সোমবার| এপ্রিল ০৬, ২০২০| ২২চৈত্র১৪২৬

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

মিশ্র পরিস্থিতিতেও বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে ভিয়েতনাম

বণিক বার্তা ডেস্ক

চলতি বছর বিশ্বে যেসব শেয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ভিয়েতনামের শেয়ারগুলো। তবে দেশটির ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী বাজার পর্যবেক্ষকরা। দেশটির প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনার প্রতি আস্থা রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। খবর ব্লুমবার্গ।

এ মুহূর্তে ভিয়েতনামের অর্থনীতিতে মিশ্র পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একদিকে স্টকের মূল্য ২০১৭ সালের পর সর্বনিম্নে রয়েছে, অন্যদিকে দুই দশক ধরে অর্থনীতিটির ৫ শতাংশ বা তার বেশি প্রবৃদ্ধির রেকর্ড রয়েছে। আবার এরই মধ্যে দেশটির প্রধান স্টক সূচক ২০১৯ সালের অর্জনের প্রায় পুরোটাই হারিয়েছে। কিন্তু আগামী বছরজুড়ে ব্যবসাগুলো ১২ গুণ আয়ের আশা করছে।

সম্প্রতি চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাবে চলতি বছর কমেছে ৬ শতাংশের বেশি ভিয়েতনাম হো চি মিন স্টক ইনডেক্স (ভিএন ইনডেক্স) চীন স্থলসীমান্তগুলো পুনরায় খুলতে ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে দেরি করায় পর্যটন, কৃষি, বস্ত্র ও মেশিনারিসংশ্লিষ্ট শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছে ভিয়েতনাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব বহাল রেখেছেন বিশ্লেষকরা। ভিয়েতনামি কোম্পানিগুলো রেকর্ড আয় অর্জন করতে পারবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন তারা।

মিলানের স্টক ব্রোকারেজ কোম্পানি সেম্পিয়ন সিমের তহবিল ব্যবস্থাপক ফেদরিকো প্যারেন্টি বলেন, প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনা, ভ্যালুয়েশন ও লভ্যাংশ ইল্ডের দিক থেকে ভিয়েতনাম এখনো আমার পছন্দের দেশের তালিকায় রয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন কীভাবে ঘটবে, তা স্পষ্ট হওয়া মাত্র আমরা এখানে আরো শেয়ার যোগ করব।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরের লেনদেনে হ্যানয়ে ভিএন ইনডেক্স দশমিক ২ শতাংশ কমতে দেখা যায়। এর আগে এক বছরের বেশি সময়ের সর্বনিম্ন পয়েন্ট দিয়ে লেনদেন শেষ করে সূচকটি।

চীনা পর্যটকদের ভিসা স্থগিত এবং ভাইরাসের বিস্তার রোধে সভা ও উৎসবগুলো বাতিল করায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ভিয়েতনামের আয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন অনেকেই। প্রসঙ্গত, দেশটিতে আসা পর্যটকদের এক-তৃতীয়াংশই চীনা নাগরিক।

চলতি বছর ভিয়েতনামি ইকুইটি তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত ৫৩ লাখ ডলার তুলে নিয়েছেন বিদেশী বিনিয়োগকারীরা। তবে তা থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া বা ফিলিপাইন থেকে তুলে নেয়া বিনিয়োগের চেয়ে অনেক কম। এছাড়া ভিয়েতনামি ইকুইটি ইনডেক্স ২০১৮ সালে অর্জিত সর্বোচ্চ স্তর থেকে এখনো ২৫ শতাংশ নিচে থাকলেও সূচকটির দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীল থাকার প্রমাণ রয়েছে। ২০১২ সালের পর থেকে এক বছর বাদে পুরো সময়ই ঊর্ধ্বমুখী ছিল সূচকটি।

ব্রিটিশ বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি অ্যাশমোর গ্রুপের ব্যবস্থাপক অ্যান্ড্রু ব্রুডেনেল বলেন, সাম্প্রতিক শেয়ার বিক্রি মূলত পরিবহন, শক্তি ও চাহিদা খাতেআকর্ষণীয় সুযোগ তুলে ধরছে। এশিয়া ফ্রন্টিয়ার ক্যাপিটালের তহবিল ব্যবস্থাপক রুচির দেশাইও ভিয়েতনামের ভ্রমণসংক্রান্ত স্টক পছন্দের তালিকায় থাকার কথা জানিয়েছেন।

এশিয়ার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে ভিয়েতনাম। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১৯ সালে দেশটির অর্থনীতি ৭ শতাংশ সম্প্রসারিত হয়। তবে সরকারের পূর্বাভাস অনুসারে, চলতি বছর প্রবৃদ্ধি কিছুটা মন্থর হয়ে ৬ শতাংশের নিচে থাকতে পারে। তা সত্ত্বেও এ প্রবৃদ্ধি এশিয়ার সিংহভাগ দেশের তুলনায় ওপরে রয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীরা ভিয়েতনামকে চীন থেকে সরবরাহ শৃঙ্খল সরে যাওয়ার অন্যতম বড় সুবিধাভোগী বলে মনে করছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন