বুধবার| এপ্রিল ০১, ২০২০| ১৭চৈত্র১৪২৬

সম্পাদকীয়

ক্রেতা আসছে না, উৎপাদন বন্ধ চামড়া শিল্পে

বিকল্প বাজার সন্ধান জরুরি

চলমান করোনাভাইরাস সংকট চীনের অর্থনৈতিক গতি শ্লথ করার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তা এরই মধ্যে স্পষ্ট বিশেষ করে দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হওয়ায় বিভিন্ন দেশের উৎপাদন সরবরাহ শৃঙ্খলে গভীরতর দোলাচল দৃশ্যমান বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয় আমাদের শিল্প খাতে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল, ফ্যাব্রিকস, রাসায়নিক পদার্থ, কারখানার যন্ত্রপাতি আমদানির প্রধান উৎস চীন হওয়ায় পণ্যপ্রাপ্তিতে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ফলে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনযজ্ঞ চালিয়ে বৈশ্বিক ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ মেটানো নিয়ে পোশাক খাতে বর্তমানে বিরাজ করছে শঙ্কা একই অবস্থা চামড়া শিল্পেও করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের বাস্তবতায় চামড়াজাত পণ্যের প্রধান ক্রেতা চীনা ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে আসতে পারছেন না আবার দেশটি থেকে চামড়া প্রক্রিয়াজাতের প্রয়োজনীয় রাসায়নিক আমদানিও বন্ধ বলতে গেলে  প্রস্তুত চামড়াপণ্য রফতানি প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহূত ইনপুট আমদানি উভয় দিক থেকেই বিপাকে পড়েছে ট্যানারিগুলো ফলে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে সক্রিয় অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে অবস্থা দীর্ঘতর হলে সংশ্লিষ্ট শিল্পটি বড় বিপর্যয়ে পড়তে পারে কাজেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প বাজার সন্ধান এবং সরকারের দিক থেকে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা প্রদান জরুরি

এমনিতেই কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে তিন বছর ধরে ইউরোপের ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে চামড়া কিনছেন না ফলে প্রতি বছর সংগৃহীত চামড়ার উল্লেখযোগ্য অংশই মজুদ থেকে যাচ্ছে প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে চীনকে বিকল্প বাজার হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে কিছুটা কম দামে চীনা ব্যবসায়ীদের কাছে চামড়া বিক্রি করে আসছিলেন বাংলাদেশী রফতানিকারকরা এখন নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে চীনের সঙ্গে কোনো ব্যবসাই হচ্ছে না এতে ট্যানারি মালিকরা বড় লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন এটা নিশ্চয়ই উদ্বেগজনক, তবে নভেল করোনাভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতিকে একই সঙ্গে সুযোগ হিসেবেও নিতে হবে আমাদের চামড়াজাত পণ্য রফতানি গতানুগতিক কিছু রাষ্ট্রে এখনো সীমাবদ্ধ আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি সুযোগে বলিষ্ঠ উদ্যোগ নিয়ে চামড়ার বিকল্প বাজার অনুসন্ধান প্রয়োজন এক্ষেত্রে বাংলাদেশী দূতাবাসগুলোর একটি সক্রিয় ভূমিকা থাকা চাই 

দেশের অর্থনীতি একটি রূপান্তরশীল পর্যায়ে রয়েছে এটিকে অব্যাহত রাখতে হলে রফতানিমুখী শিল্পের উৎপাদন প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা চাই করোনাভাইরাসের প্রভাব কত দিনে কমবে, তা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজমান তাই সময় থাকতেই আমাদের রফতানির বিকল্প ক্ষেত্র অনুসন্ধান দরকার এক্ষেত্রে সরকার বিভিন্ন বাংলাদেশী মিশনে নিজস্ব বাণিজ্যিক পরামর্শদাতাদের নিয়োগ করতে পারে, যারা নতুন বাজার সন্ধানের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবেন এবং সেখানকার ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কাছে তা তুলে ধরবেন একই সঙ্গে চামড়া শিল্পের উদ্যোক্তাদেরও সক্রিয় হতে হবে  কোন কোন দেশে প্রস্তুত চামড়া চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা আছে, তা খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে তারা যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন করোনাভাইরাসের প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে সম্পৃক্ত অন্য দেশগুলোয়ও পড়েছে বাস্তবতায় রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউরোপীয় দেশগুলো শুধু নয়; তুরস্ক, মরক্কো ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোও নিজ নিজ উৎপাদন খাতের সক্ষমতা বজায় রাখতে বিকল্প অভিনব ক্ষেত্র সন্ধানে ব্রতী হয়েছে তারা কীভাবে এগোচ্ছে, তা আমাদেরও লক্ষ রাখতে হবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হলে এর ক্ষত সামলানো আমাদের শিল্প খাতের জন্য কঠিন হবে না

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন