শুক্রবার| এপ্রিল ০৩, ২০২০| ১৯চৈত্র১৪২৬

ফিচার

জনপ্রিয় রান্নার চ্যানেলগুলোর ধোঁকাবাজি

বণিক বার্তা অনলাইন

ইউটিউবে হাজার হাজার রান্নার চ্যানেল আছে। এসব চ্যানেলে সহজ উপায়ে মজার মজার রান্না বা খাবার তৈরি দেখানো হয়। লাখ লাখ দর্শক তা দেখেন, পছন্দ করেন, শেয়ার করেন। এখন, কথা হলো আদৌ এসব খাবার খাওয়ার উপযোগী কি না বা এভাবে খাবার তৈরি করাই বা যায় কি না! বিবিসির টেকনোলজি রিপোর্টার ক্রিস ফক্স এ ধরনের ভিডিও নিয়ে একটি অনুসন্ধান চালিয়েছেন। ভিডিও দেখানো পদ্ধতি অনুসরণ করে খাবার তৈরির চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি ব্যর্থ হয়েছে। অথচ ওইসব ভিডিও দেখেছেন লাখ লাখ মানুষ।

লাইফ স্টাইল চ্যানেল ব্লজম-এ দেখানো হয়েছে ‘মিল্ক কার্টন ফ্লান’ তৈরি। এই ভিডিওটি ১ কোটি ৭০ লাখবার দেখা হয়েছে। খুবই সহজ পদ্ধতি: একটি দুধের কার্টনে উপাদান মিশিয়ে তা মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গরম করতে হবে। তারপর ঠান্ডা করলেই হয়ে যাবে ইয়াম্মি ‘মিল্ক কার্টন ফ্লান’।

ফক্স হুবহু একটার পর একটা ধাপ অনুসরণ করেন। একটি কার্টনে দুধের সঙ্গে ডিম ও মার্শম্যালো মিশিয়ে ওভেনে ঢুকাতে গিয়ে দেখা গেল বিপত্তি- কার্টনটির উচ্চতা ওভেনের ডোরের চেয়ে বেশি। ফলে সেটি ভেতরে নেয়া সম্ভব হলো না। যদিও ভিডিওতে দেখানো প্যাকেটটিই নিয়েছিলেন। ভিডিওটি খুঁটিয়ে দেখতে গিয়ে চোখে পড়লো, কার্টনটি গোড়ার দিকে কাটা। যাই হোক, ফক্স একটি কাপে মিশ্রণটি ঢেলে ওভেনে ১০ মিনিট গরম করলেন। ঠান্ডা করার পর যা তৈরি হলো সেটি ভিডিওতে দেখানো মোলায়েম ‘মিল্ক কার্টন ফ্লান’ এর ধারেকাছেও যায়নি। 

এরপর সো ইয়ামি চ্যানেলেন ‘ গামি বিয়ার হেকস’ মিষ্টান্ন তৈরি, এটি ৩২ লাখবার দেখা হয়েছে। এখানে গামি বিয়ারকে জেলিতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এটি মিষ্টান্ন হিসেবে দারুণ। এবারো হুবহু ভিডিওর অনুসরণ করেও দেখা গেল সেটি মোটেও জেলির মতো হলো না, বরং ঘন ও চিটচিটে একটি অখাদ্য পাওয়া গেল! অধচ ভিডিওতে দেখানো হয়েছে জেলির মতো বস্তুটিকে পাত্র থেকে গ্লাসে ঢেলে চামচ গামি কেটে তোলা হচ্ছে বিয়ারের জেলি। 

ওভেনে কাঁচা ভুট্টা থেকে পপকর্ন তৈরির একটি ভিডিওর ক্ষেত্রেও এরকম প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এটি দেখিয়েছে জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ৫- মিনিট ক্র্যাফ্টস। একটা কাগজের ব্যাগে ভুট্টা নিয়ে মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গরম করলেই পাওয়া যায় পপকর্ন। এমন দৃশ্যই ভিডিওতে দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভুট্টাটি গরম হওয়ার ছাড়াই কিছুই হয় না।

ফক্স একা নন, অনেকেউ এই ধোঁকার বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছেন। এদের মধ্যে একজন খাদ্য বিশেষজ্ঞ অ্যান রেয়ারডন। তিনি নিজেও একটি রান্নার চ্যানেল চালান। তিনি রান্নায় এই ভিডিওগুলোকে ভুয়া বলে আখ্যায়িত করেন। তিনিও সো ইয়ামির দেখানো রেসিপি অনুসরণ করে স্ট্রবেরি আইসক্রিম দিয়ে কেকের ক্রিম বানানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সেটি অসম্ভব।

অ্যান বলেন, এগুলো যে কেবল মিথ্যা তা নয়। মাঝেমধ্যে তা স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ ঝুকিপূর্ণ। ৫- মিনিট ক্র্যাফ্টসে একটি রঙিন স্ট্রবেরিকে সাদা বানাতে ব্লিচ করা হয় । যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বাচ্চারা দেখলে এটা খেতে চাইতে পারে। 

আসল কথা হলো, এসব রান্নাবান্নার সম্পূর্ণ ভিডিও দেখানো হয় না। এর পেছনে আরো অনেক গল্প থাকে, যা চ্যানেলগুলো এড়িয়ে যায়। এছাড়া ভিউ বাড়ানোর জন্য অনেকে মিথ্যা গল্প সাজায়, ভুয়া দৃশ্য বানায়।

৫- মিনিট ক্র্যাফ্টসের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেছিল বিবিসি। কিন্তু তারা কোনো জবাব দেয়নি। তবে সো ইয়ইম ও ব্লজম তাদের লস এঞ্জেলেসের স্টুডিওতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। কিন্তু শর্ত হলো কোনো ভিডিও ধারণ করা যাবে না!

সূত্র: বিবিসি

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন