শুক্রবার| ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০| ১৫ফাল্গুন১৪২৬

আন্তর্জাতিক খবর

কভিড-১৯: মৃতের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়ালো

বণিক বার্তা অনলাইন

চীনে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আজ শনিবার চীনের স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে গতকাল আরো ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ১৩৯ জনই ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল হুবেই প্রদেশের। এ নিয়ে চীনের মূল ভূখন্ডেই মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো এক হাজার ৫২৩ জনে। এছাড়াও জাপান, হংকং ও ফিলিপাইনে একজন করে মারা গেছেন। সবমিলিয়ে মারা গেছেন এক হাজার ৫২৬ জন।

এছাড়া গতকাল পর্যন্ত নতুন করে দুই হাজার ৬৪১ জন আক্রান্ত হয়েছেন; এ নিয়ে শুধু চীনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬৬ হাজার ৪৯২ জনে। চীন ছাড়াও বিশ্বের প্রায় ২৪টি দেশে ৫০০ জনের মতো এই রোগে আক্রান্ত রয়েছেন।

গত ডিসেম্বরে চীনে প্রথম ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। যে চিকিৎসক সর্বপ্রথম এ ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন, গত সপ্তাহে তিনিও আক্রান্ত হয়ে মারা যান। যদিও শুরুতে এ চিকিৎসকের এমন সতর্কীকরণের বিষয়টি উপেক্ষা করে উপরন্তু তাকে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছিল চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। যে কারণে ভাইরাসটি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় সরকারের প্রতি বিদ্বেষ বাড়ছে সাধারণ মানুষের। তারা মনে করে, শুরু থেকেই এটির বিষয়ে সরকার লুকোচুরি করায় এটি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হয়েছে। লি ওয়েনলিং নামে ওই চক্ষু চিকিৎসকের মৃত্যুর পর চীন সরকারের প্রতি জনসাধারণের এ ক্ষোভ আরো বেড়েছে।

সরকারের বিরুদ্ধে চলমান এ ক্ষোভের মধ্যে সম্প্রতি সমালোচনা করার অভিযোগ এনে হুবেই প্রদেশের দুই শীর্ষ নেতাকে বরখাস্ত করেছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। এছাড়া অনেক সরকারি কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে। এসব জায়গায় শি জিন পিংয়ের আনুগত্যশীল কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, হুবেই প্রদেশ ও রাজধানী উহানের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধানদের সরিয়ে দেয়া হয়। এর মধ্যে সাংহাইয়ের সাবেক মেয়রকে হুবেইয়ের প্রধান এবং ওয়াং জংলিনকে উহানের প্রধান করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং।

এদিকে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে এটির নাম নির্ধারণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। করোনাভাইরাস ডিজিস বা কভিড-১৯ নাম দিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশ্ব সংস্থাটি।

ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেডরস অ্যাডহানম বলেছেন, ভাইরাসটি যেকোনো দিকে অগ্রসর হতে পারে। তিনি বলেন, আমাদের যেকোনো মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এক্ষেত্রে ধনী দেশগুলোর উচিত হবে, যেসব দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্বল তাদের পাশে দাঁড়ানো। যেসব দেশ এমন মহামারী মোকাবেলায় সক্ষম নয়, সেসব দেশে যদি ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে এটি বড় ধরনের বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন