শুক্রবার| এপ্রিল ০৩, ২০২০| ১৯চৈত্র১৪২৬

দেশের খবর

দুর্যোগে পানি থাকে না বাগেরহাটের বেশির ভাগ আশ্রয়কেন্দ্রে

বণিক বার্তা প্রতিনিধি বাগেরহাট

উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র আছে ৩৪৫টি তবে এসব আশ্রয়কেন্দ্রের বেশির ভাগেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই এতে দুর্যোগের সময় পানি নিয়ে পড়তে হয় বিপাকে আশ্রিতদের পানি সংকটের কারণে কিছু আশ্রয়কেন্দ্রে স্থাপিত ট্যাংক, মোটর বেসিনসহ বিভিন্ন উপকরণ নষ্ট হচ্ছে জেলা প্রশাসন বলছে, মুজিব বর্ষ সামনে রেখে জেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর পানি সংকটসহ সব ধরনের সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে

জানা গেছে, ২০০৭ সালের দিকে বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ছিল মাত্র ২৯টি ওই বছরের নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে উপকূলে হাজারো মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় পরে জানমালের ক্ষতি রোধে বাগেরহাটের উপকূলীয় এলাকায় নির্মিত হয় আরো ৩১৬টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, যার বেশির ভাগই আবার বিদ্যালয় হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে তবে এসব বিদ্যালয় কাম আশ্রয়কেন্দ্রে পানির ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হয় শিক্ষার্থী দুর্যোগে আশ্রয় নেয়া ব্যক্তিদের সর্বশেষ গত বছর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সময়েও নিয়ে বিপত্তি দেখা দিয়েছিল ওই সময়ে জেজেএস নামের একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে ৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে অস্থায়ীভাবে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয় তবে জেলার বাকি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় পানির কোনো সরবরাহ ছিল না

যেসব আশ্রয়কেন্দ্রে পানির ব্যবস্থা নেই, তার একটি হলো শরণখোলা উপজেলার লাকুড়তলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যালয়ে পানির প্রয়োজন হলে আশপাশের পুকুর বা খাল থেকে বালতিতে করে পানি আনতে হয় তবে শুধু পানি নয়, বিদ্যালয় ভবনে শৌচাগারও নেই কারণে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়

মো. ইলিয়াস হোসেন নামের এক ব্যক্তি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগ থেকে বাঁচতে অঞ্চলের সিংহভাগ মানুষ এখন আশ্রয়কেন্দ্রে যায় কিন্তু সেখানে পানি পয়োনিষ্কাশনের ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই এক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে মানুষ তখন আরেক দুর্যোগে পড়ে

পানি না থাকার কারণে ভোগান্তির কথা স্বীকার করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও শরণখোলার রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আছাদুজ্জামান মিলন বলেন, দুর্যোগের সময় পানি না থাকলে যে কী দুর্ভোগে পড়তে হয়, তা বলে বোঝানো যাবে না দেখভালের কেউ না থাকায় অনেক আশ্রয়কেন্দ্রের পানির ট্যাংক, শৌচাগারের বেসিন, প্যানসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে

খোন্তাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো মানুষ থাকার উপযুক্ত নয় যেসব আশ্রয়কেন্দ্র আছে সেগুলোয় জরুরি ভিত্তিতে পানির ব্যবস্থা করা উচিত দুর্যোগ যেকোনো সময় আসতে পারে তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি থাকা ভালো যে আশ্রয়কেন্দ্র নতুন করে নির্মাণ করা হবে, তাতে যেন শুরু থেকেই এসব ব্যবস্থা থাকে

জেজেএসের প্রকল্প কর্মকর্তা শেখ সোয়েব উদ্দিন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের সময়ে তীব্র পানি সংকটে পড়তে হয় আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষদের বুলবুলের সময় আমরা ৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে পানির ব্যবস্থা করেছি তখনই আমরা বুঝেছি যে আমাদের একার উদ্যোগ পর্যাপ্ত নয় এজন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ সবচেয়ে বেশি দরকার

ব্যাপারে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে কিছু অর্থ পাওয়া গেছে অর্থ দিয়ে সব আশ্রয়কেন্দ্রে পানি সরবরাহের পাশাপাশি অন্যান্য সমস্যার সমাধান করা হবে

তিনি বলেন, বর্তমানে জেলার নয় উপজেলায় ৩৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে আরো আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে যে ঘরে দুর্যোগের সময় বসবাসকারী পরিবারের পাশাপাশি প্রতিবেশীরাও আশ্রয় নিতে পারবে সব মিলিয়ে দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন