শনিবার| ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০| ১৫ফাল্গুন১৪২৬

শেষ পাতা

তাবিথের ওপর হামলায় ইসিতে দুই প্রতিবেদন জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলার অভিযোগে পৃথক দুটি প্রতিবেদন জমা পড়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে। ওই ঘটনাকে ফৌজদারি অপরাধ উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট। আর দারুস সালাম থানা পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনা ঠেলা ও ধাক্কাধাক্কি; যা অধর্তব্য প্রকৃতির অপরাধ।

এদিকে দুই প্রতিবেদন পাওয়ার পর সামনের দিনগুলোয় এ ধরনের ঘটনা এড়াতে পথসভা ও ঘরোয়া সভা করার ২৪ ঘণ্টা আগে তা পুলিশকে অবহিত করতে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের চিঠি দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দুটি অভিযোগের একটিরও সত্যতা পাননি রিটার্নিং কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম বলেন, প্রতিবেদনে বিস্তারিত তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। বিস্তারিত তদন্ত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করা যাবে না। এজন্য সময় প্রয়োজন। তাই প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেব। কমিশন আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

২১ জানুয়ারি রাজধানীর দারুস সালাম থানাধীন বড়বাজার এলাকায় তাবিথ আউয়াল ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মুজিব সরোয়ার মাসুম ও তার নেতাকর্মী সমর্থকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তাবিথ আউয়াল। এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দিতে নির্দেশ দেয় ইসি। অন্যদিকে মাসুমের প্রার্থিতা বাতিল ও শাস্তি নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেন তাবিথ আউয়াল।

ওই ঘটনায় পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচারণা চালানোর বিষয়ে থানাকে অবহিত না করে তাবিথ আউয়াল ২০০ থেকে ৩০০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক নিয়ে মিছিলের মতো নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে বড়বাজার নামক স্থানে যান। ওই এলাকায় ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মুজিব সরোয়ার মাসুমের নেতৃত্বে ২০০ জনের মতো নেতাকর্মী প্রচার চালিয়ে গলি থেকে বেরিয়ে মেইন রাস্তায় মেয়র প্রার্থীর নেতাকর্মী-সমর্থকদের মুখোমুখি হয়ে পড়েন। সরু রাস্তায় দুই দলের নেতাকর্মী-সমর্থকরা মুখোমুখি হওয়ায় তাদের মধ্যে ঠেলা, ধাক্কাধাক্কি হতে থাকে মর্মে জানা যায়। দুই দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মুখোমুখি হয়ে পড়লে টহলে থাকা পুলিশ তাত্ক্ষণিক উপস্থিত হয়ে উভয়পক্ষকে দুদিকে দুই রাস্তায় সরিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পুলিশের প্রতিবেদনে এ ধরনের ঘটনাকে অধর্তব্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ওই ঘটনার আরেক তদন্ত কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান শাহারীয়ার তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, তাবিথ আউয়ালের আনীত অভিযোগ ফৌজদারি অপরাধসংশ্লিষ্ট, যা মোবাইল কোর্টে নয়, দণ্ডবিধি-১৮৬০ মতে বিচার্য। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

এ দুই প্রতিবেদন পাওয়ার পর সামনের দিনগুলোয় এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সব প্রার্থীকে চিঠি দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ওই চিঠিতে পথসভা ও ঘরোয়া সভা করার ২৪ ঘণ্টা আগে পুলিশকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। চিঠিতে আচরণবিধিমালার এ-সংক্রান্ত ধারাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দুটি অভিযোগের একটিরও সত্যতা পাননি রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম। একটি অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথম যে অভিযোগ ছিল আতিকুল ইসলাম আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন। ওইখানে তিনি (তাবিথ) যে ছবিগুলো দিয়েছেন, সেগুলো ওইদিনের ছিল না। ওখানে চারটা ছবি ছিল। তার মধ্যে দুইটা ছবিতে তারিখ ও সময় বলা ছিল। ওই ছবি দুটোতে আতিকুল ইসলাম ছিলেন না। অন্য যে দুটো ছবি, সেখানে আতিকুল ইসলাম ছিলেন। আমার কথা হলো, একই ক্যামেরা দিয়ে তুললে দুটোতে থাকবেন আর দুটোতে থাকবেন না কেন? ওই ছবিগুলো ফেক (ভুয়া) ছিল। অন্য অভিযোগটির বিষয় স্মরণ নেই বলে উল্লেখ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে সেটিরও সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন