বৃহস্পতিবার| এপ্রিল ০২, ২০২০| ১৮চৈত্র১৪২৬

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

উষ্ণতর পৃথিবীর পূর্বপ্রস্তুতিতে এগিয়ে সিঙ্গাপুর

১০ হাজার কোটি সিঙ্গাপুর ডলারের পরিকল্পনা

পরিকল্পনায় এগিয়ে থাকতে সিঙ্গাপুরের সুনাম রয়েছে। আর এটি যদি হয় জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়, তাহলে সবচেয়ে খারাপ মুহূর্তের জন্যও প্রস্তুতি নিয়ে রাখে নগররাষ্ট্রটি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার যখন প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে গৃহীত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে হিমশিম খাচ্ছে, সিঙ্গাপুর সেখানে উষ্ণতা বৃদ্ধি ও সম্ভাব্য বন্যার পানির বিরুদ্ধে বেশ উন্নততর প্রতিরক্ষার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ১০ হাজার কোটি সিঙ্গাপুর ডলার বা ৭ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এশিয়ার সমৃদ্ধ এ নগররাষ্ট্র। খবর ব্লুমবার্গ।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুসারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সমৃদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৫ মিটারের মধ্যে রাখতে কাজ করবে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো।

সিঙ্গাপুরের আবহাওয়া দপ্তর সেন্টার ফর ক্লাইমেট রিসার্চ সিঙ্গাপুরের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি দেখা দিলে সিঙ্গাপুরের পানিপ্রবাহ সর্বোচ্চ ৪ মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনকেজীবন ও মৃত্যুর বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি লিয়েন লুং। এটা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং তা কোনো দেশের জাতীয় নিরাপত্তার মতোই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গত আগস্টে জাতীয় দিবসের শোভাযাত্রায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, আমাদের দ্বীপরাষ্ট্রটির সুরক্ষায় এদিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে।


সিঙ্গাপুরের উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সরকারের আবহাওয়া দপ্তর বলছে, গত ছয় দশকে বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে ২ গুণ দ্রুত উষ্ণতা বেড়েছে শহরটির। প্রতি দশকে নগররাষ্ট্রটির উষ্ণতা বেড়েছে শূন্য দশমিক ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উষ্ণতার দশক পার করল সিঙ্গাপুর। বর্তমান হারে যদি উষ্ণতা বাড়তে থাকে, তাহলে ২১০০ সাল নাগাদ দৈনিক তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাবে।

ভবিষ্যতের ঝুঁকি মাথায় রেখে ২০১৩ সালে উপকূলীয় অভিযোজন গবেষণা শুরু করে সিঙ্গাপুরের বিল্ডিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন অথরিটি (বিসিএ) গত বছর সরকারের কাছে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে বিসিএ। গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল সরকার এখনো মূল্যায়ন করছে বলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে তারা।

অবশ্য ১৮ ফেব্রুয়ারিতে দেয়া বাজেট বক্তৃতায় সিঙ্গাপুরের অর্থমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী হেং সুই কিয়াট জানান, প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি সিঙ্গাপুর ডলারের একটি উপকূলীয় ও বন্যা সুরক্ষা তহবিল গঠন করা হচ্ছে।


সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টসহ সিঙ্গাপুরের এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ মিটারেরও কম উঁচু। সম্ভাব্য বন্যা ঠেকাতে এবং স্থলভাগ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ও অসংখ্য নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে নগররাষ্ট্রটি। উনিশ শতকের প্রথম দিকে শুরু হওয়া ভূমি পুনরুদ্ধার কর্মসূচির মাধ্যমে ২৫ শতাংশের বেশি স্থলভাগ বাড়িয়েছে সিঙ্গাপুর। ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে ভূমি পুনরুদ্ধার প্রকল্পে ৬০ কোটি সিঙ্গাপুর ডলারের বেশি ব্যয় করা হয়েছে। আগামী ৫০ কিংবা ১০০ বছরে তার চেয়ে ১০০ গুণেরও বেশি ব্যয় করতে চাচ্ছে সিঙ্গাপুর।

২০০৮ সালে ২২ কোটি ৬০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার ব্যয়ে নির্মিত ম্যারিনা ব্যারেজটি চালু করা হয়। এর মাধ্যমে সিঙ্গাপুর নদীকে সমুদ্র থেকে পৃথক করে একটি রিজার্ভার (জলাধার বা চৌবাচ্চা) তৈরি করা হয়।

উষ্ণতর বিশ্বে সিঙ্গাপুরের উদ্বেগের বিষয় খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা। দ্বীপটির মাত্র ১ শতাংশ ভূমি কৃষিকাজের জন্য ব্যবহূত হয় এবং দেশটি তার খাদ্যের ৯০ শতাংশই আমদানি করে থাকে। ভূমিমূল্য বিশ্বের সর্বোচ্চদের কাতারে থাকায় কৃষিকাজের জন্য সরকারের কাছে জমি চাওয়া মানেচাঁদ হাতে পাওয়ার মতো বিষয় বলে মনে করেন অ্যালান লিম নামে এক নগরচাষী। ভার্টিক্যাল কৃষি কোম্পানি কমক্রপের এ স্বত্বাধিকারী একটি শিল্পভবনের ছাদে লেটুস ও পুদিনা চাষ করছেন। হাইড্রোফনিক্স ও সৌরশক্তির মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিঙ্গাপুরে কৃষিকাজ করা কয়েক ডজন কোম্পানির একটি হচ্ছে কমক্রপ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন