শুক্রবার| এপ্রিল ০৩, ২০২০| ১৯চৈত্র১৪২৬

আন্তর্জাতিক খবর

একই স্কুলে অর্ধশতাধিক যমজ!

বণিক বার্তা অনলাইন

নাটক-সিনেমায় যমজ ভাই কিংবা বোনকে নানা রকম বিড়ম্বনার দৃশ্য দেখে থাকবেন নিশ্চয়ই। গল্পের প্রয়োজনে কিছুটা রঙ মিশিয়ে এ দৃশ্যগুলো বাস্তবে একেবারে ঘটে না তা কিন্তু নয়। বিশেষ করে স্কুলে একই ক্লাসে যমজ শিশু থাকলে শিক্ষকদেরও বিভিন্ন সময়ই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। আর যদি একই স্কুলে এমন অর্ধশতাধিক যমজ ভাই-বোন থাকে?

ভাবছেন, এমন আবার হয় নাকি! হ্যাঁ এমনটাই হয়েছে ভারতের তামিল নাড়ু রাজ্যের নাগাপাত্তিনাম জেলার শিরকাড়ি শহরের একটি স্কুলে। দক্ষিণ ভারতের এই ছোট্ট শহরটিতে শতাধিক যমজ বাস করে। তাদের মধ্যে ৫০-এরও অধিক জোড়া যমজ আবার পড়াশোনা করে একই স্কুলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এটি আশীর্বাদ মনে হলেও চিকিৎসকরা খুঁজছেন এই রহস্য উদ্ঘাটনের পথ। 

যমজরা একজন যেন অন্যজনের প্রতিচ্ছবি। কখনো তাদের কথাবার্তা, চলাফেরা একদম হুবহু মিলে যায়। আবার এর বিপরীতও দেখা যায়। বাড়ি, স্কুল, মহল্লা সবখানেই একই চেহারার জন্য নানানরকম অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। স্কুলটিতে পড়ুয়া যমজ বোনের একজন জানায়, মানুষের প্রতিক্রিয়া তাদের কাছে বেশ মজাদার। অন্যজন নিজেদের ভাগ্যবতী বলে মনে করেন। কেননা যমজ হবার দরুণ তারা সবার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এমনকি এই দুইবোনের জন্যে তাদের বাবা-মাও বেশ জনপ্রিয়।

শহরের এই রহস্যের কোন যৌক্তিক ব্যাখ্যা নেই। তবে দিন দিন যমজের সংখ্যা বাড়েই চলছে। এজন্য একদল চিকিৎসক শহরটির যমজ সংযুক্তি নিয়ে গবেষণায় নেমেছেন। এর পেছনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও হয়তো খুব শিগগিরই সবার সামনে আসবে। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে যমজ সন্তান আশীর্বাদ। একজন বাসিন্দা বলেন, ‘আমার মায়ের দিক দিয়ে তিন প্রজন্ম যমজ সন্তানের মুখ দেখেছে। আমি নিজেও যমজ এবং আমার দুটি যমজ কন্যা সন্তান রয়েছে। এটা আমার জীবনে সবচেয়ে বেশি সুখকর বিষয়।’


এমনটি যে শুধু তামিল নাড়ুতেই ঘটেছে তা নয়। এমন নজির পাওয়া যায় ব্রাজিলের ছোট একটি শহর কানজদু গোদয়-তে। এই শহরটিকে যমজের শহর বললেও ভুল হবে না। বহু বছর ধরে এমন যমজ শিশুর জন্ম দেখে আসছে শহরটি। এমনকি প্রতি দু’বছর পরপর যমজদের নিয়ে ঘটা করে বিরাট উৎসবও আয়োজন করে শহরের বাসিন্দারা।

এই শহরটিতে এত বেশি চোখে পড়তো যে, সেখানকার অধিবাসী লুসিয়া গ্রোনিৎজি ও লুসিয়ানি গ্রোনিৎজি দুই যমজ বোনের কাছে যমজ না হওয়াটাই অস্বাভাবিক। কেননা তাদের পরিবার, স্কুল সবখানেই যমজদের অবাধ বিচরণ।  তারাও জানালেন শিক্ষকরা তাদের আলাদা করতে কত শত ঝামেলার সম্মুখীন হন।

সূত্র: বিবিসি

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন