বৃহস্পতিবার| ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০| ৭ফাল্গুন১৪২৬

খেলা

ফুটবলে সরকারি বরাদ্দ

হিসাব চেয়েছে এনএসসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফুটবল উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দের ২০ কোটি টাকা থেকে প্রথম কিস্তিতে ১০ কোটি পেয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) দ্বিতীয় কিস্তির জন্য স্থানীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার আবেদন ফিরিয়ে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)

প্রথম কিস্তির টাকা কোন কোন খাতে খরচ হয়েছে তার বর্ণনাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভ্যাট-ট্যাক্সের কপি চেয়ে ওই আবেদন ফিরিয়ে দেয়া হয়। বিষয়টি গতকাল বণিক বার্তাকে নিশ্চিত করেছেন বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ।

এনএসসি থেকে সম্প্রতি বাফুফেকে পাঠানো এক পত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘বরাদ্দকৃত অর্থের খরচের খাত উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র করসংক্রান্ত কাগজপত্র প্রদানের অনুরোধ করা হলো।২০১৯-২০ অর্থবছরে ফুটবলের উন্নয়নে সরকারের তরফ থেকে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল।

বরাদ্দের প্রথম কিস্তি বাফুফে পেয়েছে গত নভেম্বরে। ওই অর্থ থেকে ৬৩ জেলা বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফএ) প্রত্যেকটিকে লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছে বাফুফে। জেলা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা (ডিএসএ) থেকে ফুটবল আলাদা হয়েছে ২০০৮ সালে। তার পর থেকে তৃণমূলে খেলাটি পরিচালনায় সরকারি বরাদ্দ পাচ্ছে না। কারণে তৃণমূল ফুটবলে নেমে এসেছে স্থবিরতা। বিভিন্ন সময় বাফুফে থেকে কিছু অর্থ বরাদ্দ দেয়া হলেও তা তৃণমূল কার্যক্রম সচল করার জন্য যথেষ্ট ছিল না। এজন্য ডিএফএর জন্য আলাদা বরাদ্দের জন্য বিভিন্ন সময় সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।

থোক বরাদ্দের একটা অংশ প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ, প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ তৃতীয় বিভাগ লিগের দলগুলোকে হতে লাখ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। ওই অর্থের একটা অংশ খরচ করা হয়েছে জাতীয় পুরুষ নারী দলের পেছনে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজিত হয়েছে সরকারি বরাদ্দের অর্থ থেকেই।

সরকারি বরাদ্দের অর্থের প্রথম কিস্তি পেয়ে তা বিভিন্ন খাতে খরচও করা হয়েছে। আমরা দ্বিতীয় কিস্তির জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু এনএসসি থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে’—বণিক বার্তাকে বলেন বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ। যোগ করেন, ‘প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে দ্রুতই বাকি অর্থ বরাদ্দের আবেদন করা হবে।

সরকারি অর্থ বরাদ্দের পর বাফুফে শীর্ষ কর্মকর্তারা তা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং ছেলে মেয়েদের জাতীয় দলের পেছনে ব্যয় করার কথা জানিয়েছিলেন। সম্পর্কে বাফুফে থেকে জানানো হয়, ‘বরাদ্দকৃত অর্থ কোন খাতে ব্যয় করতে হবে, সে বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে এমন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। অর্থগুলো যে খাতে ব্যয় করা হয়েছে, তার খাত উল্লেখ করে চিঠি দেয়া হয়েছিল। এখন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পুনরায় চিঠি দেয়া হবে।

ফুটবলের উন্নয়নে প্রতি অর্থবছরই নির্দিষ্ট একটা অংক বরাদ্দ করে থাকে এনএসসি। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রথম থোক বরাদ্দ দেয়া হয়। বাফুফে কর্মকর্তাদের আশাবাদ, খেলাটি উন্নয়নে সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তার আগে বর্তমান বরাদ্দ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার নিরসন করতে হবে। বাফুফে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘পারিপার্শ্বিক অবস্থায় সরকারি সহযোগিতা ছাড়া ফুটবলের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন। বর্তমান বরাদ্দের ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরগুলোতে ফুটবলের উন্নয়নে এমন বরাদ্দ থাকবে বলে আমরা আশা করছি

বর্তমানে খেলাটির কার্যক্রম পরিচালনার একটা অংশ নির্দিষ্ট খাতে অনুদান হিসেবে দিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (ফিফা) এশিয়ান ফুটবল সংস্থা (এএফসি) এর বাইরে স্থানীয় কার্যক্রম পরিচালনার একমাত্র আয়ের খাত স্পন্সর।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন