বৃহস্পতিবার| এপ্রিল ০২, ২০২০| ১৮চৈত্র১৪২৬

শেষ পাতা

চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চল

আমন মৌসুমের ধান সংগ্রহ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ৬৮%

দেবব্রত রায় চট্টগ্রাম ব্যুরো

 আমন মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ কর্মসূচি শেষ হচ্ছে আগামীকাল। এ কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলা থেকে ৫৫ হাজার ২৩২ টন ধান কেনার লক্ষ্য ছিল খাদ্য অধিদপ্তরের। যদিও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গত সোমবার পর্যন্ত ধান ক্রয় হয়েছে ৩৭ হাজার ৪৩১ টন বা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬৮ শতাংশ। ফলে এ অঞ্চলের সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার বড় ঘাটতি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কৃষি অধিদপ্তরের নিবন্ধিত কৃষকদের কাছ থেকেই এ ধান ক্রয় করার কথা ছিল। কিন্তু এবার ধান কিনতে গিয়ে নানা সমস্যা ও জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। চিটা পড়াসহ ধানের বিভিন্ন সমস্যা এবং সরকারের কাছে ধান বিক্রিতে কৃষকদের অনীহার কারণে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যায়নি।

চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও খাদ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ সংশোধিত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি আমন মৌসুমে চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরে ধান উৎপাদন হয়েছে ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬ টন। এখান থেকে সরকারের ক্রয় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫৫ হাজার ২৩২ টন। গত বছরের ২০ নভেম্বর শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি তথা আগামীকালের মধ্যে এ ধান ক্রয় কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা। যদিও সোমবার পর্যন্ত এ পাঁচ জেলা থেকে ধান ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে ৩৭ হাজার টনের কিছু বেশি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, নানা সমস্যার কারণে ইচ্ছা থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান কেনা যায়নি। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ধান কেনার সময় বিভিন্ন বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হয়। যেমন ধানের আর্দ্রতার মাত্রা, চিটা ইত্যাদি। এ আর্দ্রতা বা চিটা বেশি থাকার কারণে অনেক জায়গায় ধান থাকলেও কেনা যায়নি। এছাড়া নোয়াখালী জেলায় ধান ফেরত দিতে হয়েছে বেশি। তাছাড়া বড় কৃষকরাও সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে আসছেন না।

অন্যদিকে কৃষকদের অভিযোগ, তারা ধান বিক্রি করতে গেলে ঠিক থাকলেও নানা সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে ধান ফেরত পাঠানো হয়। ধান বিক্রি করতে গেলে এর পরিবহন খরচ কৃষকদেরই দিতে হয়। কিন্তু এ ধান যদি শেষ পর্যন্ত ফেরত দিয়ে দেয়া হয়, তাহলে কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। এজন্য অনেকে সরকারের কাছে ধান বিক্রি না করে বাজারে আড়তদারদের কাছে বিক্রি করছেন। সেখানে দাম সামান্য কম হলেও জটিলতা কম।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ অঞ্চলের পাঁচ জেলার মধ্যে চট্টগ্রামের ২২ হাজার ৬৯২ জন তালিকাভুক্ত কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার কথা ছিল ১৯ হাজার ৩১২ টন। ক্রয় করা হয়েছে ১১ হাজার ১৭১ টন। আর্দ্রতা ও চিটা থাকার কারণে এখানে লক্ষ্য অনুযায়ী ধান কিনতে পারেননি খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

কক্সবাজার জেলায় ৮ হাজার ৯৪১ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার লক্ষ্য ছিল ১০ হাজার ৮২০ টন। কেনা গেছে ৬ হাজার ৬৩২ টন। জানা গেছে, পরিবহন খরচ বেশি পড়াসহ নানাবিধ কারণে এখানকার তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্যে ধান বিক্রিতে অনীহা রয়েছে।

নোয়াখালী জেলায় এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৭৫১ টন ধান কিনতে পেরেছেন খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। যদিও জেলার ১৪ হাজার ৩৩ কৃষকের কাছ থেকে আমন ধান কেনার কথা ছিল ১৪ হাজার ৬৩৭ টন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখানকার ধানে এবার চিটা ও আর্দ্রতা দেখা গেছে বেশি। অন্যদিকে বড় কৃষকরাও ধান বিক্রিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

এছাড়া ফেনীতে ৬ হাজার ৮৯৪ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪ হাজার ৩৭২ টন এবং লক্ষ্মীপুরে ৯ হাজার ২০২ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭ হাজার ৫০৪ টন আমন ধান কিনতে সক্ষম হয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে কৃষি অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পরিচালক আলতাফ হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা প্রথমে একটি তালিকা তৈরি করেছিলাম। পরে সরকার থেকে এ তালিকা ও ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করা হয়। তবে সময় শেষ হতে চললেও ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। এ ধান ক্রয়ের সময় বাড়ানো সম্পর্কেও আমরা এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন