সোমবার | মে ২৫, ২০২০ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শেষ পাতা

বিষয়ভিত্তিক বিভাজন এসএসসির পরই ভালো : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় নবম শ্রেণীতেই বিষয়ভিত্তিক বিভাজন (বিজ্ঞান-কলা-বাণিজ্য) শুরু না করার পক্ষে অভিমত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিজ কার্যালয়ের (পিএমও) শাপলা হলে গতকাল সকালে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যেপ্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৮ বিতরণকালে প্রধান অতিথির ভাষণে এ অভিমত দেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা না থাকাই ভালো। এসএসসির পর গিয়ে যদি বিভক্ত হয়, সেটাই ভালো।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের সর্বোচ্চ নম্বর/সিজিপিএ প্রাপ্তদের হাতেপ্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৮ তুলে দেন শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে মাধ্যমিকেই শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক বিভাজনের বিপক্ষে মত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের (দেশে) ক্লাস নাইন থেকে কে কোন সাবজেক্টে যাবে সেটা ভাগ করে দেয়া হয়। আমার মনে হয়, এ ভাগটা থাকার কোনো দরকারই নেই। কারণ এসএসসি পর্যন্ত সব সাবজেক্টই তারা পড়তে পারে।

তিনি বলেন, ‘সবই পড়ুক। তারপর যেখানে সে মেধা বিকাশের সুযোগ পাবে, সেটা করে নেবে। তাহলে অন্তত, তাদের (শিক্ষার্থীদের) মেধা বিকাশের একটা সুযোগ হয়।

শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন সব সাবজেক্টই বিজ্ঞানভিত্তিক। সেটা ধীরে ধীরে চলেই এসেছে। বিজ্ঞানের বাইরে কিছু নেই।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে দেশের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭২ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্যে স্বর্ণপদক বিতরণ করেন। তাদের মধ্যে ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা যথাক্রমে ৮৪ ও ৮৮ জন।

রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়েছে এবং লেখাপড়ায় আজকাল মেয়েরাই ভালো করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ছেলেদের লেখাপড়ায় আরো মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আজকের এ অনুষ্ঠানেও ১৭২ জন কৃতী শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮ জন নারী স্বর্ণপদক পেয়েছেন। মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি একদিকে আনন্দের হলেও পড়ালেখায় ছেলেদের পিছিয়ে পড়ার কারণ অনুসন্ধান করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই যে, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কথা আমরা বলছি, এখানেও আমাদের ছেলে-মেয়েদের সেভাবে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কারণ প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠছে এবং সেটা আরো বিকশিত হলে সেখানে আমাদের জনশক্তি লাগবেই। আমাদের জনসংখ্যাকে আমরা যদি কারিগরি, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং প্রযুক্তি শিক্ষার মাধ্যমে সেভাবে দক্ষ করে গড়তে পারি, তাহলে আমাদের কোনো সমস্যা তো কোনোদিন হবেই না, বরং আমরা অন্য দেশকে সাহায্য করতে পারব।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের কওমি মাদ্রাসাকেও আমরা স্বীকৃতি দিয়েছি এবং দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান দিয়েছি। কারণ, তাদেরও আমরা সমন্বিত শিক্ষার মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। একই ডিসিপ্লিনে নিয়ে আসতে চাই।

এ সময় ইউজিসিকে শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোরও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে যেন আমাদের মঞ্জুরী কমিশন খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগসংক্রান্ত একটা অভিন্ন নীতিমালা করা প্রয়োজন।

কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কত ছাত্র-ছাত্রী থাকবে সেটা নির্দিষ্ট করে দেয়াটাও জরুরি’—এমন অভিমত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যাতে মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আর এখন সেটা খুব কঠিন কাজ নয়।

ইউজিসিকে আরো শক্তিশালী করা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় করেছি, সেগুলোয় যাতে ভালোভাবে নজরদারি করতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে এটাকে আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি ও নেব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহিদুল্লাহ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন। অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ফিশারিজ টেকনোলজির শিক্ষার্থী মো. মোবারক হোসেন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিব, জাতীয় অধ্যাপক, সাবেক ইউজিসি চেয়ারম্যানরা, ইউজিসির বর্তমান ও সাবেক সদস্যরা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপউপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও পিএমও, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন