শনিবার| ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০| ১৫ফাল্গুন১৪২৬

প্রথম পাতা

শহুরে ক্যান্সার রোগীর ৩৩% শিশু-কিশোর

ফয়জুল্লাহ ওয়াসিফ

খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রায় অসচেতনতা, শিল্পায়ন প্রযুক্তির বিরূপ প্রভাবসহ নানা কারণে দেশে ক্যান্সারের রোগী বেড়ে চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে ১৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যার একটা বড় অংশই শিশু কিশোর।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রকাশিত খানা আয়-ব্যয় জরিপ বলছে, দেশে ক্যান্সার আক্রান্ত শহুরে রোগীর এক-তৃতীয়াংশই শিশু-কিশোর, যাদের বয়স থেকে ১৯ বছর। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীরা। আর বয়স চার বছর উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই ক্যান্সার বাসা বাঁধে ১৩ শতাংশের শরীরে। এছাড়া ১০ থেকে ১৪ এবং পাঁচ থেকে নয় বছর বয়সী ক্যান্সারের রোগী পাওয়া যায় যথাক্রমে শতাংশ।

নগর জীবনে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, খাবারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কেমিক্যাল রি-অ্যাকশন বংশগতির প্রভাবকে ক্যান্সারের অন্যতম কারণ বলছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু হেমাটোলজি অনকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এসএম রেজানুর রহমান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় জিন (বংশগতি) বড় ধরনের কারণ হিসেবে কাজ করে। বংশে রক্তের সম্পর্কের কারো রোগ থাকলে সেটা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। এছাড়া এখনকার সময়ে পরিবেশ দূষণ, রেডিয়েশন, কেমিক্যাল রি-অ্যাকশন, খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং কিছু রোগের পরবর্তী ধাপ হিসেবেও ক্যান্সার দেখা দিতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে নারী পুরুষের বিবেচনায় আক্রান্ত রোগীর বয়সের ক্ষেত্রে বিপরীতমুখী সম্পর্ক লক্ষ করা গেছে। নারীদের বয়স একটু বেড়ে গেলে তারা রোগে আক্রান্ত হলেও পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হয় জন্মের পর পরই। গ্রাম শহরের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশু-কিশোরদের পার্থক্যও চোখে পড়ার মতো। গ্রামের তুলনায় শহুরে শিশু-কিশোরদের মধ্যে রোগের হার ২৭ শতাংশ বেশি। উঠতি বয়সীদের মধ্যে গ্রামে রোগীর সংখ্যা শতাংশেরও কম, যার মধ্যে শূন্য থেকে চার বছর বয়সী রোগী দশমিক ৩৩ শতাংশ। আর দশমিক ২৮ শতাংশ রোগীর বয়স ১০ থেকে ১৪ বছরের কোটায়।

শিশু-কিশোরদের মধ্যে ক্যান্সারের ধরন নিয়ে গবেষণা করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. একেএম আমিরুল মোর্শেদ খসরু। গবেষণায় উঠে এসেছে, শিশু-কিশোররা লিউকেমিয়া ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় বেশি। ৩১ শতাংশ ক্যান্সারের রোগী শরীরে লিউকেমিয়া বয়ে বেড়ায়। শিশু-কিশোরদের ২৬ শতাংশ ব্রেন স্পাইনাল ক্যান্সার এবং ১০ শতাংশ রোগী লিম্ফোমা জাতীয় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। রেনাল, নিউরোব্লাস্টোমা সফট টিস্যুর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় যথাক্রমে , শতাংশ রোগী। এছাড়া বোন, জার্ম সেলসহ অন্যান্য ক্যান্সারেও আক্রান্ত হয় শিশু-কিশোররা।

শিশু-কিশোরদের মধ্যে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বাড়ার পেছনে অন্যান্য কারণের সঙ্গে বংশগত কারণকেও দায়ী করেছেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাশেদ জাহাঙ্গীর কবির। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে দেখবেন, শিল্পায়নের সঙ্গে ক্যান্সারের একটা গভীর সম্পর্ক আছে। শিল্পায়িত অঞ্চলে প্রযুক্তির ব্যবহার বেশি হয়ে থাকে। এজন্য রেডিয়েশনের পরিমাণও বেশি। এছাড়া খাদ্যাভ্যাসসহ অন্যান্য কারণে শহুরে জীবনযাত্রায় ক্যান্সারের প্রবণতা বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে।

তবে সময়মতো রোগ নির্ণয় উন্নত চিকিৎসা করানো গেলে এই বয়সী রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সম্ভব বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) শিশুদের জন্য বিশেষায়িত ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে বলে জানান উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হওয়ায় রোগী শনাক্ত বেশি হচ্ছে। তবে সংখ্যাটা আগের তুলনায় বেড়েছে। শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে ব্রেন রক্তের ক্যান্সারের রোগী বেশি দেখা যায় বলে জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন