন্তত চার-পাঁচ বছর আগে থেকে দিয়ে আসছিলাম। যেহেতু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটা সময় বীমা খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তিনি আলফা ইন্স্যুরেন্সের তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) প্রধান ছিলেন। সেজন্য উল্লিখিত বীমা কোম্পানিতে তার যোগদানের দিনটিকে যেন জাতীয় পর্যায়ে বীমা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়, তার চেষ্টা আমরা করে আসছিলাম। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী মার্চ বীমা দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। আমি মনে করি, এটি আমাদের জন্য বড় পাওয়া। কারণ সরকারের তরফ থেকে দিনটিকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে এবং জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালনের প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। সব জেলার ডিসি, ইউএনওরা যুক্ত হয়েছেন; বীমা কোম্পানিগুলো বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় আইডিআরএ সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে, অ্যাসোসিয়েশনও যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। আমরা যে সামনের দিনে বীমা খাতকে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তির দিকে নিয়ে যেতে চাই, সেই প্রেক্ষাপটে দিবসটি ঘোষণা উদযাপন একটি বড় ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্টদের সাড়া কেমন পেয়েছেন?

সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয় আইডিআরএ, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম (এমডিদের ফোরাম), কোম্পানিগুলোর মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা দিবসকে ঘিরে অত্যন্ত আনন্দিত উত্ফুল্ল এবং দিবসটি অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণভাবে পালনের জন্য সবাই চেষ্টা করেছেন। তবে দিবসটি ঘোষণার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেতে সময় লেগে গেছে অনেক এবং মাঝে সময় কম পাওয়া গেছে, সেজন্য প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কম সাড়া পেয়েছি।

আপনি বলছেন, দিবসটি বীমা খাতকে নেতিবাচক ভাবমূর্তি থেকে বেরোতে সহায়তা করবে। নেতিবাচক ভাবমূর্তি কেন তৈরি হলো?

বীমা খাতের নেতিবাচক ভাবমূর্তি (নেগেটিভ ইমেজ) বহু আগেই সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য সুনির্দিষ্ট একটি কারণ নয়, বেশ কয়েকটি কারণই দায়ী। একটি বড় কারণ হলো, কোম্পানিগুলোর যথাযথভাবে গ্রাহকের দাবি (ক্লেইম) নিষ্পত্তি না করা। জীবন বীমা কিংবা সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে এটি খুবই সাধারণ কথা, মুখস্থ বিদ্যার মতো। কথা অবশ্য আংশিক সত্য। এখনো শুনবেন, কিছু কোম্পানি সুষ্ঠুভাবে দাবি নিষ্পত্তি করে না। দাবি মেটাতে গ্রাহককে অনেক হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। আবার অনেক মাঠকর্মী অর্থ আত্মসাৎ করেন। গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ ঠিকই নেন, কিন্তু কোম্পানিকে জমা দেন না। গ্রাহক অনেক পরে টের পান। পরবর্তী সময়ে পলিসি তামাদি হয়ে যায়। সেগুলো উদ্ধার করতে বেশ সময় লাগে। অধিকন্তু আমরা বীমা পলিসিগুলোর যেভাবে বিপণন (মার্কেটিং) করার কথা, সেভাবে পারিনি। আমি বলব, বিভিন্ন কারণেই বীমা খাতের ভাবমূর্তি নেতিবাচক এবং খাতের যেভাবে উন্নয়ন হওয়ার কথা তা হয়নি।