শুক্রবার| এপ্রিল ০৩, ২০২০| ১৯চৈত্র১৪২৬

বদ্বীপ

ই উ এ স ডি এ র প্র তি বে দ ন

বছরে ১৬ হাজার ১০০ কোটি ডলারের খাবার অপচয়

বদ্বীপ ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে উৎপাদিত খাবারের বড় একটি অংশই ভোক্তার হাত পর্যন্ত পৌঁছে না উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণ, বিপণন ভোগপুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ খাবার অপচয় হয় সবচেয়ে বেশি খাবার অপচয় হয় খুচরা বিক্রি ভোক্তা পর্যায়ে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্প্রতি মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস বিভাগ বিশ্বজুড়ে খাবার অপচয় নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এতে বলা হয়েছে, খুচরা বিক্রি ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে ১৬ হাজার ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যমানের খাবার অপচয় হয়

শুধু খুচরা বিক্রি ভোক্তা পর্যায়ে নয়, বরং উৎপাদন বিপণন পর্যায়ের খাবারে বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদনকালীন ক্ষেতে বিপণনকালীন খুচরা বিক্রেতাদের হাতে পৌঁছার আগেই বিশ্বজুড়ে উৎপাদিত ৩০ শতাংশ ফল সবজি নষ্ট হয়


ফল সবজির বাজার বিশ্লেষণ করে ইউএসডিএ জানিয়েছে, উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি খাবার অপচয় হয় ভোক্তা পর্যায়ে শতাংশের হিসাবে এর পরিমাণ ৪২ ভাগ এর পরই রয়েছে উৎপাদন সংগ্রহকালীন পর্যায় পর্যায়ে ৩০ শতাংশ ফল সবজি নষ্ট হয় পোস্টহারভেস্ট বা সংগ্রহ-পরবর্তী শতাংশ এবং প্যাকেটজাত করার সময় শতাংশ ফল সবজি নষ্ট হয়ে যায় আর ১৮ শতাংশ ফল সবজি নষ্ট হয় খুচরা পর্যায়ে বিপণনের সময়

বিশ্বজুড়ে খাবারের অপচয় কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে তিনটি উপায় জানিয়েছে সংস্থাটি প্রথমত, অপচয় কমিয়ে আনা এক্ষেত্রে খাদ্যদ্রব্যের মান উন্নয়ন করতে হবে, যাতে খাবারটি দীর্ঘদিন ভালো থাকে প্রয়োজনে রান্না করার পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে বদলাতে হবে বিপণন কৌশল

দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে ফুড ওয়েস্ট রিকভারি এর অংশ হিসেবে কোনো উৎসব আয়োজনে থেকে যাওয়া খাবার কিংবা অবিক্রীত খাদ্যপণ্য ফুড ব্যাংক কিংবা খাতের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে দিয়ে দেয়া যাতে এসব সংস্থা বেঁচে যাওয়া খাবার সহজেই অভুক্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে খাবারের অপচয় কমে আসে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ফুড ব্যাংকের মতো অনেক অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বা অ্যাপ আছে প্রয়োজনে এগুলোর সহায়তা নেয়া যেতে পারে

আর সর্বশেষ পর্যায়ে রয়েছে রিসাইকেল বা খাবারের পুনর্ব্যবহার অনেক খাবার রয়েছে যেগুলো নষ্ট হওয়ার আগ মুহূর্তে কিংবা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় ফল সবজির মতো অনেক খাবার দিয়ে প্রাকৃতিক জৈব সার তৈরি করা যায় জৈব জ্বালানি তৈরিতেও খাদ্যশস্য, আখসহ বিভিন্ন পণ্য ব্যবহার হয় ফলে খাবার ফেলে না দিয়ে বিকল্প কিছুতে ব্যবহার করলে একদিকে যেমন অপচয় কমে আসে, তেমনি অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও কমানো সম্ভব

ইউএসডিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার বেশ বড় একটি সংখ্যা অথচ এখনো বিশ্বের অনেক মানুষ প্রতিদিন দুবেলা খাবারের জন্য লড়াই করছে তাই উন্নত দেশগুলোয় খাবারের অপচয় কমিয়ে এনে বিকল্প ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি 

 


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন