সোমবার | আগস্ট ১০, ২০২০ | ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭

শেষ পাতা

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি: সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

দু-একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়া ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিবেশ কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। গতকাল রাজধানীর টিকাটুলীতে সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজে ইভিএমের ভোটগ্রহণ প্রশিক্ষণ পরিদর্শন শেষে এমন দাবি করেন তিনি।

সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। কোথাও কোথাও সামান্য ঘটনা ঘটেছে। তবে সেটা ধর্তব্য নয়। ৩০ জানুয়ারি মক ভোটিংয়ের মাধ্যমে ইভিএমে ভোটদান পদ্ধতি ভোটারদের কাছে তুলে ধরা হবে। মক ভোটিং হবে, ভোটারদের আমরা আহ্বান জানাব, আপনারা দেখেন কীভাবে ইভিএমে ভোট দিতে হয়, কীভাবে চালু ভোট শেষ করতে হয়।

১০ জানুয়ারি দুই সিটিতে ভোটের প্রচার শুরুর পর থেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী দলের সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছেন বিএনপির মেয়র কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানালেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে তাদের অভিযোগ।

এদিকে গতকাল নির্বাচন ভবনে আওয়ামী লীগ বিএনপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে সিইসি বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিদ্যমান রয়েছে। ভোটের দিন আইন-শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা নেই।

নির্বাচন নিয়ে দুই দলের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপি বলেছে, তাদের প্রার্থীদের পুলিশ হয়রানি করছে। তবে সে রকম হয়রানির মতো কোনো আলামত আমরা দেখিনি। অন্যদিকে ইশরাকের ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী করেছে বিএনপিকে। আমরা বলেছি, নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে সেটা বলতে হবে। এত বড় শহরে দুটো ঘটনা ঘটেছে। এটা নিয়ে নির্বাচনকে বানচাল করা, ব্যাহত করা বা বিনষ্ট করার কোনো কারণ ঘটেনি।

অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন নিয়ে বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে কেএম নুরুল হুদা বলেন, সেগুলো আমরা উঠিয়ে দেব। ফুটপাতের ওপর কোনো ক্যাম্প থাকলে সেটা তুলে দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বলেছি।

ইসির সঙ্গে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের বৈঠক

আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমামের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিকাল ৪টায় নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এইচটি ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, গোপীবাগে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর প্রচারে হামলার যে অভিযোগ, তা পুরোপুরি সাজানো পূর্বপরিকল্পিত। আমরা এসেছিলাম রোববারের ঘটনা কমিশনকে অবহিত করতে। তথ্যপ্রমাণ নিয়ে এসেছি। পুরো ঘটনাটি একটি সাজানো, পূর্বপরিকল্পিত। বিএনপি ক্যাডাররা এমনভাবে তাড়া করেছে, তাতে প্রমাণ হয় তারা আগে থেকে তৈরি হচ্ছিল।

এইচটি ইমাম বলেন, ২০১৪-১৫ সালে তখনকার অগ্নিসন্ত্রাসের সময় বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অঞ্চলে অংশ নিয়েছিল, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মামলায় ছাড়া পেয়েছে, বাইরে আছে, তাদের অনেককেই ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। তারাও বিভিন্ন জায়গা থেকে অস্ত্র সজ্জিত হয়ে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করে দলগতভাবে তারা ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। সুযোগমতো পরিস্থিতি এমন সৃষ্টি করতে পারে, যাতে নির্বাচনটি বানচাল হয়ে যায়।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপি-জামায়াত শিবিরের সশস্ত্র সন্ত্রাসী, অগ্নিসন্ত্রাসীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হোক। তাদের গ্রেফতার করা হোক।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, আইনবিষয়ক সম্পাদক নজিবুল্লাহ, তথ্য গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবির কাওসার, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

ইসির সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধি দলের বৈঠক 

ঢাকা উত্তর দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আচরণ বিধিমালা পুরোপুরি ভঙ্গ করে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ, আচরণবিধি লঙ্ঘন হলেও ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে সক্রিয় নন। ১৮টি পর্যবেক্ষক সংস্থার ওয়েবসাইট নেই। এসব সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। গতকাল নির্বাচন ভবনে সিইসি কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যর প্রতিনিধি দল। বৈঠকে কমিশনের কাছে এসব অভিযোগ করে দলটি।

পরে সাংবাদিক ব্রিফিংকালে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এমন কোনো আচরণবিধি নেই, যা সরকারপক্ষ ভঙ্গ করছে না। নির্বাচনে সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের সংশ্লিষ্টতা একেবারেই পরিষ্কার। এর জন্য সাক্ষ্য-প্রমাণের দরকার নেই। ঢাকা শহরে ফুটপাতের ওপর কমপক্ষে ১০০ নির্বাচনী অফিস করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। ঢাকা শহরে নির্ধারিত আকারের চেয়ে বড় ছবিতে ভরে গেছে। সবই সরকারি দলের। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থীরা রাস্তা ফুটপাতের ওপর একটিও অফিস তৈরি করেননি। আমরা পুরোপুরি আচরণবিধি মেনে চলছি।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কমিশনকে এসব বিষয় জানিয়েছি। তারা ওয়াদা করেছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফুটপাতের ওপর তৈরি অফিস ভেঙে দেবেন, অতিরিক্ত বড় আকারের পোস্টার নামিয়ে নেবেন। আইনের বিরুদ্ধ যেসব কাজ চলছে তা বন্ধ করবেন।

বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাজাহান, বিজন কান্তি সরকার যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন