সোমবার| এপ্রিল ০৬, ২০২০| ২২চৈত্র১৪২৬

টকিজ

‘শ্রোতার ভালোবাসায় সিক্ত ব্যস্ততা...’

১৯৭৯ সাল থেকে বর্তমান, চার দশকের দীর্ঘ পথচলায় অসংখ্য গান উপহার দিয়েছেন সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী। সম্প্রতি তার দুটি নতুন গান বের হয়েছে। গান নিয়ে আগামীতে তিনি কীভাবে এগোতে চান, প্রসঙ্গে গতকাল টকিজের সঙ্গে কথোপকথন শুরু হলেও তাতে যোগ হয় আরো নানা প্রসঙ্গ। পাঠকদের জন্য ফাহমিদা নবীর সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুবেল পারভেজ

সম্প্রতি আপনার দুটি নতুন গান বের হয়েছে। সামনের পরিকল্পনা বলুন। মুহূর্তে কী নিয়ে ব্যস্ততা যাচ্ছে?

বলতে পারেন শ্রোতার ভালোবাসায় সিক্ত ব্যস্ততা উপভোগ করছি। আসলে ব্যস্ততার বিষয়টি আগে ছিল এক রকম আর এখন আরেক রকম। এখন নিজের ওপর নির্ভর করে আমি  আসলে কী কাজ করতে চাই, কতটুকু করতে চাই, কেন করতে চাই, বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নিজের মতো করে কাজ করছি। আগের চেয়ে এখন গান করা কমিয়ে দিয়েছি। অনেকেই জানতে চায়, গতকাল কী গাইলাম, আজ কী গাইছি, আগামীকাল কী গাইব। আসলে প্রতিদিন কি গান করা সম্ভব? আমি অন্তত পারি না। এজন্য ধীরেসুস্থে গান করছি, পরিকল্পনাও সেভাবে সাজাচ্ছি।

শ্রোতারা যে ধরনের গান আপনার কাছে প্রত্যাশা করে, সে ধরনের গান নিয়ে কী ভাবছেন?

সত্যি বলতে কি, আমার শ্রোতার সংখ্যা খুবই কম। যদিও সংখ্যা কম হলেও আমি যে ধরনের গান করি, সে ধরনের গান তারা শুনতে পছন্দ করে। যে কারণে তাদের কথা চিন্তা করেই যত্ন নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করি। যেনতেন গান করে শ্রোতাদের মন খারাপ করার কোনো অধিকার আমার নেই। সবচেয়ে বড় কথা, একদিনে শ্রোতা তৈরি হয় না, ধীরে ধীরে নিজের গানের শ্রোতা তৈরি করতে হয়। এজন্যও আমি সতর্ক থাকার চেষ্টা করি।

আপনার বাবা মাহমুদুন নবী বিখ্যাত সংগীতবিশারদ। গান শেখা নিয়ে তার কোনো উপদেশের কথা মনে পড়ে?

সবসময়ই মনে পড়ে। এর মধ্যে একটি স্মৃতি এখনো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তা হলো, কথা প্রসঙ্গে একদিন আমি নয়তো সামিনা যেকোনো একজন বাবাকে  বলেছিলাম, ‘আমি গান করছি।তখন বাবা রেগে গিয়ে বলেছিলেন, ‘মাত্রই শেখা শুরু করেছ আর এখনই বললে গান করছি! গান তো তোমার শোনাই হলো না, না শুনে গান গাওয়া যায়? আগে অনেক বেশি গান শোনো, তারপর কানটা পাকাও। আর কখনো ধরনের কথা বলবে না।তার ওই উপদেশ আমার জীবনে গভীর প্রভাব রেখেছে।

নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল খুলে সেখানে গান প্রকাশ করছেন কেন?

আসলে ওই রকম কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে ইউটিউব চ্যানেল খুলিনি। ভালো গান মাথায় এলে করে ফেলি, ওখানে রেখে দিই। আমরা যখন থাকব না, তখন আমাদের গান যেন মানুষ শুনতে পারে, সেজন্যই এটি করা। তাছাড়া কেনইবা বিশাল আয়োজন নিয়ে ওভাবে গান করব, এতে কোনো রয়্যালটিও নেই, আমরা কোনো রয়্যালটি পাই না। আমার বাবার অসংখ্য গান ইউটিউবে চলছে। কিন্তু উত্তরাধিকার সূত্রে সেখান থেকেও আমরা কোনো সম্মানী পাই না।

মেধাস্বত্ব নিয়ে আইন রয়েছে...

আমার তো মনে হয়, আইনের উপযুক্ত প্রয়োগ হচ্ছে না।


আপনি তো চাইলেই আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।

চেষ্টা যে করিনি তা নয়, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। শেষ পর্যন্ত বুঝলাম, অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে খুব বুদ্ধি করে এগোতে হবে। যারা প্রকৃত শিল্পী, তারা আসলে ওই রকম জটিল প্রক্রিয়ার ভেতর থেকে স্বার্থ হাসিল করতে পারে না।

দেশে আধুনিক গানের প্রতি সাধারণ মানুষের অনেক আগ্রহ। এখন গানের পরিস্থিতি কোনদিকে দাঁড়িয়ে আছে?

এখন কিছুখারাপকথার গান হচ্ছে, যা খুবই বিপজ্জনক। আসলে গান তো শুধু বিনোদন নয়। গান সুখ-দুঃখের কথা বলে। তা না হলে যুদ্ধের সময়মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’, রকম গান না থাকলে মুক্তিযোদ্ধারা দুঃসহ ওই পরিস্থিতিতে এত অনুপ্রাণিত বোধ করতেন না। আমার বাবার কাছে মুক্তিযোদ্ধারাও আসতেন, গান শুনে আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা যুদ্ধের ময়দানে চলে যেতেন। যে কারণে গানকে এত সহজভাবে নেয়া উচিত নয়, এটি শুধু বিনোদিত করে না, গান মানুষকে শক্তি দান করে। সুতরাং যা ইচ্ছা সেই ভাষায় গান করলাম আর শিল্পী হয়ে গেলাম, তা ভাবা ঠিক নয়। যারা এভাবে এগোচ্ছে, তারা হয়তো আমাকে বলতে পারে, ‘আপনার কী?’ কিন্তু আমি বলব, আমার কিছু না। আপনার চিন্তা আপনি করেন, আমার বলার আমি বলব।

প্রায় চার দশক ধরে গান করছেন। আপনি আপনার বোন সামিনা চৌধুরীকে নিয়ে আপনার বাবা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, এতদিন পর এসে সেই স্বপ্ন কতটা সত্যি করতে পেরেছেন বলে মনে করেন?

তা হয়তো ধরে ধরে ওভাবে বোঝাতে পারব না। আসলে আমাদের মা-বাবা দুজনই চাইতেন, আমরা খুব ভালো করে গান গাই। আমাদের গানের কথায় যেন কোনো খারাপ কথা না থাকে। আমরা দুই বোন তাদের সে কথা মেনে চলার চেষ্টা করি। আর কিছু অর্জন হোক বা না হোক, অন্তত এতদিন পর এসে বলতে পারি, আমাদের গানের তালিকায় কোনোখারাপকথার গান নেই।

দুই বোন একসঙ্গে একটা সময় গেয়েছেন। তেমনটি আর দেখা যাচ্ছে না কেন?

সামিনা আর আমি একসঙ্গে গেয়েছি, ভালো অনুষ্ঠান হলে আমাদের ডেকেছে, আমরা গিয়েছি। কিন্তু এখন আর সে রকম মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান হয় না। যে কারণে আমন্ত্রণ জানালেও যেতে অনীহা বোধ হয় আমাদের। আশা করি, ভালো অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ আসবে এবং দুই বোন আবারো একসঙ্গে গাইব।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন