সোমবার| এপ্রিল ০৬, ২০২০| ২২চৈত্র১৪২৬

শিল্প বাণিজ্য

বিমসটেক সম্মেলনে বক্তারা

জ্বালানি খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগ বাড়বে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর উন্নয়নে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও তথ্যের আদান-প্রদান এ অঞ্চলের মূল চালিকাশক্তি। এসব উৎসকে কাজে লাগাতে পারলে উন্নয়নের পাশাপাশি টেকসই ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে এ খাতের প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করতে পারলে বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় দেশগুলোয় বিনিয়োগের সুযোগ অবারিত হবে।

গতকাল ঢাকায় দুই দিনব্যাপী চলাবিমসটেক অঞ্চলে জ্বালানি সহযোগিতায় জোটের ভূমিকা শীর্ষক সম্মেলনের শেষ দিনে এসব কথা বলেন বক্তারা।

বিমসটেক ও সাউথ এশিয়া রিজিওনাল ইনিশিয়েটিভ ফর এনার্জি ইন্টিগ্রেশন (এসএআরআই/ইএ) যৌথভাবে সম্মেলনের আয়োজন করে।

বিমসটেকের সাত সদস্য দেশ এবং অন্যান্য দেশের আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞরা দুদিনের সম্মেলনে চারটি কর্ম-অধিবেশনে আলোচনায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের চতুর্থ সেশনে আমন্ত্রিত অতিথি ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতো বলেন, বিমসটেক জোটগুলোর জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ অঞ্চলে অন্তত ১৫০ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। বিশেষ করে বাংলাদেশ এ জোটের একটি অংশ। সে কারণে তাদের জন্য আরো বেশি জরুরি। কেননা উন্নয়নের ক্ষেত্রে টেকসই জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বিমসটেকের সঙ্গে জাপান না থাকলেও এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাইকা ও জাপানের সহযোগিতায় ভারত, নেপাল, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক মেগা প্রকল্পে কাজ চলছে।

বাংলাদেশের জ্বালানি সেক্টরের কথা উল্লেখ করে জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, বিগ-বি প্রজেক্টে জাপান কাজ করছে। বাংলাদেশের মহেশখালীতে নির্মিত হচ্ছে এলএনজি টার্মিনাল, গভীর সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ী প্রকল্পসহ নানা প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব প্রকল্প শেষ হলে জ্বালানি সেক্টরে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বাংলাদেশ।

অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতার মাধ্যমে এ অঞ্চলের উন্নয়ন ও সহযোগিতা আদান-প্রদানের লক্ষ্যে জাইকা ও ইউএসএআইডি কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন পারকাশ বলেন, এশীয় অঞ্চলের উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য জোটের দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা আরো বেশি জরুরি। বিশেষ করে

এ আস্থার মাধ্যমে টেকসই

জ্বালানি নিশ্চিত করতে পারলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ আরো বাড়বে।

তিনি বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন কীভাবে হবে তা নির্ভর করছে এ খাতে বিনিয়োগ সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তার ওপর। জোটের দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে তা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও ইউএসএআইডির ইন্ডিয়ার রিজিওনাল প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মাইকেল স্টেইন বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ অঞ্চলের সহযোগী দেশগুলোর প্রযুক্তি আদান-প্রদান অবারিত হলে জ্বালানি খাত আরো উন্নত হবে।

তিনি বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাংলাদেশ গ্যাস ব্যবহারের পাশাপাশি এলএনজি সেক্টরে এগিয়ে যাচ্ছে। এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শেষ হলে ভারত, শ্রীলংকা ও নেপালের মতো জ্বালানি সেক্টরে শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ।

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনের ওপর সারাংশ বক্তব্য দেন সাউথ এশিয়া রিজিওনাল ইনিশিয়েটিভের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর বিনোদ কুমার। সমাপনী বক্তব্য দেন বিমসটেক মহাসচিব এম শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন