বৃহস্পতিবার| এপ্রিল ০২, ২০২০| ১৮চৈত্র১৪২৬

খবর

আমানত সুরক্ষা আইন

গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক

 ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে আমানতকারীরা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা ফেরত পাবেন, সামাজিক মাধ্যমে এমন প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সন্ধ্যায় প্রস্তাবিতআমানত সুরক্ষা আইন, ২০২০ নিয়ে  আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম এ আহ্বান জানান। এ ধরনের প্রচারণাকে গুজব বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি আমানতকারীদের আশ্বস্ত করছি, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশে কোনো ব্যাংক বন্ধ হবে না। তাই যে যা-ই বলুক না কেন, আতঙ্কিত হবেন না।

সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে একটি লিখিত বক্তব্য দেয়া হয়। তাতে বলা হয়, ১৯৮৪ সালেব্যাংক ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স অর্ডিন্যান্স ১৯৮৪ জারি করা হয়। এই অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী তফসিলি ব্যাংক অবসায়নের ক্ষেত্রে আমানতকারীদের আমানতের অর্থ ফেরত প্রদানের জন্য কাভারেজের পরিমাণ ধার্য হয়েছিল ৬০ হাজার টাকা। ২০০০ সালে ওই অর্ডিন্যান্স রহিত করে ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০ প্রবর্তন করা হয়। তখন আমানতকারীদের স্বার্থ আরো সুরক্ষিত করতে কাভারেজের পরিমাণ বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০-এ আমানতকারীর জন্য ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের পরিমাণ নির্ধারিত থাকলেও তা বাড়ানোর কোনো সুযোগ ছিল না। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে তফসিলি ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেও ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্সের আওতায় আনা এবং ডিপোজিটের ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের পরিমাণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ধারা সংযোজনপূর্বকব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০ সংশোধন করেআমানত সুরক্ষা আইন, ২০২০ চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রস্তাবিতআমানত সুরক্ষা আইন, ২০২০’-তে কাভারেজের পরিমাণ সময়ে সময়ে বৃদ্ধি/নির্ধারণ করার ক্ষমতা ট্রাস্টি বোর্ড তথা বাংলাদেশ ব্যাংককে দেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক কোনো তফসিলি ব্যাংক অবসায়িত ঘোষণা করা হলে অনধিক ১৮০ দিনের মধ্যে আমানতকারীদের প্রাপ্য টাকা আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে পরিশোধ করা হবে। এছাড়া বর্তমান বীমা তহবিলে সংরক্ষিত টাকার পরিমাণ অনুযায়ী ৯২ শতাংশ আমানতকারীর হিসাব সম্পূর্ণ বীমাকৃত। এর বাইরেওব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১’-এর ৭৪ ধারা অনুসারে কোনো তফসিলি ব্যাংক অবসায়িত হলে ওই ব্যাংকের সম্পদ হতে সব আমানতকারীর পাওনা পরিশোধের সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২০ প্রবর্তন হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীরাও এ অধিকার প্রাপ্য হবেন। আমানত সুরক্ষা ট্রাস্ট তহবিলের অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সরকারি ট্রেজারি বন্ড খাতে বিনিয়োগ করা হয়ে থাকে। এ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত মুনাফা ও তফসিলি ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত প্রিমিয়ামের মাধ্যমে তহবিলের অর্থ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতে শুধু এ তহবিল থেকেই শতভাগ আমানতকারী আমানত বীমার আওতায় আসবে বলে আশা করা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, মাত্র ৮ শতাংশ ব্যাংক আমানতকারীর হিসাব বীমাকৃত নয়। অর্থাৎ ৮ শতাংশ আমানতকারী ঝুঁকিতে আছেন। এছাড়া বাকি ৯২ শতাংশ আমানতকারীর হিসাব সম্পূর্ণ বীমাকৃত। তিনি বলেন, কোনো ব্যাংক যদি বন্ধ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে ১৮০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতকারীকে ১ লাখ টাকা দিয়ে দেবে। বাকি টাকা পরবর্তী সময়ে বন্ধ হওয়া ব্যাংকের সম্পদ বিক্রি করে আমানতকারীকে পরিশোধ করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন