শুক্রবার| ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০| ১৫ফাল্গুন১৪২৬

প্রথম পাতা

উহানফেরত ৩১২ বাংলাদেশী বাড়ি ফিরবেন কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই সপ্তাহের পর্যবেক্ষণ শেষে কাল বাড়ি ফিরতে পারবেন চীনের উহান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা ৩১২ বাংলাদেশী। গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠান শেষে তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আশকোনার হজক্যাম্পে কোয়ারান্টাইন করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদের পর্যবেক্ষণের ১৪ দিন পূর্ণ হবে। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১৫ তারিখ আমরা তাদের ছেড়ে দেব। এখানে আর কোনো সমস্যা নেই। তাদের সবাই ভালো আছেন।

গত বছরের শেষ দিন চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হয়। সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা প্রাণহানি বাড়তে থাকায় এক পর্যায়ে উহানসহ হুবেই প্রদেশের একটি বড় অংশে চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চীন সরকার। ফলে উহানের কোটি ১০ লাখ বাসিন্দার সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া গবেষণায় থাকা কয়েকশ বাংলাদেশীও কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে পড়েন।

চীন থেকে বিভিন্ন দেশে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের উহান থেকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়। ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ বিমানে করে দেশে ফেরেন ৩১২ জন বাংলাদেশী। এর মধ্যে আটজনের শরীরে জ্বর থাকায় তাদের ঢাকার দুটি হাসপাতালে রেখে বাকিদের আশকোনা হজক্যাম্পে ১৪ দিনের পর্যবেক্ষণে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, তাদের মধ্যে ৩০১ জন এখন আশকোনা হজক্যাম্পে আছেন, বাকি ১১ জন আছেন ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। কারো মধ্যেই করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি।

করোনাভাইরাস নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রমাণ হওয়ার আগে ধরনের কথা ছড়ানো ঠিক নয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। রংপুরে একজন ভর্তি হয়েছে। আমাদের কখনই মনে করা উচিত না তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। যে পর্যন্ত প্রমাণ না হয়, তার আগ পর্যন্ত তাকে যেন এটা আমরা না বলি। ধরনের কথা বললে আতঙ্ক ছড়ায়।

প্রথম দফায় ৩১২ বাংলাদেশীকে ফেরানো হলেও হুবেইয়ের বিভিন্ন শহরে আটকা পড়া অন্য বাংলাদেশীরা এখনো অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। কেবল উহানেই এখনো আটকে আছেন অন্তত ১৭১ জন বাংলাদেশী। উহানের পাশের শহর ইচাংয়েও ১৭২ জন আটকে আছেন, তারাও দেশে ফিরতে আগ্রহী।

চীনে আটকে পড়া অন্য বাংলাদেশীদেরও ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার। তবে প্রথম দলটিকে চীন থেকে উড়িয়ে আনা বিমানের পাইলটদের এখন অন্য দেশ ঢুকতে না দেয়ায় বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। পরিস্থিতিতে অন্য কোনো পাইলটকে আর চীনে পাঠানোর ঝুঁকি নেয়া যাচ্ছে না।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন