শুক্রবার| এপ্রিল ০৩, ২০২০| ১৯চৈত্র১৪২৬

খবর

নিরীক্ষা দাবির ১০০০ কোটি টাকা দিল গ্রামীণফোন

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবির সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১০০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে গ্রামীণফোন।

আজ রোববার বিটিআরসি কার্যালয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হকের কাছে এক হাজার কোটি টাকার পে-অর্ডার তুলে দেন গ্রামীণফোনের হেড অফ রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ভেরিফায়েড পেইজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘সুখবরটা পেলামই। গ্রামীণফোন এক হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছে।’

গত বছরের ২৪ নভেম্বর বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবির ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা তিন মাসের মধ্যে বিটিআরসিকে পরিশোধ করতে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। এ আদেশের ওপর গত ২৬ জানুয়ারি রিভিউ পিটিশন দাখিল করে গ্রামীণফোন। বৃহস্পতিবার এ আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা পরিশোধে গ্রামীণফোনকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে সোমবার রিভিউ আবেদনের বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেন আদালত। সে অনুযায়ী একদিন বাকী থাকতেই টাকা পরিশোধ করলো প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে গত শুক্রবার দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটরটি এক বিবৃতিতে জানায়, গ্রামীণফোন বাংলাদেশের আইনি পদ্ধতিকে সম্মান করে। তবে কোম্পানি ও এর ব্যবস্থাপনার ওপর বিটিআরসি যে চাপ প্রয়োগ করেছে, সে বিষয়ে আদালতের সুরক্ষা প্রত্যাশা করছে গ্রামীণফোন। অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদান বন্ধ, লাইসেন্স বাতিলে কারণ দর্শানোর নোটিস, নম্বর সিরিজ পুনর্ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ ও প্রশাসক নিয়োগের হুমকির মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বিটিআরসি। এসব কারণে গ্রাহক ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এসব পদক্ষেপ।

বিটিআরসির দাবি অনুযায়ী, নিরীক্ষা আপত্তিতে গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ও আরেক সেলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটার কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে সরকারের। নিরীক্ষা আপত্তিতে গ্রামীণফোনের কাছে দাবি করা সাড়ে ১২ হাজার কোটির মধ্যে বিটিআরসির পাওনা ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূল পাওনা ২ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা ও বাকি ৬ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা বিলম্ব ফি ও সুদ। এর বাইরে ৪ হাজার ৮৬ কোটি টাকা পাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

গত বছরের ১৭ অক্টোবর বিটিআরসির নিরীক্ষা আপত্তি দাবির ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। বিটিআরসি লিভ টু আপিল করলে আপিল বিভাগ গ্রামীণফোনকে ২ হাজার কোটি টাকা দিতে নির্দেশ দেন। আপিল বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে গ্রামীণফোন গত ২৬ জানুয়ারি রিভিউ পিটিশন দাখিল করে। এতে ২ হাজার কোটি টাকার পরিবর্তে ৫৭৫ কোটি টাকা দেয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন জানায় গ্রামীণফোন। নিরীক্ষা দাবির মূল পাওনার ২৫ শতাংশ হিসেবে প্রায় ৫৭৫ কোটি টাকা জমা দিতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। আর আদালতের বাইরে আলোচনার অংশ হিসেবে গত বুধবার বিটিআরসিকে ১০০ কোটি টাকা দেয়ার প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করে সংস্থাটি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন