সোমবার| এপ্রিল ০৬, ২০২০| ২২চৈত্র১৪২৬

দেশের খবর

সুনামগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে নতুন ফসল সূর্যমুখী

বণিক বার্তা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ

ধানের দাম না পেয়ে বিকল্প ফসল আবাদে ঝুঁকছেন সুনামগঞ্জের কৃষকরা এরই ধারাবাহিকতায় হাওড় অধ্যুষিত জেলাটিতে আবাদ হচ্ছে সূর্যমুখীর কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি রবি মৌসুমে হাওড়াঞ্চলের উঁচু জমিসহ পুরো সুনামগঞ্জে প্রায় ২৭ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে জেলায় এটাই তেলবীজটির প্রথম আবাদ গাছের বৃদ্ধি ভালো হওয়ায় তেলবীজের ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সূর্যমুখী একবর্ষজীবী ফুল গাছ ফুলের বীজ থেকে ভোজ্যতেল পাওয়া যায়, যা সূর্যমুখীর তেল নামে পরিচিত সুনামগঞ্জের হাওড়াঞ্চলের উঁচু জমিতে সূর্যমুখী আবাদের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চলতি রবি মৌসুমে কৃষক পর্যায়ে সূর্যমুখীর বীজ সার বিতরণ করা হয় সব মিলিয়ে জেলার আট উপজেলায় প্রায় ২৭ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে সদর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ তাহিরপুর এবং দোয়ারাবাজারে

কৃষকরা জানান, ভালো দাম না পাওয়ায় ধানে লোকসান গুনতে হচ্ছে কারণে কৃষি কর্মকর্তাদের উৎসাহে প্রথমবারের মতো তারা সূর্যমুখী আবাদ করেছেন আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে সবকিছু ঠিক থাকলে বীজের ভালো ফলন পাওয়া যাবে

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের ছালামপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, প্রথমবারের মতো তিনি তিন কেয়ার (এক কেয়ারে ৩০ শতক) জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করেছেন এতে খরচ হয়েছে প্রায় হাজার টাকা জমি থেকে অন্তত ২০ মণ বীজ পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি আরো বলেন, এবার লাভবান হলে আগামীতে ১৫ থেকে ২০ কেয়ার জমিতে সূর্যমূখী চাষ করব আমাকে দেখে এলাকার আরো অনেকে সূর্যমুখী চাষের আগ্রহী হয়ে উঠেছেন

জগন্নাথপুর গ্রামের সূর্যমুখী চাষী ফজলু মিয়া এক কেয়ার জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন তিনি বলেন, ধানে তো লাভ হয় না তাই সূর্যমুখী চাষ করলাম দেখি কি হয়!

সূত্র জানায়, প্রতি কেয়ারে সূর্যমুখী আবাদে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে হাজার টাকা জমি থেকে সাত থেকে ১০ মণ বীজ উৎপাদন হয় আর প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তেল উৎপাদন সম্ভব প্রতি লিটার সূর্যমুখী তেলের বর্তমান বাজারমূল্য ২৫০ টাকা সূর্যমুখী থেকে তেলের পাশাপাশি খৈলও পাওয়া যায়

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) সুনামগঞ্জের উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, সূর্যমুখীর বীজ থেকে যে তেল উত্পন্ন হয়, তা স্বাস্থ্যসম্মত মানসম্পন্ন ভোজ্যতেলের বাজারে মানের দিক থেকে অলিভ অয়েলের পরেই সূর্যমুখী তেলের অবস্থান কারণে সূর্যমুখী চাষ করে কৃষকদের লোকসান হবে না

জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিরাজুল হক বলেন, হাওড়াঞ্চলের উঁচু জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে প্রথমবার যারা সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন, ফসল ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তারা লাভবান হবেন এতে পরবর্তীতে আরো বেশি পরিমাণে সূর্যমুখীর চাষ হবে

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার দাস বলেন, সূর্যমুখী লাভজনক ফসল এই জেলায় প্রথমবার কৃষকরা এটি চাষ করেছেন সূর্যমুখীর তেল বিক্রি করে কৃষকের যেমন লাভ হবে, তেমনি খৈল বিক্রি করেও আয় করতে পারবে আমরা আশা করছি, আগামীতে সূর্যমুখীর চাষ আরো বাড়বে

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সফর উদ্দিন বলেন, সূর্যমুখী চাষ খুবই লাভজনক সুনামগঞ্জের আট উপজেলায় এবার প্রায় ২৭ হেক্টরে তেলবীজ আবাদ হয়েছে জেলায় এটাই প্রথম আবাদ আমরা সূর্যমুখী চাষের জন্য কৃষকদের সার বীজ দিয়েছি

তিনি বলেন, হাওড়াঞ্চলে ধান চাষ খুব একটা লাভজনক নয় কারণে আমরা কৃষকদের সূর্যমুখী ভুট্টার মতো লাভজনক ফসল আবাদ করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি এতে হাওড়াঞ্চলের সূর্যমুখী নিয়ে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে অনেক কৃষক বলেছেন, তারা ধান চাষ বাদ দিয়ে আগামীতে সূর্যমুখী চাষ করবেন জেলায় আগামীতে আরো বেশি পরিমাণে সূর্যমুখীর চাষ হবে

আমার স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সূর্যমুখী বীজ বাজারজাতের ব্যাপারে চেষ্টা চালাচ্ছি

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন