বৃহস্পতিবার| এপ্রিল ০২, ২০২০| ১৮চৈত্র১৪২৬

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

ট্রাম্পের ভারত সফর

ঝুলে রইল বাণিজ্য চুক্তি প্রাপ্তি অস্ত্র ক্রয়ে ঐকমত্য

বণিক বার্তা ডেস্ক

জমকালো অনুষ্ঠান ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফর। গত সোম ও মঙ্গলবারের এ সফরে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকে প্রত্যাশিত উষ্ণ সংবর্ধনা পেলেও উভয় পক্ষ বড় ধরনের কোনো বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করতে পারেনি। প্রাপ্তির মধ্যে রয়েছে শুধু ৩০০ কোটি ডলার মূল্যের সমরাস্ত্র ক্রয় চুক্তি ও তিনটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর। খবর এএফপি, নিউইয়র্ক টাইমস ও ইন্ডিয়া টুডে।

মনে করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বেশকিছু বিষয়ে মিল রয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও তারা উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যসংক্রান্ত বিদ্যমান বাধা শিগগিরই অপসারণ কিংবা কমানোর জন্য খুব একটা আগ্রহী নন বলেই মনে হচ্ছে। কারণ ট্রাম্পের সফরে দুই পক্ষ ছোট কোনো বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনেও সমর্থ হয়নি। অথচ ২০১৮ সাল থেকেই উভয় দেশের মধ্যস্থতাকারীরা এ বিষয়ে আলোচনা

করে আসছেন।

৩৬ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরের শেষ দিকে ট্রাম্প বলেন, একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার বিষয়ে দারুণ অগ্রগতি হয়েছে। ভারত জানে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করতে হবে। যদি কোনো বাণিজ্য চুক্তি হয়, তবে তা এ বছরের শেষ দিকে হবে।

ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ আড়াই হাজার কোটি ডলার। এ ঘাটতি কমানোর জন্য ২০১৮ সালে ভারতের ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্কারোপ করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে বাতিল করেন বেশকিছু ভারতীয় পণ্যের শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা। তবে নভেম্বরে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ভারতের বিশাল বাজারে মার্কিন পণ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে চাইছেন। বিশেষ করে ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে দুগ্ধজাত ও চিকিৎসাপণ্য রফতানির জন্য মার্কিন উৎপাদকদের সুযোগ করে দিতে চাইছেন তিনি।

অন্যদিকে মন্দীভূত ভারতীয় অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনিও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপ করেন।

এ অবস্থায় সোমবার ভারতে এসে দেশটির ব্যাপক প্রশংসা করেন ট্রাম্প। পরের দিন মোদির সঙ্গে স্বাক্ষর করেন ৩০০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি। চুক্তি অনুযায়ী, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ২৪টি এমএইচ-৬০ রোমিও হেলিকপ্টার কিনবে। এতে ব্যয় হবে ২৬০ কোটি ডলার। এছাড়া ৮০ কোটি ডলারে কেনা হবে ছয়টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার।

এ চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে এমন কিছু অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র হস্তান্তর করতে চাইছে, যেগুলো বিশ্বের ভয়ংকরতম অস্ত্রের অন্যতম। আমরা বিশ্বে অস্ত্র তৈরিতে সর্বসেরা। আমাদের তৈরি যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, জাহাজ অতুলনীয়। এখন আমরা ভারতের সঙ্গে চুক্তি করছি, যা ভারতের উন্নত ও আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

কিন্তু এসব সত্ত্বেও দেশ দুটি পরস্পরের পণ্যে আরোপিত শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহার নিয়ে কোনো আংশিক সমঝোতায়ও পৌঁছাতে পারেনি। আশা করা হচ্ছিল, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে হারলে-ডেভিডসন মোটরসাইকেলসহ কিছু পণ্য আমদানিতে শুল্ক কমানোর জন্য এক ধরনের সমঝোতা করবে। তবে এ বিষয়ে ট্রাম্পকে হতাশই হতে হয়েছে।

ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারতে হারলে-ডেভিডসন মোটরসাইকেল রফতানি করতে কোম্পানিটিতে প্রচুর পরিমাণে শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। অথচ ভারত তেমন কোনো শুল্ক পরিশোধ না করেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিজেদের তৈরি মোটরসাইকেল বিক্রি করছে।

ট্রাম্প আরো জানান, ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এত ভালো আর কখনই ছিল না। ফলে তিনি দেশটির সঙ্গে একটি সমন্বিত বাণিজ্য চুক্তির জন্য মুখিয়ে আছেন এবং এ বিষয়ে দারুণ অগ্রগতিও হয়েছে। অচিরেই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তাত্পর্যপূর্ণ একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

ট্রাম্পের সফরকালে চিকিৎসা সরঞ্জাম, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন