শনিবার| ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০| ১৫ফাল্গুন১৪২৬

শেষ পাতা

চার ইন্টারসেকশনে আইটিএস স্থাপন

সিগন্যাল বাতি বসাতেই লাগল চার বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার চারটি ইন্টারসেকশনে ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম (আইটিএস) স্থাপনের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। এ চার ইন্টারসেকশনে সিগন্যাল বাতি, সিসি ক্যামেরা ও গাড়ি শনাক্তকরণ যন্ত্র বসানো শেষ হয়েছে চলতি মাসে। সে হিসেবে এসব বাতি, ক্যামেরা ও শনাক্তকরণ যন্ত্র বসাতেই সময় লেগে গিয়েছে প্রায় চার বছর। আগামী মাসেই বাতিগুলো উদ্বোধন করতে চায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশে আইটিএস স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১৬ সালে। ঢাকার মহাখালী, গুলশান-, পল্টন ও ফুলবাড়িয়া ইন্টারসেকশনেঢাকা ইন্টিগ্রেটেড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট নামে একটি প্রকল্প নেয় ডিটিসিএ। জাইকার সহায়তায় প্রায় ৩৭ কোটি টাকার প্রকল্পটি পরীক্ষামূলক। এ চার ইন্টারসেকশনের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে আইটিএস সফল হলে তা পুরো ঢাকায় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে ডিটিসিএর।

ডিটিসিএ গৃহীত এ প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বলতে ছিল শুধু ইন্টারসেকশনের ফুটপাত, ড্রেন ও সড়ক বিভাজক নির্মাণ। আইটিএস সিস্টেম সংবলিত ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি, সিসি ক্যামেরা ও গাড়ি শনাক্তকরণ যন্ত্র বসানো হয়েছে এর পরে। ২০১৮ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল প্রকল্পটি। নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়িয়ে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত নেয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

প্রসঙ্গত, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিক প্রযুক্তিগুলোর একটি আইটিএস, যেখানে ইন্টারসেকশনের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রিত হয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। সিগন্যালে বসানো ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা, আল্ট্রাসনিক ভেহিকল ডিটেক্টর ও ইমেজ ডিটেক্টর বিভিন্ন প্রান্তের গাড়ি ও পথচারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিগন্যাল দেয়। ২০১০ সালের পর থেকে ইউরোপে শুরু হয় আইটিএস ব্যবহার। অল্পদিনেই উন্নত দেশগুলোয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় পদ্ধতিটি।

মাত্র চার ইন্টারসেকশনে আইটিএস স্থাপনের কাজে চার বছর লেগে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রকল্পটির পরিচালক ও ডিটিসিএর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (টিএমপিটিআই) ইলিয়াস শাহ বণিক বার্তাকে বলেন, আইটিএসের জন্য যেসব যন্ত্রপাতি দরকার ছিল, সেগুলো সরবরাহ করেছে জাইকা। মূলত জাইকা যন্ত্রপাতিগুলো সরবরাহে বিলম্ব করার কারণেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় বেশি লেগেছে। তবে সময় বেশি লাগলেও প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের পথে এবং এর মাধ্যমে এসব ইন্টারসেকশনে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে বলে আমি আশাবাদী।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আইটিএসের জন্য সংশ্লিষ্ট ইন্টারসেকশনগুলোর ফুটপাত কিছুটা বদলে ফেলা হয়েছে। ইন্টারসেকশন দিয়ে পথচারী পারাপারের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে এসব ফুটপাত। ইন্টারসেকশনের সবগুলো রাস্তার দিকে তাক করে লাগানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা, ভেহিকল ও ইমেজ ডিটেক্টর যন্ত্র। বসানো হয়েছে সিগন্যাল বাতি। এসব সিগন্যাল বাতি ঢাকার রাস্তায় প্রচলিত বাতিগুলোর চেয়ে কিছুটা আলাদা। আকারেও কিছুটা বড়। গাড়ি চলাচলের জন্য লাল-সবুজ-হলুদ সংকেতের পাশাপাশি পথচারী চলাচলেরও সংকেত দেয় এসব সিগন্যাল বাতি।

মহাখালী ইন্টারসেকশনে আইটিএসের পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হয়েছে। সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি ও পথচারীদের জন্য বিভিন্ন সংকেত দিচ্ছে আইটিএস। তবে এসব সংকেতকে গাড়িগুলো যেমন তোয়াক্কা করছে না, তেমনি আমলে নিচ্ছেন না পথচারীরাও। দায়িত্বরত ট্রাফিক সদস্যদেরও সেদিকে মনোযোগ নেই। তারা ব্যস্ত সনাতনী ব্যবস্থায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে।

ডিটিসিএতে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, জাপানের একটি বিশেষজ্ঞ দল বর্তমানে মহাখালীসহ বাকি তিনটি সিগন্যালে আইটিএসট্রায়ালঅ্যাডজাস্টমেন্টের কাজ করছে। গত ১৪ জানুয়ারি থেকে কাজটি শুরু করেছে তারা, যা আগামী শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা। আইটিএসের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর সেখানে আরো কিছুদিন কাজ করবেন তারা। এজন্য গাড়ি, পথচারীসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন বিষয়ে জরিপ ও সেগুলো জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করা হবে। এরপর জাপানি বিশেষজ্ঞ দলটি আইটিএসের ওপর মোট ছয়টি অ্যাকশন প্ল্যান, গাইডলাইন ও ম্যানুয়াল ডিটিসিএর কাছে হস্তান্তর করবে। পরে সিস্টেমটি ডিটিসিএ হস্তান্তর করবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছে। ডিএমপির কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার থেকে পরিচালিত হবে আইটিএস। সেখান থেকে প্রয়োজনে ম্যানুয়ালিও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন ডিটিসিএর কর্মকর্তারা।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, আইটিএস স্থাপন প্রকল্প ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে করা হচ্ছে। যে চারটি ইন্টারসেকশনে আইটিএস স্থাপন করা হচ্ছে, সেগুলোর সফলতার ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যতে পুরো ঢাকায় এটি ব্যবহার করা হবে কিনা। আমি মনে করি আইটিএসের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থার প্রবর্তন হবে, যার মাধ্যমে ট্রাফিক পুলিশের কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। আগামী মাসের যেকোনো দিন ঢাকার মহাখালী, গুলশান-, পল্টন ও ফুলবাড়িয়া ইন্টারসেকশনে স্থাপিত আইটিএসগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন