শুক্রবার | আগস্ট ১৪, ২০২০ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭

পণ্যবাজার

নভেল করোনাভাইরাস আতঙ্কে ধাতুর বাজারে ধস

অ্যালুমিনিয়াম

 

এলএমই প্রাইস ইনডেক্স বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রতি টন অ্যালুমিনিয়ামের দাম হাজার ৭৬৫ ডলারের ওপর ছিল বর্তমানে ব্যবহারিক ধাতুটির দাম টনপ্রতি হাজার ৬৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে গত ১৩ জানুয়ারি এলএমইতে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন অ্যালুমিনিয়ামের দাম ছিল হাজার ৭৬৬ ডলার নভেল করোনাভাইরাসের একের পর এক আক্রান্তের ঘটনা সামনে আসার পর থেকে চাহিদা কমার আশঙ্কায় ব্যবহারিক ধাতুটির দরপতন দেখা দেয় জানুয়ারির শেষ কার্যদিবসে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন অ্যালুমিনিয়ামের দাম নেমে আসে হাজার ৭০৯ ডলারে

চলতি মাসের প্রথম কার্যদিবসে এলএমইতে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন অ্যালুমিনিয়ামের দাম আরো কমে দাঁড়ায় হাজার ৬৯৩ ডলার ৫০ সেন্টে এর পর থেকে ব্যবহারিক ধাতুটির দাম আর টনপ্রতি হাজার ৭০০ ডলারের ওপর ওঠেনি দরপতনের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ কার্যদিবসে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন অ্যালুমিনিয়ামের দাম আরো কমে দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি হাজার ৬৮৯ ডলারে

 

তামা

 

নভেল করোনাভাইরাস আতঙ্কে অ্যালুমিনিয়ামের মতো তামার দামেও বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে এলএমইতে এক মাস আগেও ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামা হাজার ১৭৫ ডলারের ওপর বিক্রি হয়েছিল এক মাসের ব্যবধানে ব্যবহারিক ধাতুটির দাম টনপ্রতি হাজার ৭০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে

এলএমই প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, গত ১৩ জানুয়ারি ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামার দাম ছিল হাজার ১৭৬ ডলার ৫০ সেন্ট দরপতনের ধারাবাহিকতায় ২৪ জানুয়ারি ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামার দাম হাজার ৯৬৫ ডলারে নেমে আসে এরপর আর ব্যবহারিক ধাতুটির দাম হাজার ডলারের ওপর ওঠেনি


জানুয়ারির শেষ কার্যদিবসে এলএমইতে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামা হাজার ৫৬৯ ডলারে নেমে এসেছিল গত এক মাসের মধ্যে এটাই তামার সর্বনিম্ন দাম এরপর ব্যবহারিক ধাতুটির দাম সামান্য বেড়েছে ফেব্রুয়ারির প্রথম কার্যদিবসে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামা হাজার ৫৯৩ ডলারে বিক্রি হয়েছিল আর সর্বশেষ কার্যদিবসে ব্যবহারিক ধাতুটির দাম দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি হাজার ৬৯৫ ডলারে

 

নিকেল

 

দরপতনের ধারা বজায় রয়েছে নিকেলের বাজারেও এলএমইতে ব্যবহারিক ধাতুটির দাম টনপ্রতি ১৩ হাজার ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে গত ১৬ জানুয়ারি ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন নিকেল ১৪ হাজার ২৮৫ ডলারে বিক্রি হয়েছিল এক মাসের মধ্যে এটাই ছিল ব্যবহারিক ধাতুটির সর্বোচ্চ দাম এর পর থেকে নিকেলের দরপতন রোধ করা সম্ভব হয়নি


নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার জের ধরে ২৭ জানুয়ারি ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন নিকেলের দাম ১২ হাজার ৬৩০ ডলারে নেমে এসেছিল ফেব্রুয়ারির প্রথম কার্যদিবসে প্রতি টন নিকেলের দাম ছিল ১২ হাজার ৭৪৫ ডলার সর্বশেষ কার্যদিবসে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে ব্যবহারিক ধাতুটির দাম সামান্য বেড়ে ১৩ হাজার ৭৫ ডলারে উঠেছে তবে দাম সামান্য বাড়লেও তা ১৬ জানুয়ারির সর্বোচ্চ অবস্থানের তুলনায় টনে হাজার ২১০ ডলার কম রয়েছে

 

দস্তা

 

এলএমইতে গত ২২ জানুয়ারি ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন দস্তা হাজার ৪৬৬ ডলারে বিক্রি হয়েছিল এক মাসের মধ্যে এটাই ব্যবহারিক ধাতুটির সর্বোচ্চ দাম এর পর থেকে নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক দস্তার দরপতন ঘটাতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে চলতি মাসের প্রথম কার্যদিবসে ব্যবহারিক ধাতুটি টনপ্রতি হাজার ১৯৮ ডলারে বিক্রি হয়েছিল আর সর্বশেষ কার্যদিবসে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন দস্তার দাম হাজার ১৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে নভেল করোনাভাইরাসের আতঙ্ক সহসাই না কমলে বেচাকেনা শ্লথ থেকে দীর্ঘমেয়াদে দস্তার দাম কমতির দিকে থাকতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা

 

সিসা

 

গত ১৬ জানুয়ারি এলএমইতে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন সিসা হাজার ২৬ ডলারে বিক্রি হয়েছিল এর পর থেকে ব্যবহারিক ধাতুটির দাম ক্রমে কমতে শুরু করে জানুয়ারির শেষ কার্যদিবসে প্রতি টন সিসার দাম হাজার ৮৭৪ ডলারে নেমে এসেছিল ফেব্রুয়ারির প্রথম কার্যদিবসে ব্যবহারিক ধাতুটি টনপ্রতি হাজার ৮৭৮ ডলারে বিক্রি হয়েছিল আর সর্বশেষ কার্যদিবসে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন সিসার দাম দাঁড়িয়েছে হাজার ৮১৯ ডলারে

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবহারিক ধাতুর ভোক্তা আমদানিকারক দেশগুলোর তালিকায় চীনের অবস্থান শীর্ষে নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দেশটিতে ধাতুর চাহিদা অনেকটাই কমেছে একই সঙ্গে অর্থনীতির চাকাও তুলনামূলক শ্লথ হয়ে এসেছে এসব কারণ ব্যবহারিক ধাতুর বাজারে দরপতনে প্রভাব ফেলেছে ভাইরাস আতঙ্ক দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকলে অ্যালুমিনিয়াম, তামা, নিকেলসহ বেশির ভাগ ব্যবহারিক ধাতুর দাম আরো কমে যেতে পারে

 

রয়টার্স, ব্লুমবার্গ মেটাল বুলেটিন অবলম্বনে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন